জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্র মিতু তার বাড়ির কুমড়া গাছ পর্যবেক্ষণ করে দেখল, স্ত্রীফুলে পরাগরেণু পড়ার কয়েকদিন পর ফুলের গর্ভাশয় ফুলে বড় হয়ে একটি সবজিতে পরিণত হয়েছে এবং এর ভেতরে অনেকগুলো বীজ তৈরি হয়েছে। ধরা যাক, এই উদ্ভিদের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ১৪।

  1. ক)

    দ্বিনিষেক কী?

    (1)
  2. খ)

    কুমড়া ও লাউ সবজি হিসেবে খাওয়া হলেও এদের ফল বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উদ্ভিদে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পড়ার পর থেকে জাইগোট ও সস্যকোষ সৃষ্টি পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি ক্রোমোজোম সংখ্যাসহ বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের উদ্ভিদটির জীবনচক্রে স্পোরোফাইট ও গ্যামেটোফাইট দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তন বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রায় একই সময়ে দুটি পুংজননকোষের একটি ডিম্বাণুর সঙ্গে এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিলিত হওয়ার ঘটনাকে দ্বিনিষেক (Double fertilization) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিষেকের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে, তাকে ফল বলে। কুমড়া ও লাউ নিষেকের পর গর্ভাশয় থেকে গঠিত হয় এবং এদের ভেতরের ডিম্বক বীজে রূপান্তরিত হয়। সংজ্ঞা অনুযায়ী এরা ফল, যদিও সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১. পরাগায়নের ফলে পরিণত পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়। পরাগনালিকা বৃদ্ধি পেয়ে গর্ভদণ্ড ভেদ করে ডিম্বকের দিকে এগোয় এবং তরল পদার্থ শোষণ করে স্ফীত হয়। ২. এক সময় নালিকার স্ফীত অগ্রভাগ ফেটে দুটি পুংজননকোষ ভ্রূণথলিতে মুক্ত হয়। উদ্ভিদের দেহকোষে ক্রোমোজোম ১৪ হলে প্রতিটি পুংজননকোষ ও ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৭ (n)। ৩. একটি পুংজননকোষ (৭) ডিম্বাণুর (৭) সঙ্গে মিলে জাইগোট (২n = ১৪) গঠন করে। ৪. অপর পুংজননকোষ (৭) গৌণ নিউক্লিয়াসের (২n = ১৪) সঙ্গে মিলে ট্রিপ্লয়েড সস্যকোষ (৭ + ১৪ = ২১, 3n) গঠন করে। এভাবে দুটি নিষেক একই সময়ে ঘটে, যাকে দ্বিনিষেক বলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সপুষ্পক উদ্ভিদের জীবনচক্রে স্পোরোফাইট (2n) ও গ্যামেটোফাইট (n) নামে দুটি পর্যায় একটির পর একটি চক্রাকারে চলতে থাকে। বিশ্লেষণ: ১. স্পোরোফাইট দশা: উদ্দীপকের কুমড়া গাছ (2n = ১৪) স্পোরোফাইট। এর পরাগধানীতে পরাগ মাতৃকোষ ও ডিম্বকে স্ত্রী রেণু মাতৃকোষ মিয়োসিস বিভাজনে হ্যাপ্লয়েড (n = ৭) রেণু সৃষ্টি করে। ২. গ্যামেটোফাইট দশা: পরাগরেণু থেকে পুং গ্যামেটোফাইট (নালিকোষ ও পুংজননকোষ) এবং স্ত্রী রেণু থেকে ভ্রূণথলি (স্ত্রী গ্যামেটোফাইট) গঠিত হয়। এরা হ্যাপ্লয়েড এবং গ্যামেট উৎপন্ন করে। ৩. নিষেক: পুংজননকোষ ও ডিম্বাণু মিলে ডিপ্লয়েড জাইগোট (২n = ১৪) গঠন করে, যা স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। ৪. জাইগোট বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে, গৌণ নিউক্লিয়াস থেকে সস্য তৈরি হয়, ডিম্বক বীজে এবং গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। ৫. বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন স্পোরোফাইট (কুমড়া গাছ) সৃষ্টি করে। এভাবে মিয়োসিসের মাধ্যমে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয় এবং নিষেকের মাধ্যমে আবার পূর্ণ হয়। ফলে 2n ও n দশা চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও