বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামের নাম চরকুল। প্রায় বিশ বছর আগেও গ্রামের পাশের নদীতে সারা বছর নৌকা চলত। এখন শীতকালে নদীর বুকে বালুর চর জেগে ওঠে। গ্রামের প্রবীণ মাঝি করিম বলেন, উজানে বাঁধ দেওয়ার পর থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানি আসে না। তাছাড়া নদীর ওপর একের পর এক সেতু ও বাঁধ হয়েছে এবং অনেকে সেচপাম্প বসিয়ে প্রচুর পানি তুলে নিচ্ছে। জেলেরা মাছ পায় না, চাষিরা সেচের পানির অভাবে বোরো ধান লাগাতে পারে না। অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেছে।

  1. ক)

    ফারাক্কা বাঁধ কোন দেশে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    উজানে বাঁধ দিলে বাংলাদেশের নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নদীটিতে পানি কমে যাওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত চরকুল গ্রামের সমস্যার প্রভাব বিশ্লেষণ করে এ সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফারাক্কা বাঁধ ভারতে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের অনেক নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতে। ভারত এসব নদীর কিছু অংশে বাঁধ দেওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যায়। এতে তিস্তা, গঙ্গা, কপোতাক্ষ প্রভৃতি নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মাসহ উত্তরাঞ্চলের নদীতে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানির চরম সংকট দেখা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চরকুল গ্রামের নদীতে পানি কমে যাওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:

    ১. উজানে বাঁধ: বাংলাদেশের নদীর উৎস ভারতে হওয়ায় সেখানে বাঁধ দিলে শুষ্ক মৌসুমে এ দেশের নদীতে পানির প্রবাহ কমে যায়।

    ২. যত্রতত্র সেতু ও বাঁধ নির্মাণ: নিয়ম না মেনে নদীর ওপর সেতু, কালভার্ট ও বাঁধ বানালে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং নদী শুকিয়ে যায়।

    ৩. পাম্পে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন: সেচের জন্য পাম্প দিয়ে প্রচুর পানি তোলায় মূল নদীতেই পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

    ৪. পলি জমা ও খননের অভাব: উজান থেকে আসা পলি নদীর তলদেশে জমে নদী ভরাট হয় এবং চর জেগে ওঠে। নিয়মিত খনন না করায় নাব্যতা কমে যায়।

    এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই উদ্দীপকের নদীতে শীতকালে চর জেগে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রভাব: নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরকুল গ্রামের কৃষি, মৎস্য, যাতায়াত ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচের পানি না পাওয়ায় চাষিরা বোরো ধান চাষ করতে পারছে না। জেলেরা মাছ না পেয়ে বেকার হয়েছে। মাছের অভাবে আমিষের ঘাটতি ও পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বাড়ে। নৌচলাচল বন্ধ হওয়ায় মাঝিদের মতো নদীনির্ভর পেশার মানুষ আয় হারিয়েছে। নদীর তীরের গাছপালাও পানির অভাবে নষ্ট হতে পারে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। জীবিকা হারিয়ে অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

    সমাধানের পদক্ষেপ:
    ১. নদী নিয়মিত খনন করে জমে থাকা পলি সরানো। তবে ঘন ঘন খনন নদীর তলদেশের প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে পরিকল্পিতভাবে তা করতে হবে।
    ২. নদীর ওপর অপ্রয়োজনীয় বাঁধ, পুল ও কালভার্ট নির্মাণ না করা।
    ৩. পাম্পে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করা।
    ৪. পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং বর্ষার পানি ধরে রাখার জন্য জলাধার নির্মাণ করা।
    ৫. কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে ন্যায্য পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করা।
    ৬. 'নদী বাঁচাও' কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো।

    আমার মতে, খনন ও জলাধার নির্মাণের মতো অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনা একসঙ্গে নিলে সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও