ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

ঢাকার হাজারীবাগে বহু বছর ধরে ট্যানারি শিল্প গড়ে উঠেছিল। সেখান থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি পাশের নদীতে পড়ত। একসময় নদীটির পানি কালো হয়ে যায় এবং মাছ মরে যেতে থাকে। পরে সরকার ট্যানারিগুলোকে সাভারে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেয়। কিন্তু নদীর তীরবর্তী বসতির নর্দমার ময়লা এখনও নদীতে পড়ে।

  1. ক)

    পানি দূষণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কঠিন আবর্জনা পানি দূষণের কারণ হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নদীর পানি কালো হওয়া ও মাছ মরে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার পরও কি নদীটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত হবে? উদ্দীপক ও পাঠ্যবিষয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পানির সাথে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত হয়ে পানির প্রাকৃতিক, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটলে এবং তার ফলে জলজ উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের ক্ষতি হলে বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তাকে পানি দূষণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্লাস্টিক, পলিথিন, রাবার ও অ্যাসবেস্টস জাতীয় কঠিন আবর্জনা সহজে নষ্ট হয় না। এসব পদার্থের সহজে রাসায়নিক পরিবর্তনও ঘটে না এবং ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব এদের ওপর কোনো বিক্রিয়া করতে পারে না। ফলে এগুলো পানিতে পড়ে দীর্ঘদিন থেকে যায় এবং পানিকে দূষিত করে। তাই কঠিন আবর্জনা পানি দূষণের একটি কারণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নদীর পানি কালো হওয়া ও মাছ মরে যাওয়ার কারণ হলো শিল্পের আবর্জনা দ্বারা পানি দূষণ।
    শিল্পবিপ্লবের শুরু থেকেই শিল্প-কারখানার ময়লা ও আবর্জনা নদী ও সমুদ্রের পানি দূষণের প্রধান কারণ। চামড়া, কাগজ, বস্ত্র, সার, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পের আবর্জনা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে গঠিত। উদ্দীপকের ট্যানারিগুলো থেকে নির্গত রাসায়নিক বর্জ্য শোধন না করেই সরাসরি নদীতে ফেলা হতো। এই রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশে এর প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বদলে দেয়, ফলে পানি কালো হয় এবং জলজ প্রাণী বাঁচতে পারে না। এভাবে মাছ মরে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমার মতে, ট্যানারি সরিয়ে নিলেই নদীটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত হবে না।
    ট্যানারি সরানোর ফলে নদীতে শিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য পড়া বন্ধ হবে, যা দূষণ কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ। বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে হাজারীবাগের ট্যানারি সাভারের চামড়া শিল্প পার্কে সরানো এর বাস্তব উদাহরণ। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, নদীর তীরবর্তী বসতির নর্দমার ময়লা এখনও নদীতে পড়ছে। নর্দমার ময়লা, মলমূত্র ও পচা খাদ্যদ্রব্য নদীতে পড়লে ব্যাকটেরিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর অক্সিজেন খরচ হয়। ফলে পানিতে অক্সিজেন কমে যায় এবং পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
    তাই নদী দূষণমুক্ত করতে আরও ব্যবস্থা নিতে হবে—
    ১. পয়ঃপ্রণালী ও গৃহস্থালির বর্জ্য নদীতে ফেলার আগে ফিল্টার ট্যাংক বা জারণ ট্যাংকের মাধ্যমে শোধন করতে হবে।
    ২. সাভারের শিল্পপার্কেও তরল বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৩. কঠোর আইন প্রয়োগ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
    অতএব, শুধু ট্যানারি স্থানান্তর যথেষ্ট নয়; গৃহস্থালির বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও শোধনসহ সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নদী সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত হবে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও