সাহিত্য পাঠ • প্রত্যাবর্তনের লজ্জা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

নদীর ধারে বড় হওয়া সুমন এখন চট্টগ্রামে চাকরি করে। শহরের কোলাহল ও ইট-পাথরের মাঝে সে হাঁপিয়ে ওঠে। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময় সে দেখে, ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঠছে, বিলের ধারে সাদা বক উড়ছে, আর বাড়ির উঠানের কোণে সেই চেনা কলাবাগান। এসব দেখে তার বুক জুড়িয়ে যায়, মনে হয় সে যেন নিজের শিকড়ে ফিরে এসেছে।

  1. ক)

    কবি ঘরে ফেরার পথে সামনে কী দেখবেন?

    (1)
  2. খ)

    “নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ লাল সূর্য উঠে আসবে।”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সুমনের দেখা প্রকৃতির বর্ণনায় ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কোন কোন চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সংলাপ ও গল্প বলার ঢঙে রচিত হলেও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতা মূলত প্রকৃতি ও শেকড়ের কবিতা।”—উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি ঘরে ফেরার পথে সামনে পরিচিত নদী এবং ছড়ানো-ছিটানো ঘরবাড়ি ও গ্রাম দেখবেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ট্রেন হারিয়ে লজ্জিত কবি যখন ভোরের কুয়াশার মধ্য দিয়ে ঘরে ফিরছেন, তখন সূর্য ওঠাকে তিনি নির্লজ্জের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কবি নিজের পরাজয়ের গ্লানি লুকাতে চাইছেন, কিন্তু সূর্যের আলো সবকিছু প্রকাশ করে দেয়। সূর্য যেন তাঁর লজ্জার কথা না ভেবেই তাঁর মুখের ওপর রোদ ছড়িয়ে দেয়। এতে কবির মনের লজ্জাবোধ ও আত্মসচেতনতা ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সুমনের দেখা প্রকৃতির বর্ণনায় ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কুয়াশা ভেদ করে সূর্য ওঠা, জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাওয়া এবং কলাবাগানসহ গ্রামীণ পরিবেশের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

    কবিতায় কবি বাড়ি ফেরার পথে কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে ফিরবেন, শিশিরে তাঁর পাজামা ভিজে যাবে এবং লাল সূর্য উঠে আসবে। তিনি দেখবেন পরিচিত নদী, ছড়ানো-ছিটানো গ্রাম এবং জলার দিকে উড়ে যাওয়া বকের ঝাঁক। এরপর ভেসে উঠবে তাঁদের আটচালা ও কলার ছোট বাগান।

    উদ্দীপকে সুমনও ভোরের কুয়াশা, সূর্যোদয়, বিলের ধারের বক ও উঠানের কলাবাগান দেখে। এভাবে গ্রামবাংলার চেনা প্রকৃতির এই চিত্রগুলোতে উদ্দীপক ও কবিতার মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। কবিতাটি সংলাপ ও গল্প বলার ঢঙে রচিত হলেও এর গভীরে প্রকৃতি ও শেকড়ের প্রতি টানই প্রধান হয়ে উঠেছে।

    পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী কবিতাটি সংলাপ ও গল্প বলার ঢঙে লেখা। আব্বার ‘তুই আবার গাড়ি পাবি’ ও আম্মার ‘আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক’ ইত্যাদি সংলাপ এবং স্টেশনের ঘটনা গল্পের মতো সাজানো। কিন্তু কবিতার শেষ অংশে এই গল্পের ভেতর থেকে উঠে এসেছে কুয়াশা, শিশির, নদী, গ্রাম, বকের ঝাঁক, আটচালা ও কলাবাগান। শহরে যেতে না পারার ব্যর্থতা এই মাতৃতুল্য গ্রামীণ প্রকৃতির আশ্রয়ে মুছে যায়।

    উদ্দীপকে সুমন শহরের কোলাহলে হাঁপিয়ে ওঠে। গ্রামের কুয়াশা, সূর্যোদয়, বক ও কলাবাগান দেখে তার মনে হয় সে শিকড়ে ফিরেছে। এখানে কোনো গল্প বা সংলাপ নেই, আছে শুধু প্রকৃতির প্রতি অন্তরের টান। এই টানই কবিতার মূল সুর, যেখানে শহরের চেয়ে গ্রামীণ জীবনকেই কবি পরম স্বস্তির জায়গা মনে করেছেন।

    অতএব, গল্প বলার ঢং কবিতার আঙ্গিক মাত্র, আর প্রকৃতি ও শেকড়ের প্রতি আকর্ষণই এর মূল বিষয়। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও