জীববিজ্ঞান • জীবপ্রযুক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

দশম শ্রেণির ছাত্র রাকিব দেখল, তার দাদি দুধে অল্প দই মিশিয়ে রেখে পরদিন দই তৈরি করেন। আবার শীতকালে খেজুরের রস রেখে দিলে তা থেকে ভিনেগার তৈরি হয়। রাকিব পাঠ্যবইয়ে পড়ল, বর্তমানে একটি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধকে সরাসরি আক্রান্ত কোষে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, ফলে রোগ দ্রুত নিরাময় হয়।

  1. ক)

    কে প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন?

    (1)
  2. খ)

    জীবপ্রযুক্তিকে জীববিজ্ঞানের একটি ফলিত শাখা বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রাকিবের দাদির কাজ জীবপ্রযুক্তির ইতিহাসের কোন পর্যায়ের সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষ অংশে উল্লিখিত আধুনিক প্রযুক্তির সাথে দাদির পদ্ধতির তুলনা করে মানবকল্যাণে জীবপ্রযুক্তির উপযোগিতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) ১৯১৯ সালে প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীবপ্রযুক্তি Biology ও Technology এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এই প্রযুক্তিতে জীবকোষ, অণুজীব বা এর অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব উদ্ভাবন করা হয় অথবা প্রয়োজনীয় দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। জীববিজ্ঞানের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে প্রয়োগ করা হয় বলে একে ফলিত (Applied) শাখা বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাকিবের দাদির দই ও ভিনেগার তৈরির কাজটি গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত, যা জীবপ্রযুক্তির সবচেয়ে প্রাচীন প্রয়োগ। দুধে মেশানো দই-এর অণুজীব দুধের শর্করাকে গাঁজিয়ে দইয়ে পরিণত করে। খেজুরের রসে থাকা অণুজীবও গাঁজনের মাধ্যমে ভিনেগার তৈরি করে। মানুষ গাঁজন ও চোলাইকরণের মতো প্রযুক্তিজ্ঞান প্রায় ৮০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। তখন মানুষ অণুজীবের কাজ না জেনেই এগুলো ব্যবহার করত। সুতরাং দাদির কাজটি জীবপ্রযুক্তির সূচনা পর্যায় বা প্রাচীন প্রয়োগের উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ অংশে উল্লিখিত আধুনিক প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি, যা সাম্প্রতিক সময়ে জীববিজ্ঞানে দ্রুত ব্যবহৃত হচ্ছে। দাদির পদ্ধতি প্রাচীন গাঁজন প্রযুক্তি। এ দুইয়ের তুলনা ও উপযোগিতা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. নিয়ন্ত্রণ: দাদির পদ্ধতিতে অণুজীবের কাজ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ও অনিয়ন্ত্রিত। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিতে ওষুধ সরাসরি আক্রান্ত কোষে পৌঁছানো যায়, ফলে নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি।
    ২. সময় ও কার্যকারিতা: ন্যানোটেকনোলজিতে রোগ দ্রুত নিরাময় হয়। প্রাচীন পদ্ধতিতে ফল পেতে সময় বেশি লাগে।
    ৩. পরিধি: প্রাচীন পদ্ধতি শুধু খাদ্য প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৮৬৩ সালে মেন্ডেলের সূত্র ও ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন-ক্রিকের ডিএনএ মডেল আবিষ্কারের পর জীবপ্রযুক্তি টিস্যু কালচার ও জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উন্নত ফসল, ওষুধ ও পরিবেশ সংরক্ষণেও প্রয়োগ হচ্ছে।
    ৪. স্বাস্থ্য ও কৃষি: এ প্রযুক্তি রোগমুক্ত চারা, ফসলের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরিতে সহায়ক।
    সুতরাং আধুনিক জীবপ্রযুক্তি প্রাচীন পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর, নিয়ন্ত্রিত ও বহুমুখী হওয়ায় মানবকল্যাণে এর উপযোগিতা অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও