তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
ঢাকা শহরের ৩০টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল প্রত্যেকে নিজ নিজ আলাদা সফটওয়্যারে রোগীর তথ্য রাখে। কোনো রোগী এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে গেলে তাকে নাম, বয়স, পূর্ববর্তী চিকিৎসার তথ্য আবার নতুন করে দিতে হয়। গত বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শয্যা ছিল না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন সব হাসপাতালের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু কয়েকজন কর্মকর্তা তথ্যের নিরাপত্তা ও দক্ষ জনবল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
- ক)(1)
সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেটাবেজ ব্যবহারের একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করো।
- খ)(2)
সমন্বয়ের অভাবে নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হাসপাতালগুলোর তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে রাখা হলে রোগীদের ভোগান্তি কীভাবে কমবে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা উচিত কি না? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডেটাবেজ ব্যবহারের একটি চ্যালেঞ্জ হলো ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ডেটাবেজ ব্যবহার না করে বা সঠিকভাবে সমন্বয় না করে, তবে প্রত্যেকে আলাদাভাবে একই তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। যেমন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় নাগরিকের সব তথ্য ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়, তবুও পাসপোর্ট তৈরির সময় একই তথ্য আবার পূরণ করতে হয়। কারণ দুটি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা থাকে না। ফলে নাগরিকের সময় ও শ্রম নষ্ট হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোরও লাখ লাখ কর্মঘণ্টা অপচয় হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বর্তমানে প্রতিটি হাসপাতাল আলাদা সফটওয়্যারে তথ্য রাখে, তাই রোগীকে প্রতিবার একই তথ্য নতুন করে দিতে হয়। এটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ক্ষেত্রে একই তথ্য দুইবার দেওয়ার মতো সমন্বয়ের অভাবের উদাহরণ।
সব হাসপাতালের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে থাকলে:- রোগীর তথ্য একবার নথিভুক্ত হলে যেকোনো হাসপাতাল তা ডেটাবেজ থেকে পড়তে পারবে, ফলে রোগীকে আর পুনরায় ফর্ম পূরণ করতে হবে না।
- রোগীর আগের চিকিৎসার ইতিহাস সহজে পাওয়া যাওয়ায় চিকিৎসক দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
- তথ্য দেওয়া-নেওয়ার সময় বাঁচবে এবং হাসপাতাল কর্মীদের কর্মঘণ্টাও কম লাগবে।
এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা উচিত বলে আমি মনে করি, তবে উদ্বেগের বিষয়গুলোর সমাধান করেই তা করতে হবে।
বাস্তবায়নের পক্ষে যুক্তি:- ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত: সব হাসপাতালের রোগীর তথ্য কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে থাকলে বিগত বছরের ডেটা বিশ্লেষণ করে বোঝা যাবে কোন সময়ে, কোন অঞ্চলে কোন রোগের প্রকোপ বেশি। উদ্দীপকে বর্ষায় ডেঙ্গু বাড়ায় ওষুধ ও শয্যা ছিল না। কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ থাকলে আগে থেকেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা যেত।
- সমন্বয় ও সময় সাশ্রয়: রোগীকে বারবার একই তথ্য দিতে হবে না এবং হাসপাতালগুলোও একই ডেটা আলাদাভাবে সংরক্ষণের ঝামেলা থেকে মুক্ত হবে।
উদ্বেগের বিষয়: - ডেটার নিরাপত্তা: রোগীর তথ্য সংবেদনশীল। এটি অননুমোদিত প্রবেশ বা চুরি থেকে রক্ষা করতে এনক্রিপশন, ব্যবহারকারীর অনুমতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যাকআপ রাখতে হবে।
- দক্ষ জনবল: বিপুল পরিমাণ ডেটা ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশিক্ষিত ডেটাবেজ প্রশাসক ও কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
উপসংহার: চ্যালেঞ্জগুলো থাকলেও নিরাপত্তা ও জনবল নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ চালু করলে রোগীর সেবা সহজ হবে এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তাই প্রস্তাবটি বাস্তবায়নযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও