জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

বর্ষাকালে রহিম সাহেবের পুকুরে রুই মাছ ডিম ছাড়লে পুরুষ মাছ সেই ডিমের ওপর শুক্রাণু ছেড়ে দেয়। কিছুদিন পর সেখান থেকে অসংখ্য রেণু পোনা জন্মায়। অন্যদিকে তাঁর গোয়ালের গাভীটি একটি বাছুর জন্ম দিল। গাভীর ক্ষেত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন মায়ের দেহের ভেতরেই ঘটেছে।

  1. ক)

    জাইগোট কী?

    (1)
  2. খ)

    নিষেক প্রক্রিয়াকে প্রজাতি-নির্দিষ্ট বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মাছ ও গাভীর নিষেকের ধরন শনাক্ত করে প্রতিটির সংজ্ঞা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মাছ ও গাভীর নিষেকের ধরন দুটির মধ্যে কোনটি ডাঙার প্রাণীর জন্য অধিক উপযোগী? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াস পরস্পর একীভূত হয়ে যে ডিপ্লয়েড (2n) কোষটি উৎপন্ন হয়, তাকে জাইগোট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাকৃতিকভাবে নিষেক কেবল একই প্রজাতির পরিণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মধ্যেই সংঘটিত হয়। ভিন্ন প্রজাতির জননকোষের মধ্যে সাধারণত নিষেক ঘটে না। তাছাড়া একবার নিষিক্ত হলে সেই ডিম্বাণুকে আর নিষিক্ত করা যায় না এবং একটি শুক্রাণু দিয়ে একটিমাত্র ডিম্বাণুই নিষিক্ত হয়। এ কারণে নিষেক প্রক্রিয়াকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে রুই মাছের ক্ষেত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রাণিদেহের বাইরে পানিতে ঘটেছে। এ ধরনের নিষেককে বহিঃনিষেক (External Fertilization) বলে। যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয়, তাকে বহিঃনিষেক বলে। এটি সাধারণত পানিতে বাসকারী প্রাণী, যেমন বিভিন্ন মাছ ও ব্যাঙের মধ্যে দেখা যায়।
    গাভীর ক্ষেত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন মায়ের দেহের ভেতরে ঘটেছে। একে অন্তঃনিষেক (Internal Fertilization) বলে। স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেককে অন্তঃনিষেক বলে। ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীতে এ ধরনের নিষেক ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মাছে বহিঃনিষেক এবং গাভীতে অন্তঃনিষেক ঘটে। ডাঙার প্রাণীর জন্য অন্তঃনিষেক অধিক উপযোগী। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. পরিবেশগত সুরক্ষা: ডাঙায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু বাইরে ছাড়লে শুকিয়ে বা অন্য কারণে নষ্ট হয়ে যাবে। অন্তঃনিষেকে মিলন মায়ের দেহের ভেতরের নিরাপদ পরিবেশে ঘটে বলে জননকোষ সুরক্ষিত থাকে।
    ২. নিষেকের সম্ভাবনা: বহিঃনিষেকে জননকোষ পানিতে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে মিলনের সম্ভাবনা কম থাকে এবং অনেক ডিম নষ্ট হয়। অন্তঃনিষেকে শুক্রাণু সরাসরি স্ত্রী জননাঙ্গে প্রবেশ করায় নিষেকের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
    ৩. ভ্রূণের সুরক্ষা ও পুষ্টি: অন্তঃনিষেকে ভ্রূণ মাতৃদেহের ভেতরে বেড়ে ওঠে এবং মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি ও নিরাপত্তা পায়। তাই বাছুরের মতো সন্তানের বেঁচে থাকার হার বেশি। কিন্তু মাছে অসংখ্য ডিমের মধ্যে খুব অল্পই পোনায় পরিণত হয়।
    ৪. জননকোষের সংখ্যা: বহিঃনিষেকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাছকে প্রচুর ডিম ছাড়তে হয়। অন্তঃনিষেকে অল্প সংখ্যক জননকোষেই বংশবৃদ্ধি সম্ভব।
    অতএব, উপরিউক্ত যুক্তিগুলো থেকে বলা যায়, ডাঙার প্রাণীর জন্য অন্তঃনিষেকই অধিক উপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও