বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
সোহেলের একটি ছোটো শার্ট কারখানা আছে। কৃষক ১০০ টাকায় তুলা বিক্রি করে সুতাকলের কাছে। সুতাকল সুতা তৈরি করে ১৫০ টাকায় বিক্রি করে বস্ত্রকলের কাছে। বস্ত্রকল কাপড় তৈরি করে ২৫০ টাকায় সোহেলের কারখানার কাছে বিক্রি করে। সোহেল কাপড় থেকে একটি শার্ট তৈরি করে ভোক্তার কাছে ৪০০ টাকায় বিক্রি করে। তার সহপাঠী মিতা বলল, 'এই শার্ট উৎপাদনে জাতীয় উৎপাদনে ১০০ + ১৫০ + ২৫০ + ৪০০ = ৯০০ টাকা যোগ হবে।'
- ক)(1)
মোট জাতীয় আয় নির্ণয়ের কয়টি পদ্ধতি আছে?
- খ)(2)
চূড়ান্ত দ্রব্য বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শার্ট উৎপাদন থেকে জাতীয় উৎপাদনে কত টাকা যুক্ত হবে? এটি নির্ণয় করো এবং মিতার হিসাব ভুল কেন তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নিচের তথ্য বিবেচনা করো। সোহেলদের দেশে এক বছরে উৎপাদনের উপাদানসমূহের আয়: খাজনা ৮০০ কোটি, মজুরি ৩,০০০ কোটি, সুদ ৭০০ কোটি ও মুনাফা ১,৫০০ কোটি টাকা। একই বছরে সরকারি ব্যয় ১,৫০০ কোটি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় ১,২০০ কোটি, বেসরকারি ভোগ-ব্যয় ২,৪০০ কোটি এবং বিনিয়োগ-ব্যয় ৯০০ কোটি টাকা। আয় ও ব্যয় পদ্ধতিতে জাতীয় আয় নির্ণয় করে পদ্ধতি দুটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোট জাতীয় উৎপাদন বা আয় নির্ণয়ের তিনটি পদ্ধতি আছে: উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা, উৎপাদনের উপকরণের অর্জিত আয় এবং সমাজের মোট ব্যয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে দ্রব্য উৎপাদনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে সরাসরি ভোক্তা ক্রয় ও ভোগ করে এবং যা আর ক্রয়-বিক্রয় হয় না, তাকে চূড়ান্ত দ্রব্য বলে। চূড়ান্ত পর্যায়ে আসার আগে দ্রব্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্য হিসেবে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একাধিকবার ক্রয়-বিক্রয় হয়। যেমন, তুলা প্রাথমিক দ্রব্য, সুতা ও কাপড় মাধ্যমিক দ্রব্য এবং শার্ট চূড়ান্ত দ্রব্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উৎপাদন পদ্ধতিতে শুধু চূড়ান্ত দ্রব্য গণনা করা হয়। উদ্দীপকে চূড়ান্ত দ্রব্য শার্ট, যার বাজারমূল্য ৪০০ টাকা। সুতরাং জাতীয় উৎপাদনে ৪০০ টাকা যুক্ত হবে।
মিতার হিসাবে তুলা (১০০), সুতা (১৫০), কাপড় (২৫০) ও শার্ট (৪০০) সব পর্যায়ের মূল্য যোগ করা হয়েছে, যার ফল ৯০০ টাকা। এটি ভুল, কারণ শার্টের ৪০০ টাকা দামের মধ্যেই তুলা, সুতা ও কাপড়ের দাম ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে যোগ করলে একই দ্রব্যের মূল্য একাধিকবার গণনা হয়ে যায়। ফলে জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে ভুল হিসাব পাওয়া যায়। তাই সঠিক মান ৪০০ টাকা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আয় পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে উৎপাদনের চার উপাদান ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠনের আয় যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফার সমষ্টি জাতীয় আয়।
জাতীয় আয় = ৮০০ + ৩,০০০ + ৭০০ + ১,৫০০ = ৬,০০০ কোটি টাকা।ব্যয় পদ্ধতি: এ পদ্ধতিতে সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনগণের ভোগ-ব্যয় এবং বিনিয়োগ-ব্যয়ের সমষ্টি জাতীয় উৎপাদনের মূল্য নির্দেশ করে।
মোট ব্যয় = ১,৫০০ + ১,২০০ + ২,৪০০ + ৯০০ = ৬,০০০ কোটি টাকা।বিশ্লেষণ: দুই পদ্ধতিতেই ফল ৬,০০০ কোটি টাকা। কারণ কোনো দেশে যা উৎপাদিত হয়, তা উৎপাদনের উপাদানগুলোর আয়ে রূপান্তরিত হয়, আবার সেই আয়ই ভোগ ও বিনিয়োগে ব্যয়িত হয়। তাই উৎপাদন, আয় ও ব্যয়, এই তিন দিক থেকে একই জাতীয় আয় পাওয়া যায়। তবে বাস্তবে কলকারখানা ও যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য উৎপাদনের মূল্যের কিছু অংশ আলাদা রাখা হয়, যা উপাদানের আয়ে যুক্ত হয় না। তাই জিএনপি ও জাতীয় আয় সবসময় হুবহু এক নাও হতে পারে। এই উদাহরণে সরল অর্থনীতি ধরায় দুটি সমান হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও