ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • স্পেনে উমাইয়া শাসন (৭১১-১৪৯২ খ্রি.)
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
সুলতান ফারুক সদ্য একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্রের শাসক বিশাল বাহিনীসহ একজন সেনাপতিকে পাঠান। ফারুক সেনাপতিকে অবরোধ করে রাখেন এবং অতর্কিত আক্রমণে তাকে হত্যা করেন। হতাশ শাসক বলেন, আল্লাহ এমন শত্রুর মধ্যে সমুদ্র রেখে তাঁকে রক্ষা করেছেন। এরপর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহ দমন করে এবং পরে বিদেশি রাজার আক্রমণ ঠেকিয়ে সুলতান ফারুক রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। তিনি সেচ প্রকল্প চালু ও সড়ক নির্মাণ করেন এবং জ্ঞানী-গুণীদের সমাদর করতেন।
- ক)(1)
'কুরেশদের বাজপাখি' কাকে বলা হয়?
- খ)(2)
আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর কেন আলী-বিন-মুগিসকে স্পেনে পাঠান? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুলতান ফারুকের সাথে ইতিহাসের কোন শাসকের মিল রয়েছে? সেই শাসক কীভাবে আব্বাসীয় আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন, তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত শাসকের শাসক হিসেবে প্রশাসনিক কৃতিত্ব ও জনহিতকর কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আবদুর রহমান আদ-দাখিলকে 'কুরেশদের বাজপাখি' বলা হয়। উপাধিটি দিয়েছিলেন আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্পেনে আবদুর রহমান আদ-দাখিল উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করায় আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর ঈর্ষান্বিত হন। স্পেনে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য তিনি ৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোয়ানের শাসনকর্তা আলী-বিন-মুগিসকে বিশাল সৈন্যবাহিনীসহ আন্দালুসিয়া জয়ের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। স্পেনের অন্যান্য স্থানের বিদ্রোহীরাও এই বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সুলতান ফারুকের সাথে স্পেনের উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা আবদুর রহমান আদ-দাখিলের মিল রয়েছে। ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে আবদুর রহমান স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করলে ঈর্ষান্বিত আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর কায়রোয়ানের শাসনকর্তা আলী-বিন-মুগিসকে বিশাল বাহিনীসহ পাঠান। স্পেনের অন্যান্য স্থানের বিদ্রোহীরাও এ বাহিনীর সাথে যোগ দেয়। কিন্তু ৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে আবদুর রহমান কারমোনায় আব্বাসীয় বাহিনীকে অবরোধ করে রাখেন এবং একদিন অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে আলী-বিন-মুগিসকে হত্যা করেন। তাঁর মস্তক থলিতে ভরে খলিফা আল-মনসুরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আব্বাসীদের স্পেন জয়ের আশা ব্যর্থ হয়। আল-মনসুর তখন তাঁকে 'কুরেশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, আল্লাহ এমন শত্রুর মধ্যে সমুদ্র রেখে তাঁকে বিপদমুক্ত করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান ফারুকের মতো আবদুর রহমান আদ-দাখিল ৩৩ বছরের শাসনকালে বিদ্রোহ দমন করে শান্তি স্থাপনের পাশাপাশি সুষ্ঠু প্রশাসন ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে নিজের কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
প্রশাসনিক কৃতিত্ব: তিনি ৭৭৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের নামের পরিবর্তে নিজের নামে খুতবা পাঠের নির্দেশ দেন। সমস্ত দেশকে ছয়টি প্রদেশে ভাগ করে প্রতিটির শাসনভার একজন সামরিক গভর্নরের ওপর ন্যস্ত করেন। ওয়াজির বা প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ করে একটি সুসংহত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। প্রায় দুই লক্ষ সৈন্যের একটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করেন, যা বিদ্রোহ দমনে ও বৈদেশিক আক্রমণ মোকাবিলায় সহায়ক হয়েছিল।
বিদ্রোহ দমন: আব্বাসীয় আক্রমণ, বার্বার বিদ্রোহ, সেভিল ও টলেডোর বিদ্রোহ এবং শার্লিমেনের আক্রমণ দমন করে তিনি আমিরাতকে স্থায়ী ও সুদৃঢ় করেন।
জনহিতকর কাজ: কৃষির সুবিধার জন্য তিনি সেচ প্রকল্প ও খাল খনন করেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করেন। কর্ডোভায় ৮০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা ব্যয়ে জামে মসজিদ, প্রাসাদ, সেতু, উদ্যান, পয়ঃপ্রণালী ও স্নানাগার নির্মাণ করেন।
জ্ঞানচর্চা: তিনি ইয়াহইয়া-বিন-ইয়াহইয়া, ঈসা-বিন-দিনারসহ জ্ঞানী-গুণীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।
অতএব, প্রশাসন, সামরিক শক্তি ও জনকল্যাণে আবদুর রহমান আদ-দাখিলের কৃতিত্ব ছিল অসাধারণ, যা তাঁকে স্পেনের উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতার মর্যাদা দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও