বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

‘খ’ দেশে ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতা অপরাধ করেও গ্রেফতার হন না, অথচ একজন সাধারণ দিনমজুরকে সন্দেহের বশে বিনা বিচারে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে অনেক নাগরিক প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়। অন্যদিকে ‘গ’ দেশে একজন সাবেক মন্ত্রীও আইন ভঙ্গ করায় সাধারণ নাগরিকের মতোই আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

  1. ক)

    আইনের অনুশাসন কোন দুটি ধারণা প্রকাশ করে?

    (1)
  2. খ)

    আইনের প্রাধান্য নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষাকবচ কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ‘খ’ দেশে আইনের শাসনের কোন কোন দিকের অভাব দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ‘খ’ ও ‘গ’ দেশের মধ্যে কোন দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? সুশাসনের জন্য আইনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখপূর্বক যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইনের অনুশাসন দুটি ধারণা প্রকাশ করে: আইনের প্রাধান্য এবং আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইনের প্রাধান্য বজায় থাকলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করতে সাহস পায় না। বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করা বা বিনা বিচারে আটকে রাখা যায় না। আবার কেউ আইন অমান্য করে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপও করতে পারে না। এভাবে নাগরিকের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে, তাই আইনের প্রাধান্যকে রক্ষাকবচ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আইনের শাসনের দুটি দিক হলো আইনের প্রাধান্য ও আইনের দৃষ্টিতে সাম্য। ‘খ’ দেশে এই দুটি দিকেরই অভাব দেখা যায়।
    ১. আইনের দৃষ্টিতে সাম্যের অভাব: আইনের চোখে ধনী-দরিদ্র, সবল-দুর্বল সবাই সমান এবং কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না। কিন্তু উদ্দীপকে প্রভাবশালী নেতা অপরাধ করেও গ্রেফতার হন না, অথচ সাধারণ মানুষ শাস্তি পায়।
    ২. আইনের প্রাধান্যের অভাব: বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা আইনের শাসনের পরিপন্থি। দিনমজুরকে মাসের পর মাস বিনা বিচারে আটকে রাখায় প্রমাণ হয় যে সেখানে আইনের প্রাধান্য নেই।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ‘গ’ দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
    সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সকল নাগরিক সমানভাবে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা পায় এবং কেউ কারও অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না। সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং নাগরিকরা হয়রানি থেকে মুক্ত থাকে।
    ‘গ’ দেশে সাবেক মন্ত্রীও সাধারণ নাগরিকের মতো আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এতে বোঝা যায়, সেখানে আইনের চোখে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এর ফলে নাগরিকদের মধ্যে ন্যায়বিচারের আস্থা তৈরি হয় এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমে।
    অন্যদিকে ‘খ’ দেশে প্রভাবশালীরা আইনের বাইরে থাকে এবং সাধারণ মানুষ বিনা বিচারে আটক থাকে। আইনের শাসনের অভাবে নাগরিকরা হয়রানির শিকার হয়, ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকলে আইনের শাসন কায়েম হয় না।
    অতএব আইনের শাসন নিশ্চিত থাকায় ‘গ’ দেশেই সুশাসন প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা অধিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও