জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব জীবনের ধারাবাহিকতা

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

নাজমার রজঃচক্র ২৮ দিনের। ১ম দিনে তাঁর রজঃস্রাব শুরু হয়। ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখলেন ১২-১৩তম দিনে তাঁর রক্তে একটি হরমোনের মাত্রা সর্বোচ্চ হয় এবং ১৪তম দিনে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু মুক্ত হয়। ২১তম দিনে তাঁর ডিম্বাশয়ে হলুদ বর্ণের একটি গঠন এবং জরায়ুর অন্তঃপ্রাচীর পুরু অবস্থায় দেখা গেল।

  1. ক)

    ডিম্বপাত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    রজঃচক্রকে জরায়ুর কান্না বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    নাজমার ২৮ দিনের রজঃচক্রে জরায়ু চক্রের পর্যায়গুলো দিনসহ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ডিম্বপাতের পর নাজমার ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে এবং না হলে ২১-২৮তম দিনের মধ্যে ডিম্বাশয়ের হলুদ গঠনটির এবং জরায়ুর কী কী পরিবর্তন ঘটবে, তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্রাফিয়ান ফলিকল থেকে ডিম্বাণুর নিঃসরণ বা নিষ্ক্রমণকে ডিম্বপাত বা ওভ্যুলেশন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রতি মাসে পরিণত ডিম্বাণুটি ডিম্বনালিতে এসে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে। ওই সময়ে যৌন মিলন হলে গর্ভসঞ্চার ঘটে। গর্ভসঞ্চার না ঘটলে ডিম্বাণুটি বিনষ্ট হয়ে রজঃস্রাবের সাথে ঝরে পড়ে এবং জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম ভেঙে বেরিয়ে যায়। অর্থাৎ সন্তান ধারণ করতে না পারার অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এটি ঘটে, তাই একে জরায়ুর কান্না বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জরায়ু চক্র তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়:

    ১. রজঃস্রাবীয় পর্যায় (১-৫ দিন): নিষেক না ঘটলে কর্পাস লুটিয়াম ভেঙে যাওয়ায় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন উৎপাদন বন্ধ হয়। ফলে জরায়ুর অন্তঃপ্রাচীরের রক্তজালক ফেটে যায় এবং রক্ত, মিউকাস ও ডিম্বাণুসহ এন্ডোমেট্রিয়াম যোনিপথে বেরিয়ে আসে।
    ২. বর্ধনশীল পর্যায় (৫-১৩ দিন): ডিম্বাশয়ে ফলিকল বৃদ্ধির সাথে সাথে ইস্ট্রোজেন তৈরি হয়। এর প্রভাবে এন্ডোমেট্রিয়াম দ্রুত পুনর্গঠিত ও পুরু হয় এবং ডিম্বাণু ধারণের উপযোগী হয়। ১২-১৩তম দিনে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা সর্বোচ্চ হয়।
    ৩. ক্ষরণশীল পর্যায় (১৩-২৮ দিন): ডিম্বপাতের পর গ্রাফিয়ান ফলিকল কর্পাস লুটিয়ামে পরিণত হয়। এটি প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন তৈরি করে জরায়ু প্রাচীরকে ভ্রূণ ধারণের উপযোগী করে তোলে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাজমার ২১তম দিনে ডিম্বাশয়ে দেখা হলুদ গঠনটি হলো কর্পাস লুটিয়াম বা ইয়েলো বডি। ডিম্বপাতের পর গ্রাফিয়ান ফলিকলের থিকা কোষে লুটিনাইজেশনের ফলে এটি সৃষ্টি হয়। এটি ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন তৈরি করে।

    ডিম্বাণু নিষিক্ত হলে: নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়ে জরায়ু প্রাচীরে প্রোথিত হয়। ফলে কর্পাস লুটিয়াম নষ্ট হয় না এবং প্রোজেস্টেরন ক্ষরণ চলতে থাকে। এন্ডোমেট্রিয়াম পুরু ও ভ্রূণ ধারণের উপযোগী থাকে। পরবর্তীতে সৃষ্ট অমরা ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন তৈরির মাধ্যমে ভ্রূণের বৃদ্ধির পরিবেশ বজায় রাখে। রজঃস্রাব হয় না এবং রজঃচক্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।

    ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে: ডিম্বপাতের ১০-১২ দিন পর অর্থাৎ ২৪-২৬তম দিনের মধ্যে কর্পাস লুটিয়াম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন উৎপাদন বন্ধ হয়। জরায়ুর রক্তজালক ফেটে যায় এবং এন্ডোমেট্রিয়াম ভেঙে রজঃস্রাব হিসেবে বেরিয়ে যায়। এর ফলে পরবর্তী চক্রের রজঃস্রাবীয় পর্যায় শুরু হয়।

    সুতরাং নিষেক ঘটলে হরমোন ক্ষরণ ও পুরু এন্ডোমেট্রিয়াম বজায় থাকে, না ঘটলে এগুলো বন্ধ হয়ে রজঃস্রাব ঘটে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও