বাংলা ১ম পত্র • আমাদের সংস্কৃতি

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

ঐতিহাসিক গবেষক সুমন একটি পুরোনো জনপদের বাসিন্দাদের জীবনধারা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি দেখলেন, সেখানকার প্রাচীন অধিবাসীদের রীতিনীতির ওপর পরবর্তীকালে আগত এক জনগোষ্ঠী গভীর প্রভাব ফেলেছে। পরে বণিক ও শাসকেরা এসে নিজেদের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক ও ভাষার অনেক উপাদান যোগ করেছে। আজ সেখানকার মানুষ সবকিছু গ্রহণ করেও নিজেদের একটি আলাদা পরিচয় ধরে রেখেছে।

  1. ক)

    বাংলা ভাষা কোন ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?

    (1)
  2. খ)

    “এর কারণ, বাংলার আদি জনপ্রবাহ ছিল প্রাক-আর্য নরগোষ্ঠীসম্ভূত।”– কোন বিষয়ের কারণ বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনপদের ঘটনার সঙ্গে ‘আমাদের সংস্কৃতি’ প্রবন্ধের যে দিকটির মিল আছে, তা ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “নানা উৎসের দানে আমাদের সংস্কৃতি হয়েছে পুষ্ট।”– উদ্দীপকের শেষ বাক্যের আলোকে এ মন্তব্যের যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ধান, তেল, হলুদ, পান-সুপারির ব্যবহার এবং সেলাইছাড়া কাপড় পরার ক্ষেত্রে বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে উপমহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মিল রয়েছে। এই মিলের কারণ হিসেবে লেখক বলেছেন যে বাংলার আদি অধিবাসীরা ছিল প্রাক-আর্য নরগোষ্ঠীর। তাদের জীবনধারার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনধারার মিল ছিল, তাই এ সাদৃশ্য দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জনপদের ঘটনার সঙ্গে ‘আমাদের সংস্কৃতি’ প্রবন্ধের নানা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির মিশ্রণে বাঙালি সংস্কৃতির গড়ে ওঠার দিকটির মিল আছে।

    প্রবন্ধ অনুযায়ী, বাংলার আদি জনপ্রবাহ ছিল প্রাক-আর্য নরগোষ্ঠীসম্ভূত। তার ওপর আর্য জনগোষ্ঠীর প্রভাব এত তীব্র ছিল যে তা দেশজ উপকরণে পরিণত হয়। পরে মুসলমানরা এদেশ জয় করে তুর্কি-আরব-ইরান-মধ্য-এশিয়ার সাংস্কৃতিক উপাদান নিয়ে আসে। এরপর ইউরোপীয়রা এসে আরও একটি সংস্কৃতির যোগ ঘটায়।

    উদ্দীপকেও প্রাচীন অধিবাসীদের ওপর পরবর্তী জনগোষ্ঠীর প্রভাব এবং পরে বণিক ও শাসকদের নতুন উপাদান যুক্ত হওয়ার কথা আছে। এভাবে দুই ক্ষেত্রেই সংস্কৃতি ক্রমে বহু উৎসের দানে গড়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। প্রবন্ধে লেখক বারবার দেখিয়েছেন, বহিরাগত নানা সংস্কৃতি যুক্ত হয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে, কিন্তু তার নিজস্বতাকে নষ্ট করেনি।

    ১. গ্রহণের ঐতিহ্য: উদ্দীপকের মানুষ বহিরাগতদের খাদ্যাভ্যাস, পোশাক ও ভাষার উপাদান গ্রহণ করেছে। প্রবন্ধেও আর্য, তুর্কি-আরব-ইরানি ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির দান বাঙালি সংস্কৃতিতে মিশে গেছে।

    ২. স্বাতন্ত্র্য রক্ষা: উদ্দীপকের শেষ বাক্যে বলা হয়েছে, সবকিছু গ্রহণ করেও তারা নিজেদের আলাদা পরিচয় ধরে রেখেছে। প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, বাংলার প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান সংস্কৃতিকে স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে এবং সপ্তম-অষ্টম শতাব্দী থেকে সেই স্বাতন্ত্র্য পরিস্ফুট হতে থাকে।

    ৩. বিশ্বসংস্কৃতির সঙ্গে যোগ: ইংরেজ শাসনে যোগাযোগের পরিধি বাড়ায় বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বসংস্কৃতির যোগ ঘটে, যা সংস্কৃতিকে আরও প্রসারিত করেছে।

    সুতরাং, নানা উৎসের দানে সমৃদ্ধ হয়েও নিজস্বতা অক্ষুণ্ণ রাখার যে চিত্র উদ্দীপকে আছে, তা প্রবন্ধের বক্তব্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। মন্তব্যটি তাই যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও