ভূগোল এবং পরিবেশ • টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

নীলগঞ্জ ইউনিয়নে সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহ করেছে। কিন্তু কৃষক করিম বেশি ফলনের আশায় প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে জমির মাটি ও পাশের খালের পানি দূষিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইউনিয়নের একটি এনজিও, স্কুলশিক্ষক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন পরিষদ একসাথে কৃষকদের সচেতন করার কর্মসূচি নিয়েছে। এর ফলে করিমের মতো অনেক কৃষক এখন পরিমিত সার ব্যবহার করছেন।

  1. ক)

    অংশীজন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কাউকে পিছিয়ে রেখে অন্যরা এগিয়ে গেলে উন্নয়ন টেকসই হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    করিমের আচরণে অংশীজন হিসেবে কোন দায়িত্বের অভাব ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    এনজিও, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্মিলিত উদ্যোগ এসডিজি অর্জনে অংশীদারিত্বের গুরুত্ব কীভাবে তুলে ধরে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উন্নয়নের সুফল ভোগকারী গোষ্ঠীকে অংশীজন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর টেকসই উন্নয়ন সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। কোনো গোষ্ঠী বা দেশ পিছিয়ে থাকলে সমাজে বৈষম্য ও বিভেদ বাড়ে। এতে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছায় না এবং সামগ্রিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই কাউকে পিছিয়ে রেখে এগিয়ে গেলে সেই উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে টেকসই হয় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর করিম অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে কেবল নিজের ব্যক্তিগত লাভের কথা ভেবেছেন। এতে অংশীদারিত্বের দায়িত্ব পালনের অভাব ফুটে উঠেছে। ১. সচেতনতার অভাব: সরকার সার ও কীটনাশক সরবরাহ করলেও তা পরিমিতভাবে ও সচেতনতার সাথে ব্যবহার করা ব্যবহারকারীর দায়িত্ব। করিম তা করেননি। ২. সামষ্টিক উপকারিতা না ভাবা: ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি সবার উপকার কীভাবে হবে তা চিন্তা করাই অংশীদারিত্ব। করিমের কাজে মাটি ও খালের পানি দূষিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ৩. পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে ব্যর্থতা: অতিরিক্ত ব্যবহার কখনো পরিবেশবান্ধব নয়। ফলে উন্নয়ন টেকসই হচ্ছে না। সুতরাং করিমের আচরণে সচেতনভাবে নিজ দায়িত্ব পালনের অভাব স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সরকারি প্রতিষ্ঠান (ইউনিয়ন পরিষদ), বেসরকারি সংস্থা (এনজিও, ব্যবসায়ী) ও সমাজের সাধারণ মানুষ (শিক্ষক, কৃষক) একযোগে কাজ করেছে, যা এসডিজি অর্জনে অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে। ১. সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়: উন্নয়নকর্মী বা সরকারের একার পক্ষে উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়। সরকারের সরবরাহকৃত সার সঠিকভাবে ব্যবহারে এনজিও ও শিক্ষকদের সচেতনতা কর্মসূচি কাজে লেগেছে। ২. সকল স্তরের অংশগ্রহণ: তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের সর্বস্তরের মিলিত প্রচেষ্টাতেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এখানে কৃষকরাও অংশ নিয়ে পরিমিত ব্যবহার শুরু করেছেন। ৩. সুসমন্বিত কার্যক্রম: বিচ্ছিন্ন তৎপরতাকে সমন্বিত করলে ফল ভালো হয়। বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে কর্মসূচি নেওয়ায় পরিবেশদূষণ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ৪. সাধারণ মানুষের সচেতনতা: উঁচুতলার সাথে সাধারণ মানুষ যুক্ত হলে তারা এসডিজি অর্জনে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন হয়। সুতরাং সম্মিলিত উদ্যোগ এসডিজি অর্জনে অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও