জীববিজ্ঞান • কোষ বিভাজন
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিমি জীববিজ্ঞান ল্যাবে পেঁয়াজের শল্কপত্রের ত্বকস্তরে স্যাফ্রানিন লাগিয়ে স্লাইড তৈরি করে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখল। পরে সে নিজের গালের ভেতরের আবরণী থেকে কিছু কোষ নিয়ে মিথাইলিন ব্লু দিয়ে রঞ্জিত করে আরেকটি স্লাইড তৈরি করল। দ্বিতীয় স্লাইড তৈরির সময় সে খুব জোরে আঙুল ঘষায় অধিকাংশ কোষ নষ্ট হয়ে গেল।
- ক)(1)
স্টেইন কী?
- খ)(2)
স্লাইডে কভার স্লিপ বসানোর সময় বুদ্বুদ ঢুকতে না দেওয়ার প্রয়োজন কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম স্লাইডে রিমি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কী কী বৈশিষ্ট্য দেখতে পাবে? লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্লাইডটি ব্যর্থ হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো এবং প্রথম স্লাইডের সাথে এর পর্যবেক্ষণ প্রস্তুতির পার্থক্য দেখাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে রঞ্জক পদার্থ দিয়ে কোষ বা টিস্যুকে রঙিন করা হয় যাতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এর অংশগুলো স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে স্টেইন বলে। যেমন: স্যাফ্রানিন, মিথাইলিন ব্লু।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কভার স্লিপের নিচে বাতাস বা বুদ্বুদ ঢুকলে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে বুদ্বুদের গোলাকার ছায়া দেখা যায়। এতে কোষের প্রকৃত আকৃতি ও অংশগুলো আড়াল হয়ে যায় বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। ফলে সঠিক পর্যবেক্ষণ করা যায় না। তাই কভার স্লিপ ধীরে ধীরে ও কাত করে বসাতে হয় যেন বুদ্বুদ না ঢোকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম স্লাইডটি পেঁয়াজের শল্কপত্রের ত্বকস্তরের উদ্ভিদকোষের। যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিম্নক্ষমতাসম্পন্ন অভিলক্ষ্য দিয়ে দেখলে রিমি আয়তাকার ও পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত কোষ দেখতে পাবে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অভিলক্ষ্য দিয়ে দেখলে প্রতিটি কোষে নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ করা যাবে:
১. পাতলা ও দানাদার প্রোটোপ্লাজম।
২. কোষগহ্বর।
৩. কোষের একপাশে অবস্থিত একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস।
স্যাফ্রানিনে রঞ্জিত হওয়ায় কোষের অংশগুলো আরও স্পষ্ট দেখা যাবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্লাইডটি গালের ভেতরের আবরণী কলার প্রাণিকোষের। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না, কেবল পাতলা কোষঝিল্লি দ্বারা কোষ আবৃত থাকে। তাই রিমি জোরে ঘষায় কোষগুলো সহজেই বিদীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য এই কাজে আলতোভাবে ঘষতে হয়।
উভয় স্লাইডের প্রস্তুতির পার্থক্য নিচে দেখানো হলো:
১. উপাদান সংগ্রহ: উদ্ভিদকোষের জন্য ব্লেড দিয়ে শল্কপত্রের উপরিভাগ থেকে ত্বকস্তর তুলে নিতে হয়। প্রাণিকোষের জন্য আঙুল দিয়ে গালের ভেতরের আবরণী আলতো ঘষে কোষ সংগ্রহ করতে হয়।
২. স্টেইন: উদ্ভিদকোষে স্যাফ্রানিন এবং প্রাণিকোষে মিথাইলিন ব্লু ব্যবহার করা হয়।
৩. সাবধানতা: উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর থাকায় কোষ সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর না থাকায় অতিরিক্ত চাপে কোষ ফেটে যায়। এছাড়া মিথাইলিন ব্লু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে গ্লাভস, চশমা ও মাস্ক ব্যবহার করতে হয়।
উভয় ক্ষেত্রেই গ্লিসারিন দিয়ে কভার স্লিপ বসাতে হয় এবং অতিরিক্ত দ্রবণ ব্লটিং পেপারে শুষে নিতে হয়। সুতরাং কোষের গঠনগত পার্থক্যের কারণেই দুই স্লাইড প্রস্তুতির পদ্ধতি ও সাবধানতা ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও