‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জেনারেল রফিক ১৯৮০-র দশকের শুরুতে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন। নিজের ক্ষমতা বৈধ করতে তিনি সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। বিরোধী দলগুলো পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে এবং নির্বাচনকে 'নীলনকশার নির্বাচন' বলে আখ্যা দেয়। চাপে পড়ে তিনি সামরিক আদালত বিলুপ্ত, মন্ত্রিসভায় দলীয় সদস্য না রাখা এবং নির্বাচনের পর সামরিক আইন প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন। এরপর একটি বড় জোটসহ অনেক দল নির্বাচনে অংশ নেয়, কিন্তু আরেকটি প্রধান জোট নির্বাচন বর্জন করে। ফলাফলে সরকারপন্থি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

  1. ক)

    বাংলাদেশে প্রথম নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কোন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিরোধী দলগুলো 'নীলনকশার নির্বাচন' বলেছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিরোধী দলগুলোর পাঁচ দফা দাবি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের নির্বাচনটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে প্রথম নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জেনারেল এরশাদ ১৯৮২ সালে সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তাঁর ক্ষমতা বৈধ করা ও সামরিক শাসনকে পাকাপোক্ত করার উদ্দেশ্যেই এ নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে বিরোধী দলগুলো মনে করে। সামরিক শাসনের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তারা বিশ্বাস করত। তাই তারা এ নির্বাচনকে 'নীলনকশার নির্বাচন' এবং সামরিক শাসনকে স্থায়ী করার কৌশল হিসেবে আখ্যা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনা ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সে সময় বিরোধী দলগুলো সার্বভৌম সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৫ দফা দাবিতে আন্দোলন করেছিল। দাবিগুলো হলো—
    ১. সামরিক আইন প্রত্যাহার ও মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
    ২. প্রথমে সার্বভৌম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।
    ৩. সংবিধান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সার্বভৌম সংসদের হাতে অর্পণ করা।
    ৪. অবিলম্বে সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়া।
    ৫. ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারির ছাত্র হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
    এ দাবিগুলো ছিল সামরিক শাসন অবসান ও গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নির্বাচন হলো ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। উক্তিটি যথার্থ।
    গুরুত্ব: এ নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক শাসন থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের চেষ্টা করা হয়। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসনের পূর্বশর্ত। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট, জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগসহ ২৮টি দল অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ ৭৬টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে এবং সংসদে বিরোধী দল প্রতিষ্ঠিত হয়।
    গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে। সামরিক শাসনের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিরোধী দলগুলো একে নীলনকশার নির্বাচন বলে। ব্যাপক সন্ত্রাস ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামার কারণে কয়েকটি এলাকায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে পরে ১৮ ও ২৯ মে অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনা এ নির্বাচনকে প্রহসনমূলক ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন বলেন। জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
    অতএব, এ নির্বাচন গণতন্ত্রে উত্তরণের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্জন, কারচুপি ও সামরিক শাসনের প্রভাবের কারণে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও