সাহিত্য পাঠ • বিলাসী
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মিনারা খাতুন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। তাদের প্রতিবেশী নিঃসন্তান বৃদ্ধ আজিজ মাস্টার টাইফয়েডে শয্যাশায়ী হলে আত্মীয়স্বজনের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। মিনারা দিনের পর দিন, রাতের পর রাত জেগে তাঁর সেবা করে, ওষুধ খাওয়ায় আর পথ্য রান্না করে। কয়েক সপ্তাহ পর মাস্টার সাহেব সুস্থ হয়ে ওঠেন। গ্রামের লোকেরা মিনারার প্রশংসা করে, আর আজিজ মাস্টার তাঁকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করেন। অনিদ্রা ও পরিশ্রমে মিনারার শরীর অবশ্য অনেকটা ভেঙে গেছে।
- ক)(1)
বিলাসী কার মেয়ে?
- খ)(2)
“ঠিক যেন ফুলদানিতে জল ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো”—কথক কেন বিলাসীকে এমন বলেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মিনারার চরিত্রে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর কোন গুণ প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সেবার পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে মিনারা ও বিলাসীর ভাগ্য এক নয়”—উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিলাসী এক বুড়া সাপুড়ের মেয়ে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মৃত্যুঞ্জয়ের রোগশয্যার পাশে প্রথম দেখায় কথক বিলাসীকে দেখেন, যার বয়স আঠারো না আটাশ তা বোঝা যায় না। মৃতপ্রায় মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচাতে খাটতে খাটতে ও রাত জাগতে জাগতে তার শরীরের সব শক্তি ফুরিয়ে গিয়েছিল। তার ক্লান্ত, শীর্ণ ও দুর্বল চেহারা দেখে কথকের মনে হয়েছে সামান্য স্পর্শেই সে ঝরে পড়বে। তাই জলে ভিজিয়ে রাখা বাসি ফুলের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বিলাসীর অমানুষিক সেবার ক্লান্তিকে প্রকাশ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মিনারার চরিত্রে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর নিঃস্বার্থ সেবা, ধৈর্য ও মানবিকতার গুণ প্রকাশ পেয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় দেড় মাস শয্যাগত ছিল এবং দশ-পনেরো দিন অজ্ঞান ছিল। বিলাসী নির্জন বাগানবাড়িতে একা তাকে সেবা করেছে, শিয়রে বসে বাতাস করেছে, রাত জেগেছে। নিজের শরীরের কথা ভাবেনি, ফলে তার শরীরে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। উদ্দীপকের মিনারাও আত্মীয়হীন বৃদ্ধ আজিজ মাস্টারের পাশে দিনরাত জেগে সেবা-শুশ্রূষা করেছে এবং নিজের শরীর ভেঙে ফেলেছে। দুজনেই কোনো প্রতিদানের আশা না করে অসুস্থ মানুষকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। এভাবে মিনারার মধ্যে বিলাসীর সেবাপরায়ণ ও নিঃস্বার্থ মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিনারা ও বিলাসী উভয়েই নিঃস্বার্থ সেবায় একজন মুমূর্ষু মানুষকে সুস্থ করে তুলেছে। কিন্তু সমাজের কাছ থেকে তারা সমান পুরস্কার পায়নি। মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে সুস্থ হওয়ার পর মিনারা গ্রামের লোকের প্রশংসা পায় এবং আজিজ মাস্টারের কাছ থেকে মেয়ের মতো স্নেহ লাভ করে। অর্থাৎ সমাজ তার সেবাকে মূল্য দিয়েছে। অন্যদিকে ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচানোর পর বিলাসীকে সমাজের অপমান ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার নেতৃত্বে গ্রামের দশ-বারোজন লাঠিসোটা নিয়ে এসে তাকে চুলের মুঠি, কান ও হাত ধরে হিঁচড়ে গ্রামের বাইরে রেখে আসার জন্য টেনে নিয়ে যায়। কারণ সে সাপুড়ের মেয়ে, আর কায়েতের ছেলে তার হাতে ভাত খেয়েছে। তখন বিলাসী নিজের অপমানের চেয়ে অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের রুটি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিল। পরে মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে তাকে গ্রাম ছেড়ে মালোপাড়ায় আশ্রয় নিতে হয়।
উদ্দীপকের সমাজ সেবার মর্যাদা দিয়েছে, অথচ গল্পের সমাজে সংকীর্ণ জাতপাতের বিচার মানবিকতার ওপরে স্থান পেয়েছে। তাই একই ধরনের মহৎ কাজের পরিণতি দুই ক্ষেত্রে দুই রকম হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও