ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি কলেজ বাংলাদেশের একটি শান্ত এলাকায় অবস্থিত। কলেজের পাশের সড়কে দিনের বেলায় ডিবি মিটারে শব্দের মাত্রা পাওয়া গেছে ৭০ dB। সড়কে প্রচুর বাস-ট্রাকের হর্ন, পাশের মাঠে মাইকে সভা এবং বিয়েবাড়িতে আতশবাজি পোড়ানো চলে। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অধ্যক্ষ সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি গঠন করেছেন।

  1. ক)

    HPD-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    ৮৫ dB শব্দমাত্রা মানুষের জন্য ক্ষতিকর কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্ধারিত মান অনুযায়ী উদ্দীপকের এলাকার শব্দমাত্রা কতটুকু বেশি তা নির্ণয় করো এবং শব্দদূষণের মানবসৃষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    অধ্যক্ষ মহোদয়ের গঠিত কমিটি উদ্দীপকের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনসম্মত ও প্রযুক্তিগত কোন কোন সুপারিশ করতে পারে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর HPD-এর পূর্ণরূপ হলো Hearing Protection Device (শ্রবণ প্রতিরক্ষা কৌশল)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শব্দের মাত্রা ৮৫ dB হলে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ এই মাত্রার শব্দের মধ্যে থাকলে কানের ক্ষতি হয় এবং মানসিক চাপ ও বিরক্তি বাড়ে। মাত্রা আরও বাড়লে, যেমন ১২০ dB হলে কানে ব্যথা শুরু হয়। তাই ৮৫ dB শব্দমাত্রা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে শান্ত এলাকায় দিনের বেলায় যথার্থ শব্দমাত্রা ৪৫ dB।
    উদ্দীপকের এলাকায় পাওয়া গেছে ৭০ dB।
    অতিরিক্ত শব্দমাত্রা = ৭০ − ৪৫ = ২৫ dB।
    অর্থাৎ নির্ধারিত মানের চেয়ে ২৫ dB বেশি, যা শব্দদূষণ নির্দেশ করে।
    উদ্দীপকে শব্দদূষণের মানবসৃষ্ট কারণগুলো হলো—
    ১. পরিবহন: বাস-ট্রাকের চলাচল ও বৈদ্যুতিক হর্নের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার।
    ২. সামাজিক কারণ: সভা-সমাবেশে মাইকের উচ্চ শব্দ এবং বিয়েবাড়িতে আতশবাজি পোড়ানো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কলেজটি শান্ত এলাকায় অবস্থিত হলেও সেখানে শব্দমাত্রা নির্ধারিত মানের চেয়ে ২৫ dB বেশি। এই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কমিটি নিচের সুপারিশগুলো করতে পারে—
    আইনসম্মত উপায়:
    ১. স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও আদালত সংলগ্ন এলাকায় গাড়ির হর্ন ও লাউডস্পিকার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং লঙ্ঘনকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া।
    ২. সামাজিক অনুষ্ঠানে আতশবাজি নিষিদ্ধ করা এবং লাউডস্পিকার ব্যবহারের সময় ও তীব্রতার মাত্রা নির্দিষ্ট করা।
    ৩. যানবাহনের এগজস্ট পাইপে সাইলেন্সার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং হাইওয়ের রুট জনবহুল এলাকা থেকে দূরে চালু করা।
    প্রযুক্তিগত উপায়:
    ১. কলেজ ভবনের জানালা ও দেয়ালে শব্দ অপরিবাহী বা শব্দ প্রতিরোধক আচ্ছাদন ব্যবহার করা।
    ২. শব্দ সঞ্চারণ রোধে অ্যাকুয়াসটিক জনিং ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনে ইয়ার প্লাগ বা ইয়ার মাফের মতো HPD ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা।
    আইনসম্মত ব্যবস্থা উৎসে শব্দ কমায়, আর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা শব্দের প্রভাব কমায়। দুটি একত্রে প্রয়োগ করলে কলেজে শান্ত পাঠদান পরিবেশ ফিরে আসবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও