বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

সুইজারল্যান্ডের একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে বছরে একদিন সকল নাগরিক খোলা মাঠে সমবেত হয়ে হাত তুলে আইন পাস করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মিতালী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের জনগণ ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন করেছেন। তাঁরাই এখন ইউনিয়নের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিচ্ছেন। ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষের পক্ষে সবাই একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

  1. ক)

    প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আধুনিক রাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ কম কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মিতালী ইউনিয়নে যে ধরনের গণতন্ত্র প্রচলিত তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি অঞ্চলের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যে কোনটি বাংলাদেশের মতো বড় রাষ্ট্রের জন্য বেশি উপযোগী? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকগণ সরাসরি শাসনকার্য পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়, তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে সব নাগরিক সরাসরি আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্রগুলো ছিল আয়তনে ক্ষুদ্র ও জনসংখ্যা কম। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল এবং জনসংখ্যাও অনেক বেশি। এত মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবে অসম্ভব। তাই আধুনিক রাষ্ট্রে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ কম।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মিতালী ইউনিয়নে জনগণ ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন করেছে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। এখানে প্রচলিত গণতন্ত্রকে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র বলা হয়। এই ব্যবস্থায় নাগরিকগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নেয় না, বরং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষ ভোটদানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনে অংশ নিয়েছে। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এ ধরনের গণতন্ত্রই প্রচলিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সুইজারল্যান্ডের অঞ্চলে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং মিতালী ইউনিয়নে পরোক্ষ গণতন্ত্র দেখা যায়।

    প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন, কর ধার্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। এতে জনগণের অংশগ্রহণ সর্বাধিক হয়। কিন্তু এর জন্য ক্ষুদ্র আয়তন ও অল্প জনসংখ্যা প্রয়োজন। তাই সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি ছোট অঞ্চলেই এটি আংশিকভাবে টিকে আছে।

    পরোক্ষ গণতন্ত্রে জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং প্রতিনিধিরা শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এতে বিশাল জনসংখ্যার রাষ্ট্রেও জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ ও সময়োপযোগী হয়। বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি এবং আয়তনও বিশাল। ইউনিয়ন থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সর্বত্র নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসন চলছে।

    সুতরাং বাংলাদেশের মতো বড় রাষ্ট্রের জন্য মিতালী ইউনিয়নে প্রচলিত পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রই বেশি উপযোগী। তবে জনপ্রতিনিধিরা যাতে জনগণের স্বার্থে কাজ করেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও