ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে: 'গতকাল মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে চলা একটি বাস ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে পড়ে। চালকের প্রশিক্ষণ ছিল না। বাসের আসন ভাঙা, পাখা অকেজো। এলাকায় ভালো কোনো রেলপথ নেই, তাই সবাই বাধ্য হয়ে বাসে যাতায়াত করে।'
- ক)(1)
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কত কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে?
- খ)(2)
বাংলাদেশে পরিবহন দুর্ঘটনার হার বেশি কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার কোন কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কী প্রভাব পড়বে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র ০.০২ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরিবহন দুর্ঘটনার হার অত্যন্ত বেশি। গাড়িচালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, চালকের অদক্ষতা, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ট্রাফিক আইন না মানা এর প্রধান কারণ। এছাড়া পরিবহনের অবকাঠামোগত সমস্যাও দুর্ঘটনা বাড়ায়। এ কারণে দুর্ঘটনা বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। ১. পরিবহন দুর্ঘটনা: বেপরোয়া গতিতে চলা বাসের সংঘর্ষ পরিবহন দুর্ঘটনার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। ২. অদক্ষ ব্যবস্থাপনা: চালকের প্রশিক্ষণ না থাকা প্রমাণ করে যে পরিবহন কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ৩. সুযোগ-সুবিধার অভাব: ভাঙা আসন ও অকেজো পাখা যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা নির্দেশ করে। ৪. রেলপথের অপর্যাপ্ততা: ভালো রেলপথ না থাকায় সবাই বাসে যাতায়াত করে, যা রেলপথের স্বল্পতাকে ইঙ্গিত করে। এভাবে উদ্দীপকে পরিবহন ব্যবস্থার একাধিক নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। উদ্দীপকের মতো অনিরাপদ, অদক্ষ ও অপর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে নিচের প্রভাবগুলো পড়বে। ১. দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদ নষ্ট হবে, ফলে দক্ষ জনশক্তি ও অর্থের ক্ষতি হবে। ২. পণ্য পরিবহন ধীর ও ব্যয়বহুল হবে। রেলপথ কম থাকায় ভারী মালামাল ও অধিক যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে না, ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হবে। ৩. দ্রুত তথ্য ও পণ্য আদান-প্রদান বিঘ্নিত হওয়ায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে। ৪. কৃষক ও শিল্পোদ্যোক্তারা বাজারে পণ্য সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কৃষি ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন থমকে যাবে। ৫. যাত্রীর আস্থা কমে যাবে, বিনিয়োগ উৎসাহও কমবে। সুতরাং বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের গতি মন্থর হয়ে পড়বে। তাই নিরাপদ, দক্ষ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও