কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
নওগাঁর সাব্বির বীজ উৎপাদনের জন্য পৌষ মাসে জমিতে মুলা ও লেটুস লাগিয়েছিলেন। শীতকালজুড়ে গাছগুলো কেবল পাতা ও ডালপালায় বেড়ে উঠলেও ফুল আসেনি। চৈত্র মাসে দিন বড় হতে শুরু করলে গাছগুলোতে দ্রুত ফুল আসে। কৃষি কর্মকর্তা তাঁকে জানান, ফুল ধারণের জন্য এ ফসলের দিনের আলোর বিশেষ চাহিদা আছে।
- ক)(1)
বড় দিনের উদ্ভিদ কাকে বলে?
- খ)(2)
বড় দিনের উদ্ভিদকে ছোট রাতের উদ্ভিদও বলা হয় কেন?
- গ)(3)
শীতকালে সাব্বিরের মুলা ও লেটুস গাছে ফুল না আসার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সাব্বির কীভাবে শীতকালেই তাঁর গাছগুলোতে ফুল আনতে পারতেন? আলোক সংবেদনশীলতার জ্ঞানের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব উদ্ভিদের পুষ্পায়নের জন্য বেশি দিবা দৈর্ঘ্যের প্রয়োজন হয়, সেসব উদ্ভিদকে বড় দিনের বা দীর্ঘ দিবসী উদ্ভিদ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বড় দিনের উদ্ভিদে পুষ্পায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমার চেয়ে দিনের আলোর সময় যত বেশি হয়, অর্থাৎ রাত যত ছোট হয়, তত দ্রুত ফুল ধরে। এসব উদ্ভিদের ফুল ধারণে অন্ধকার কালকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ছোট রাতেই এরা ফুল দেয়। এ কারণে এদের ছোট রাতের উদ্ভিদও বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুলা ও লেটুস বড় দিনের বা দীর্ঘ দিবসী উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদে ফুল ধরার জন্য ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি দিবা দৈর্ঘ্য প্রয়োজন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টাও হতে পারে। বাংলাদেশে শীতকালে দিবা দৈর্ঘ্য মাত্র ১০-১১ ঘণ্টা এবং রাত বড় থাকে। ফলে এ সময় গাছগুলো প্রয়োজনীয় সংকটময় দিবা দৈর্ঘ্য পায়নি। নির্দিষ্ট সময়সীমার চেয়ে দিবালোক কম হলে এসব উদ্ভিদে ফুল ধরে না, কেবল অঙ্গজ বৃদ্ধি ঘটে। চৈত্র মাসে দিন বড় হয়ে প্রয়োজনীয় আলোকের সময় পূর্ণ হওয়ায় গাছগুলোতে ফুল এসেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোক সংবেদনশীলতা বা ফটোপিরিয়ডিজমের নীতি অনুযায়ী দিবা দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ করে উদ্ভিদের পুষ্প পরিস্ফুটনের সময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সাব্বির নিচের উপায়ে শীতকালেই ফুল আনতে পারতেন-
১. কৃত্রিম আলো প্রদান: মুলা ও লেটুস বড় দিনের উদ্ভিদ। শীতে দিনের আলো ১০-১১ ঘণ্টা, যা সংকটময় দৈর্ঘ্যের চেয়ে কম। সন্ধ্যার পর বা রাতে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে দিবা দৈর্ঘ্য ১২-১৮ ঘণ্টায় উন্নীত করলে গাছে ফুল ধরত।
২. রাত ছোট করা: বড় দিনের উদ্ভিদ ছোট রাতে ফুল দেয় বলে অতিরিক্ত আলো দিয়ে রাতের দৈর্ঘ্য কমিয়ে দিলে পুষ্পায়ন দ্রুত হতো।
৩. আলোককালীন আবেশ: একবার নির্দিষ্ট মাত্রায় আলোক পাওয়ার পর গাছে ফুল ফোটানোর উদ্দীপনা বজায় থাকে। তাই কিছুদিন আলো দিলেই পুরো পুষ্পায়ন সম্ভব হতো।
৪. ফলাফল: এভাবে ঋতুর অপেক্ষা না করে ইচ্ছামতো সময়ে বীজ উৎপাদন করা যেত, সময় ও জমির ব্যবহার বাঁচত এবং বীজের সরবরাহ নিশ্চিত হতো।
সুতরাং কৃত্রিম আলো দিয়ে দিবা দৈর্ঘ্য বাড়ানোই সাব্বিরের জন্য সঠিক সমাধান হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও