বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
ভূগোল শিক্ষক এশিয়ার দুটি দেশ সম্পর্কে তথ্য দিলেন।
দেশ ‘ক’: জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকাল। এ সময় উপকূলীয় অঞ্চলে ২০০ সে.মি. পর্যন্ত বৃষ্টি হয়, কিন্তু উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলে মাত্র ৮০ সে.মি. বৃষ্টি হয়। শীতকালে উত্তরের উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত হয়।
দেশ ‘খ’: জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশি। রাজধানীতে জুলাই মাসে তাপমাত্রা ২৪.৪ ডিগ্রি সে. এবং জানুয়ারিতে প্রায় ১০ ডিগ্রি সে.। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৪৫ সে.মি.। দেশটির কোনো অংশের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বাড়ে না।
- ক)(1)
নেপালের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
- খ)(2)
মিয়ানমারে শীতকালে শীত তত প্রকট হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের দেশ ‘ক’-এর বর্ষাকালীন জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দেশ ‘ক’ ও দেশ ‘খ’-এর জলবায়ুর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নেপালের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৪৫ সে.মি.
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শীতকালে উত্তর থেকে শীতল উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় মিয়ানমারে বেশ শীত হওয়ার কথা। কিন্তু দেশটির উত্তরাংশে পার্বত্য অঞ্চল থাকায় সেই শীতল বায়ুপ্রবাহ সরাসরি প্রবেশ করতে পারে না। এ কারণে মিয়ানমারে শীত তত প্রকট আকার ধারণ করে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দেশ ‘ক’ হলো মিয়ানমার। এ দেশের বর্ষাকালীন জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—
১. স্থায়িত্ব: জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। মে মাসের মাঝামাঝি ইয়াঙ্গুনে বৃষ্টি শুরু হয় এবং মে মাসের শেষে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
২. বায়ুর প্রভাব: এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
৩. বৃষ্টিপাতের তারতম্য: আরাকান ও টেনাসেনিম উপকূলে ২০০ সে.মি. পর্যন্ত বৃষ্টি হয়, অথচ সর্ব উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চলে মাত্র ৮০ সে.মি. বৃষ্টি হয়।
এভাবে দেশ ‘ক’-এর বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টিপাত হলেও অঞ্চলভেদে এর পরিমাণে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেশ ‘ক’ হলো মিয়ানমার এবং দেশ ‘খ’ হলো নেপাল। দুটি দেশের জলবায়ুর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
সাদৃশ্য:
১. উভয় দেশেই জুন মাস থেকে বর্ষাকাল গণ্য হয় এবং বর্ষাকালে বেশি বৃষ্টি হয়।
২. উভয় দেশেই পার্বত্য অঞ্চলের প্রভাব রয়েছে। পাহাড়ের কারণে মিয়ানমারে শীত তত প্রকট হয় না এবং নেপালে তাপমাত্রা অতিরিক্ত বাড়ে না।
৩. উভয় দেশেই শীতকালে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। মিয়ানমারের উত্তরের উঁচু পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়, আর নেপালের রাজধানীতে জানুয়ারিতে তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সে.।
বৈসাদৃশ্য:
১. বর্ষাকালের স্থায়িত্ব: মিয়ানমারে বর্ষাকাল জুন থেকে অক্টোবর (পাঁচ মাস), আর নেপালে জুন থেকে সেপ্টেম্বর (চার মাস)।
২. বৃষ্টিপাতের তারতম্য: মিয়ানমারে অঞ্চলভেদে বৃষ্টিপাতের ব্যাপক পার্থক্য (২০০ সে.মি. ও ৮০ সে.মি.) দেখা যায়, নেপালের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১৪৫ সে.মি. যার প্রায় পুরোটাই জুন-সেপ্টেম্বরে হয়।
৩. শীতকালীন বৈশিষ্ট্য: মিয়ানমারের উত্তরের উঁচু পার্বত্য এলাকায় শীতকালে তুষারপাত হয়, আর নেপালে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় অত্যন্ত শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন থাকে এবং শীত-গ্রীষ্মের তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি হয় না।
সুতরাং উভয় দেশে মৌসুমি বৈশিষ্ট্য ও পার্বত্য প্রভাব থাকলেও বর্ষাকালের স্থায়িত্ব ও বৃষ্টিপাতের বণ্টনে পার্থক্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও