সাহিত্য পাঠ • জাদুঘরে কেন যাব

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

মজিদ সাহেব দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে দেশ-বিদেশের প্রাচীন মুদ্রা, পুঁথি ও শিলালিপির প্রতিলিপি সংগ্রহ করেন। এসব তিনি নিজের বাড়ির একটি কক্ষে সাজিয়ে রাখতেন, যেখানে কেবল আত্মীয়-অতিথিরা সুযোগমতো যেতে পারতেন। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের সম্মতিতে সরকার সংগ্রহটি গ্রহণ করে জেলা শহরে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে এখন যে কেউ প্রবেশ করে নিদর্শনগুলো দেখতে পারে।

  1. ক)

    ব্রিটেনের প্রথম পাবলিক মিউজিয়াম কোথায় গড়ে ওঠে?

    (1)
  2. খ)

    “রাজ-রাজড়া বা সামন্ত প্রভুরা যেসব সংগ্রহশালা গড়ে তুলতেন, তাতে থাকত ওইসব মহাশয়ের শক্তি, সম্পদ ও গৌরবের ঘোষণা”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মজিদ সাহেবের সংগ্রহের সঙ্গে ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধে বর্ণিত কোন জাদুঘরগুলোর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা এবং তার পরিবর্তন জাদুঘরের রূপকে বড় রকম প্রভাবিত করে”—উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্রিটেনের প্রথম পাবলিক মিউজিয়াম গড়ে ওঠে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, যার নাম অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাচীনকালে রাজা ও সামন্ত প্রভুরা নিজেদের উদ্যোগে যেসব সংগ্রহশালা গড়ে তুলতেন, তা জনকল্যাণ বা জ্ঞানচর্চার জন্য ছিল না। দুর্লভ ও মূল্যবান বস্তু সংগ্রহের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ক্ষমতা, ধনসম্পদ ও মর্যাদা প্রদর্শন করতেন। এসব সংগ্রহশালা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায়ই খোলা থাকত না। তাই সংগ্রহশালাগুলো ছিল মালিকের শক্তি ও গৌরব ঘোষণার একটি মাধ্যম, সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মজিদ সাহেবের সংগ্রহের সঙ্গে প্রবন্ধে বর্ণিত অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম ও ব্রিটিশ মিউজিয়ামের গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ার সাদৃশ্য রয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ট্রেডাসেন্ট পিতাপুত্র ও অ্যাশমোল—এই তিনজনের ব্যক্তিগত সংগ্রহ দিয়ে অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম গড়ে ওঠে। আবার স্যার হ্যান্স স্লোন, স্যার রবার্ট কটন ও রবার্ট হার্লির সংগ্রহের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, একজন ব্যক্তির দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সংগ্রহ পরে রাষ্ট্রের দায়িত্বে জাদুঘরে রূপ নিয়েছে। ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে সর্বজনীন জাদুঘরে রূপান্তরের এই দিকটিতেই উদ্দীপক ও প্রবন্ধের মিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রাবন্ধিক আনিসুজ্জামান ‘জাদুঘরে কেন যাব’ প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের সঙ্গে জাদুঘরের চরিত্রও বদলে যায়। উক্তিটি যথার্থ।

    প্রবন্ধ অনুযায়ী প্রথমদিকে রাজা ও সামন্ত প্রভুদের সংগ্রহশালা ছিল তাঁদের শক্তি ও সম্পদের ঘোষণা এবং সাধারণের জন্য প্রায় বন্ধ। গণতন্ত্রের বিকাশ ও বিপ্লবের ফলে এসব জাদুঘরের দ্বার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়। ফরাসি বিপ্লবের পর প্রজাতন্ত্র ল্যুভ সৃষ্টি করে ও ভার্সাই প্রাসাদের দরজা খুলে দেয়, রুশ বিপ্লবের পর লেনিনগ্রাদের রাজপ্রাসাদে হার্মিটিয়ে গড়ে ওঠে এবং ক্রমবর্ধমান গণতন্ত্রায়নের ফলে টাওয়ার অফ লন্ডনের সংগ্রহ সর্বজনের গোচরে আসে। উনিশ শতকে পুঁজিবাদ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির বিকাশ এবং উপনিবেশবাদের ফলে জাদুঘরের সংখ্যা বাড়ে, আর বিশ শতকে সদ্য স্বাধীন দেশগুলো আত্মপরিচয়ের প্রেরণায় নতুন জাদুঘর গড়ে তোলে।

    উদ্দীপকে মজিদ সাহেবের সংগ্রহ প্রথমে ছিল ব্যক্তিগত, কেবল অতিথিদের জন্য সীমিত। পরে রাষ্ট্র দায়িত্ব নিলে তা জেলা জাদুঘরে পরিণত হয় এবং সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। এটি প্রমাণ করে, ব্যক্তির সংগ্রহ কেবল তখনই জনগণের সম্পদ হয়ে ওঠে যখন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো তাকে সর্বজনীন করার পথ খুলে দেয়।

    সুতরাং প্রবন্ধের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত ও উদ্দীপকের ঘটনা—দুটিই দেখায় যে সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনই জাদুঘরের রূপ ও প্রবেশাধিকার নির্ধারণ করে। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও