গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জা

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

ফারজানা এক তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। তার ঘরের জানালা সব সময় ভারী পর্দা দিয়ে ঢাকা এবং বড় আলমারি জানালার সামনে রাখা, ফলে ঘরে আলো-বাতাস ঢোকে না। মেঝে ও আসবাব তিনি কয়েক সপ্তাহ পরপর মোছেন, বিছানার চাদরও মাসে একবার বদলান। বাসার পেছনে ঝোপঝাড় ও জমে থাকা নোংরা পানি আছে। ইদানীং তার ছোট ছেলেটি ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে ভুগছে এবং ঘরে মশার উপদ্রবও বেড়েছে।

  1. ক)

    আলো, উত্তাপ ও জীবাণুনাশক শক্তির অফুরন্ত উৎস কী?

    (1)
  2. খ)

    গৃহে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ফারজানার ছেলের ঘন ঘন সর্দি-কাশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ফারজানার গৃহে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তার কী কী করা উচিত? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলো, উত্তাপ ও জীবাণুনাশক শক্তির অফুরন্ত উৎস হলো সূর্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সূর্যের আলো অন্ধকার দূর করে এবং এর উত্তাপ রোগজীবাণু ধ্বংস করে স্বাস্থ্যরক্ষা করে। বায়ুর অক্সিজেন আমাদের দেহকোষকে বাঁচিয়ে রাখে এবং স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুর প্রভাব অনেক বেশি। তাই ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা না থাকলে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ব্যাহত হয়। এজন্য আসবাব এমনভাবে বিন্যাস করতে হয় যাতে দরজা-জানালা সহজে খোলা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফারজানার ছেলের সর্দি-কাশির কারণ ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রথমত, ঘরের মেঝে ও আসবাব নিয়মিত পরিষ্কার না করায় আসবাবের ওপর ধুলাবালি জমে থাকে এবং এই ধুলা থেকে সর্দি-কাশি হয়। দ্বিতীয়ত, বিছানার চাদর প্রতি সপ্তাহে না বদলানোয় এবং পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এগুলোতেও ধুলা জন্মায়। তৃতীয়ত, জানালা বন্ধ থাকায় সূর্যের আলো ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে না, ফলে রোগজীবাণু ধ্বংস হয় না। এসব কারণে শিশুটি বারবার আক্রান্ত হচ্ছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফারজানার গৃহে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য তাকে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে।
    ১. আলো-বাতাস চলাচল: জানালার সামনে থেকে আলমারি সরিয়ে আসবাব এমনভাবে বিন্যাস করতে হবে যাতে সূর্যের আলো ও বাতাস সহজে ঘরে ঢোকে। দিনে পর্দা সরিয়ে রাখা উচিত।
    ২. প্রতিদিন পরিষ্কার করা: ঘরের মেঝে, রান্নাঘর, গোসলখানা ও আসবাব প্রতিদিন ধোয়া-মোছা করতে হবে এবং সপ্তাহে একদিন জীবাণুনাশক ওষুধ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
    ৩. চাদর ও পর্দা পরিষ্কার: প্রতি সপ্তাহে বিছানার চাদর এবং ৩/৪ মাস পরপর পর্দা ও আসবাবের কভার ধুতে হবে।
    ৪. চারপাশের পরিবেশ: ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে পোকামাকড় ধ্বংসের ওষুধ স্প্রে করতে হবে। জমা পানি সরিয়ে ফেলতে হবে, যাতে মশার উপদ্রব না হয়। ময়লা ঘরের ভেতরের বিনে রেখে নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
    এসব করলে ধুলা, জীবাণু ও মশা কমবে এবং ফারজানার পরিবার রোগমুক্ত থাকবে। ঘরের সৌন্দর্য ও আসবাবের স্থায়িত্বও বাড়বে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও