বাংলা ১ম পত্র • জুতা-আবিষ্কার

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব হারুন সাহেব বর্ষার মৌসুমে এক গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে কাদায় তাঁর নতুন জুতা নষ্ট করে ফেলেন। রেগে গিয়ে তিনি সচিব ও সদস্যদের আদেশ দেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে এই ইউনিয়নের সব কাদা শেষ করতে হবে। না পারলে কারও রক্ষা নেই!” আদেশের অযৌক্তিকতা বুঝেও কেউ প্রতিবাদ করল না। বরং সবাই মাথা নেড়ে চেয়ারম্যানের প্রশংসা করে বলল, “স্যার ঠিকই বলেছেন।”

  1. ক)

    ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    “যদি না ধূলা লাগিবে তব পায়ে, / পায়ের ধূলা পাইব কী উপায়ে!”— গোবুরায় একথা বলেছিলেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের আদেশ ও কবিতার রাজা হবুর আদেশের মধ্যে কী মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ক্ষমতাবানের অযৌক্তিক আদেশ ও পারিষদদের তোষামোদ সমাজের জন্য ক্ষতিকর”— উদ্দীপক ও ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কল্পনা’ কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাজা হবু রাজ্য থেকে ধুলা দূর করার আদেশ দিয়েছিলেন, যা অসম্ভব এক নির্দেশ। আদেশ শুনে ভয় পেয়ে গোবুরায় বুঝতে পারেন, ধুলা না থাকলে রাজার পায়ে ধুলা লাগবে না, ফলে প্রজারা রাজার পায়ের ধুলা নিতে পারবে না। এ যুক্তি দিয়ে তিনি রাজার আদেশ পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলেন। রাজার ক্রোধ থেকে নিজেকে ও সবাইকে বাঁচানোর জন্যই তিনি এভাবে কথা বলেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের আদেশ ও ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার রাজা হবুর আদেশের মধ্যে ব্যক্তিগত অসুবিধা থেকে জন্ম নেওয়া অযৌক্তিক ও অসম্ভব নির্দেশের মিল রয়েছে। কবিতায় রাজা হবু নিজের পায়ে ধুলা লাগায় বিরক্ত হয়ে সারা রাজ্যের ধুলা দূর করার আদেশ দেন এবং না পারলে কারও রক্ষা নেই বলে হুমকি দেন। উদ্দীপকে চেয়ারম্যান হারুনও নিজের জুতায় কাদা লাগায় পুরো ইউনিয়নের কাদা এক সপ্তাহে শেষ করার আদেশ দেন এবং ব্যর্থ হলে কঠিন পরিণতির ভয় দেখান। দুজনেই নিজের সামান্য কষ্টের সমাধান হিসেবে সবার ওপর অসম্ভব দায়িত্ব চাপিয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্ষমতাবানের অযৌক্তিক আদেশ এবং পারিষদদের তোষামোদ সমাজে নানা ক্ষতি ডেকে আনে, এ কথা কবিতা ও উদ্দীপক উভয় থেকেই স্পষ্ট। ১. অযৌক্তিক আদেশের ফল: কবিতায় রাজার আদেশ মানতে গিয়ে মন্ত্রী ও পণ্ডিতেরা ঝাঁটা কেনে, ভিস্তি দিয়ে পানি ছিটায়, ফলে নগর ধুলা ও কাদায় অচল হয়ে যায়। সম্পদ ও সময়ের অপচয় হয়। উদ্দীপকেও কাদা শেষ করার অসম্ভব আদেশ মানতে গেলে একই অপচয় ও বিশৃঙ্খলা ঘটবে। ২. প্রতিবাদহীনতা ও তোষামোদ: কবিতায় গোবুরায় ভয়ে রাজার আদেশের অযৌক্তিকতা সরাসরি বোঝান না, বরং পায়ের ধুলার তোষামোদমূলক যুক্তি দেখান; পরে পণ্ডিত-পাত্ররাও আদেশ মেনে নেন। উদ্দীপকের সচিব ও সদস্যরাও আদেশের অযৌক্তিকতা বুঝেও মাথা নেড়ে সমর্থন করে। এতে ভুল সিদ্ধান্ত শোধরানোর সুযোগ থাকে না। ৩. ভয়ের সংস্কৃতি: দুই ক্ষেত্রেই ক্ষমতাবানের ক্রোধের ভয়ে মানুষ সত্য বলতে পারে না, ফলে প্রকৃত সমাধান হারিয়ে যায়। কবিতায় বৃদ্ধ চামার সাহস করে সহজ সমাধান দেওয়ায় রাজ্য রক্ষা পায়। সুতরাং বোঝা যায়, অযৌক্তিক আদেশ ও তোষামোদ উভয়ই সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং সত্য ও বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শই কল্যাণ আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও