ভূগোল ২য় পত্র • মানচিত্র অভিক্ষেপ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

একাদশ শ্রেণির ছাত্র তামিম তার ঘরে একটি ভূগোলক ও দেয়ালে ঝোলানো একটি বিশ্বমানচিত্র দেখে। ভূগোলকে পৃথিবীর আকৃতি ও রেখাগুলো ঠিকভাবে দেখা যায়, কিন্তু সেটি সবখানে বহন করা কঠিন। বিশ্বমানচিত্র সহজে ভাঁজ করে নেওয়া যায় ও একনজরে সব মহাদেশ দেখা যায়। তামিমের শিক্ষক বললেন, গোলাকার পৃথিবীর বিশ্বমানচিত্র কাগজের মতো সমতল তলে আঁকতে হলে বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

  1. ক)

    গ্রাটিকুল (graticule) কী?

    (1)
  2. খ)

    অভিক্ষেপের মূলকথা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পদ্ধতিতে বিশ্বমানচিত্র অঙ্কনের জন্য যেসব বিষয় অত্যাবশ্যক তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ভূগোলকের চেয়ে মানচিত্র বেশি ব্যবহারযোগ্য হলেও এতে ভূগোলকের সব বৈশিষ্ট্য অবিকল রক্ষা করা যায় না”- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা দ্বারা সৃষ্ট জালের ন্যায় বিন্যস্ত ছককে গ্রাটিকুল বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অভিক্ষেপের মূলকথা হলো বস্তুর ত্রিমাত্রিকতাকে দ্বিমাত্রিক তলে প্রতিস্থাপন করা। পৃথিবী গোলাকার, অর্থাৎ ত্রিমাত্রিক। কিন্তু মানচিত্র আঁকা হয় সমতল কাগজে, যা দ্বিমাত্রিক। তাই গোলক পৃষ্ঠের অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার জালকে নির্দিষ্ট স্কেলে সমতল তলে স্থানান্তর করতে হয়। এই প্রক্রিয়াই অভিক্ষেপ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পদ্ধতিটি হলো মানচিত্র অভিক্ষেপ। কোনো সমতল কাগজে সমগ্র পৃথিবীর মানচিত্র আঁকার জন্য নির্দিষ্ট স্কেলে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো জালের ন্যায় ছকে প্রকাশ করতে হয়। এর জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো হলো-
    ১. সমতল পৃষ্ঠ: যেমন সমতল কাগজ, যার ওপর ছক অঙ্কন করা হবে।
    ২. নির্দিষ্ট স্কেল: মানচিত্র ভূপৃষ্ঠের তুলনায় ছোট হওয়ায় প্রতিভঙ্গ অনুপাতে একটি নির্দিষ্ট স্কেল ঠিক করতে হয়।
    ৩. অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখা: এই রেখাগুলোর জাল বা গ্রাটিকুলই অভিক্ষেপের ভিত্তি। এগুলোর সাহায্যে স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভূগোলক পৃথিবীর অবিকল আকৃতি বোঝানোর ক্ষুদ্রাকৃতির গোলক। এতে পৃথিবীর সব বৈশিষ্ট্য যথাযথভাবে বিদ্যমান থাকে এবং অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখা সুস্পষ্টরূপে নির্ধারিত থাকে। উদ্দীপকে তামিমও তা দেখেছে। কিন্তু ভূগোলক বহন করা কঠিন, আর এতে একসাথে সব মহাদেশ ও ছোট অঞ্চলের বিস্তারিত দেখানো কষ্টকর।
    অন্যদিকে মানচিত্র সমতল কাগজে আঁকা হয় বলে তা ভাঁজ করে সহজে বহন করা যায় এবং একনজরে সমগ্র পৃথিবী বা এর যেকোনো অংশ দেখা যায়। তাই ব্যবহারের দিক থেকে মানচিত্র বেশি সুবিধাজনক।
    তবে গোলক পৃষ্ঠকে সমতলে আনতে গেলে ত্রিমাত্রিক তলকে দ্বিমাত্রিক তলে রূপান্তর করতে হয়। এতে সমগ্র গোলকের আকার, আয়তন, দিক ও দূরত্ব একসাথে সঠিক রাখা সম্ভব হয় না। কোনো অভিক্ষেপে আকৃতি ঠিক থাকলে আয়তন বিকৃত হয়, আবার আয়তন ঠিক থাকলে আকৃতি নষ্ট হয়। তাই উদ্দেশ্য অনুযায়ী অভিক্ষেপ বেছে নিতে হয়।
    সুতরাং ব্যবহার-সুবিধার জন্য মানচিত্র শ্রেষ্ঠ হলেও ভূগোলকের মতো সব বৈশিষ্ট্যের অবিকল উপস্থাপন এতে সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও