বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

রহিমুদ্দিন সাহেবকে পুলিশ কোনো মামলা বা কারণ না দেখিয়ে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটকে রেখেছে। তাঁর পরিবার উচ্চ আদালতে আবেদন করলে আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। আদালত অবৈধ আটকাদেশ বাতিল করে তাঁকে মুক্তি দেয়। এলাকার মানুষ বলাবলি করছে, বিচারবিভাগ না থাকলে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা পেত না।

  1. ক)

    বিচারবিভাগ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বিচারবিভাগকে সংবিধানের অভিভাবক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আদালত কোন ধরনের হুকুমনামা বা রিটের মাধ্যমে রহিমুদ্দিন সাহেবকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ বাক্যের মন্তব্যটি বিচারবিভাগের কার্যাবলির আলোকে কতটুকু যথার্থ? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরকারের যে বিভাগ আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা করে, তাকে বিচারবিভাগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিচারবিভাগ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে। কোনো আইন বা সরকারি সিদ্ধান্ত সংবিধানের পরিপন্থী হলে সুপ্রিম কোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। এভাবে বিচারবিভাগ শাসনতন্ত্রকে সুনির্দিষ্ট গতিপথে পরিচালিত হতে সাহায্য করে। এ কারণে বিচারবিভাগকে সংবিধানের অভিভাবক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে আদালত হেবিয়াস কর্পাস রিটের মাধ্যমে রহিমুদ্দিন সাহেবকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে।

    ব্যক্তির মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিচারবিভাগ কয়েকটি বিশেষ হুকুমনামা বা রিট জারি করে। এগুলোর মধ্যে হেবিয়াস কর্পাস রিট অন্যতম। এর মাধ্যমে অধিকারবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির আবেদনক্রমে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারে।

    উদ্দীপকে কারণ না দেখিয়ে অবৈধভাবে আটক রাখায় পরিবারের আবেদনে আদালত তাঁকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে। এটি হেবিয়াস কর্পাস রিটেরই বৈশিষ্ট্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ বাক্যের মন্তব্যটি, অর্থাৎ বিচারবিভাগ না থাকলে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা পেত না, অনেকাংশেই যথার্থ।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচারবিভাগ নাগরিকদের স্বাধীনতার রক্ষককবচ হিসেবে কাজ করে। জনগণের মৌলিক অধিকার সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে এবং এ অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব বহুলাংশে আদালতের ওপরই ন্যস্ত। অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে বিচারবিভাগ ম্যান্ডেমাস, সার্টিওরারি, প্রহিবিশন, হেবিয়াস কর্পাস ও কোওয়ারেন্টো রিটের মাধ্যমে প্রতিকার দিতে পারে।

    উদ্দীপকে রহিমুদ্দিন সাহেব বিনা কারণে আটক ছিলেন। বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপ না করলে তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘিত হতো। আদালত তাঁকে হাজির করিয়ে আটকাদেশ বাতিল করে মুক্তি দেওয়ায় তাঁর মৌলিক অধিকার রক্ষা পেয়েছে।

    এছাড়া বিচারবিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে, আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করে, সংবিধান রক্ষা করে এবং বিভিন্ন বিরোধের নিষ্পত্তি করে। এসব কাজের মাধ্যমে আইনের অনুশাসন অক্ষুণ্ণ থাকে ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সজীব থাকে।

    তবে বিচারবিভাগ কার্যকরভাবে এ ভূমিকা পালন করতে পারে তখনই, যখন তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকে। সামগ্রিকভাবে মন্তব্যটি যথার্থ, কারণ বিচারবিভাগ ছাড়া নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও