সাহিত্য পাঠ • সুখ

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মি. হাশমত শহরের নামকরা শিল্পপতি। তাঁর আছে বিশাল বাড়ি, দামি গাড়ি আর ব্যাংকভর্তি টাকা। তবু রাতে তাঁর ঘুম আসে না; আরও সম্পদ বাড়ানোর চিন্তা তাঁকে সারাক্ষণ অস্থির করে রাখে। একদিন ছেলেবেলার বন্ধু শিক্ষক আবদুর রহিম তাঁকে বললেন, “সম্পদ জমিয়ে সুখ মেলে না, যে মানুষ অন্যের কষ্ট দূর করে, শান্তি তার ভেতরেই জন্ম নেয়।” কথাটি হাশমতকে ভাবিয়ে তোলে।

  1. ক)

    ‘সুখ’ কবিতাটি কায়কোবাদের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?

    (1)
  2. খ)

    “মরীচিকা করে ছল”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হাশমত ‘সুখ’ কবিতার কোন শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “আবদুর রহিমের বক্তব্যই ‘সুখ’ কবিতার মূল সুর।”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সুখ’ কবিতাটি কায়কোবাদের ‘অমিয়-ধারা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মরুভূমির উত্তপ্ত বালুরাশিকে অনেক সময় জলাশয় বলে ভ্রম হয়, একেই মরীচিকা বলে। পিপাসার্ত পথিক সেই জলের আশায় ছুটে গেলেও জল পায় না, মরীচিকা তাকে প্রতারিত করে। কবি এখানে ধন-সম্পদ ও বিত্ত-বৈভবকে মরীচিকার সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ বাহ্যিক ঐশ্বর্য সুখের মোহ সৃষ্টি করে, কিন্তু প্রকৃত সুখ দিতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হাশমত ‘সুখ’ কবিতার সেই শ্রেণির মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে, যারা ধন-সম্পদের মধ্যে সুখ খুঁজে বেড়ায়। কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, মরুভূমিতে পথিক যেমন জলের আশায় ছুটে বেড়ায় কিন্তু পায় না, তেমনি মানুষও ধন-রত্ন ও সুখৈশ্বর্যের পেছনে ছুটে প্রকৃত সুখ পায় না। উদ্দীপকে হাশমতের বিশাল বাড়ি, দামি গাড়ি ও ব্যাংকভর্তি টাকা থাকা সত্ত্বেও তাঁর ঘুম আসে না। আরও সম্পদ বাড়ানোর চিন্তা তাঁকে অস্থির করে রাখে। এটি কবিতার ‘ধন রত্ন সুখৈশ্বর্য কিছুতেই সুখ নাই’ চরণের বাস্তব রূপ। বাহ্য-সুখের অধিকারী হয়েও হাশমতের হৃদয় মরুভূমির মতো শূন্য ও অতৃপ্ত। তাই তিনি কবিতার সেই মোহগ্রস্ত মানুষেরই প্রতিনিধি, যে মরীচিকার পেছনে ছুটে হতাশ হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আবদুর রহিমের বক্তব্যই ‘সুখ’ কবিতার মূল সুর—মন্তব্যটি আমি যথার্থ মনে করি। উদ্দীপকে শিক্ষক আবদুর রহিম বলেছেন, সম্পদ জমিয়ে সুখ মেলে না, যে অন্যের কষ্ট দূর করে শান্তি তার ভেতরেই জন্ম নেয়। কায়কোবাদের ‘সুখ’ কবিতার কেন্দ্রীয় বক্তব্যও এটিই। কবি বলেছেন, ধন-রত্ন ও সুখৈশ্বর্যে সুখ নেই, কারণ এই বিশ্ব মরুভূমির মতো, আর সুখ মরীচিকার মতো ছলনাময়। প্রকৃত সুখ নিহিত পর-উপকারের মধ্যে। কবির মতে ‘আমিত্ব’ বা অহমিকাকে বিসর্জন দিয়ে, নিজের সুখ ভুলে পরের অশ্রু মোছালে এবং পরের ব্যথা ঘোচালে মানুষ আত্মার ভেতরে সুখ পায়। আবদুর রহিমের কথায় ‘সম্পদ জমিয়ে সুখ মেলে না’ অংশে কবিতার প্রথম ভাগের বক্তব্য এবং ‘অন্যের কষ্ট দূর করা’ অংশে দ্বিতীয় ভাগের বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে। তবে কবিতায় আরও কিছু দিক আছে, যেমন ‘যা রোপিবে তাই পাবে’ বলে কর্মফলের কথা এবং সারাজীবন নিরবধি পরহিতে নিয়োজিত থাকার আহ্বান। এই দিকগুলো উদ্দীপকে স্পষ্ট নয়। তবু কবিতার প্রাণকেন্দ্র যে ধনসম্পদের বদলে পরহিত ও স্বার্থত্যাগেই সুখ—সেই মূল সুরই আবদুর রহিমের বক্তব্যে ধরা পড়েছে। সুতরাং মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও