সহপাঠ • টীকা ও চরিত্র-পরিচিতি
সহপাঠ প্রশ্ন
তিন বন্ধু রফিক, সাদেক ও জামাল মিলে একটি বড় সরকারি ঠিকাদারি কাজ নেয়। জামাল দুই পক্ষের গোপন কথা একে অপরকে বলে দিয়ে দুদিকেই ভালো সম্পর্ক রাখত। কাজ শুরুর আগে জামাল জেদ ধরে লিখিয়ে নেয় যে লাভ হলে তাকে কুড়ি লক্ষ টাকা দিতে হবে। রফিক ও সাদেক চুক্তি দুই কপি করে, জামালকে দেয় এমন কপি যাতে কুড়ি লক্ষ টাকার কথা আছে, আর নিজেদের কাছে রাখে আসল কপি, যাতে সেই শর্ত নেই। কাজ শেষে টাকা না পেয়ে জামাল প্রতারণা বুঝতে পারে এবং শোকে অস্থির হয়ে পড়ে।
- ক)(1)
উমিচাঁদ কোন সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন?
- খ)(2)
উমিচাঁদ নবাবের দরবারে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জামাল ও রফিক-সাদেকের কাজের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উমিচাঁদ একদিকে ষড়যন্ত্রকারী, অন্যদিকে ষড়যন্ত্রের শিকার।”— উদ্দীপকের জামালের চরিত্রসহ উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উমিচাঁদ লাহোরের অধিবাসী শিখ সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উমিচাঁদ কলকাতায় এসে গোমস্তার কাজ করে পরে ইংরেজদের ব্যবসার দালালি শুরু করেন। দালালি করে তিনি কোটি টাকার মালিক হন। প্রয়োজনের সময় নবাবকে উচ্চ সুদে টাকা ধার দিতেন। এভাবে বিপুল অর্থের জোরে তিনি নবাবের দরবারে যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। তাছাড়া ইংরেজদের কথা নবাবকে এবং নবাবের কথা ইংরেজদের বলে দিয়ে তিনি দুই পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জামাল ও রফিক-সাদেকের কাজের সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে উমিচাঁদকে ক্লাইভের জাল দলিল দিয়ে ঠকানোর ঘটনার মিল রয়েছে। নবাববিরোধী ষড়যন্ত্রের গোপন চুক্তিতে উমিচাঁদ গো ধরে লিখিয়ে নিয়েছিলেন যে ইংরেজরা জয়ী হলে তাঁকে কুড়ি লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। কিন্তু ক্লাইভ সাদা ও লাল দুরকম দলিল তৈরি করেন। লাল দলিলে কুড়ি লক্ষ টাকার কথা থাকলেও সেটি ছিল জাল, যা উমিচাঁদকে দেওয়া হয়; আর ক্লাইভের কাছে থাকা সাদা দলিলে এই দাবির উল্লেখই ছিল না। উদ্দীপকেও জামালের দাবি অনুযায়ী কুড়ি লক্ষ টাকার কথা লেখা জাল কপি তাকে দেওয়া হয় এবং আসল কপিতে সেই শর্ত বাদ দেওয়া হয়। এভাবে উভয় ক্ষেত্রেই লোভী ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উমিচাঁদ একদিকে ষড়যন্ত্রকারী, অন্যদিকে ষড়যন্ত্রের শিকার”—উক্তিটি যথার্থ।
উমিচাঁদ ছিলেন ধুরন্ধর ব্যক্তি। ইংরেজদের কথা নবাবকে এবং নবাবের কথা ইংরেজদের বলে দিয়ে তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেন। তিনি মিরজাফর প্রমুখের নবাববিরোধী ষড়যন্ত্র ও শলাপরামর্শের সহযোগী ছিলেন। ইংরেজদের হাতে বাংলার ক্ষমতা তুলে দেওয়ার পেছনে তাঁর ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা অনেকাংশে দায়ী। উদ্দীপকের জামালও দুপক্ষের গোপন কথা একে অপরকে বলে দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করত; অর্থাৎ ষড়যন্ত্রকারী ভূমিকায় সে উমিচাঁদের সঙ্গে তুলনীয়।
কিন্তু ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে উমিচাঁদ নিজেই ক্লাইভের ফাঁদে পড়েন। তিনি কুড়ি লক্ষ টাকা পাওয়ার শর্ত জোর করে লিখিয়ে নিয়েছিলেন, কিন্তু ক্লাইভ জাল দলিল দিয়ে তাঁকে ঠকান। যুদ্ধ জয়ের পর প্রতারণা বুঝতে পেরে তিনি টাকার শোকে পাগল হয়ে পথে পথে ঘুরে অকালে মারা যান। উদ্দীপকের জামালও জাল কপির প্রতারণার শিকার হয়ে শোকে অস্থির হয়ে পড়ে।
অতএব, উমিচাঁদ নিজে বিশ্বাসঘাতকতা করে ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়েছেন এবং শেষে তার চেয়েও কূটকৌশলী ক্লাইভের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও