সাহিত্য পাঠ • গন্তব্য কাবুল

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রহিমা বেগম গ্রামে নিজেদের জমিতে ধান কাটেন, মাথায় কাপড় ছাড়া। তাঁর ছেলে শহরে চাকরি পেয়ে মা-বাবাকে নিয়ে এল। শহরের বাসায় রহিমা বেগম বোরকা পরে ঘরের বাইরে বের হন। ছেলে গ্রামে এলে শহরের মেয়েদের বেপর্দা নিয়ে নিন্দা করে, অথচ তার নিজের বোনেরা গ্রামে কাজ করে। রহিমা বেগম বলেন, “শহরে সবাই এমন করে, তাই আমিও করি।”

  1. ক)

    জালালাবাদ থেকে কাবুলের দূরত্ব কত মাইল?

    (1)
  2. খ)

    জালালাবাদে লেখক পাঠানদের আচরণে কী বৈপরীত্য লক্ষ করেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সঙ্গে বেতারকর্তার বক্তব্যের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “আচরণ ও রীতিনীতি মানুষের পরিবেশ ও জীবিকার প্রয়োজন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, কেবল ধর্ম বা গোঁড়ামি দ্বারা নয়।”- ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনা ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জালালাবাদ থেকে কাবুলের দূরত্ব একশ মাইল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জালালাবাদে লেখক লক্ষ করেন, যে পাঠানরা শহরে গিয়ে সেখানকার মেয়েদের বেপর্দা চলাফেরার নিন্দা করে, তাদেরই বউ-ঝিরা নিজের গ্রামে ক্ষেতে অন্য দেশের মেয়েদের মতোই কাজ করে। বাসের দিকে মুখ তুলে তাকাতেও তাদের আপত্তি নেই। অর্থাৎ শহরে তারা যে নিয়মের পক্ষে বলে, নিজের ঘরের নারীদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানে না। এটিই তাদের আচরণের বৈপরীত্য।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিমা বেগমের জীবনের পরিবর্তন বেতারকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

    জালালাবাদে লেখক যখন পাঠান নারীদের ক্ষেতে কাজ করতে দেখেন এবং বেতারকর্তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তখন বেতারকর্তা গম্ভীরভাবে ব্যাখ্যা দেন যে কোনো দেশের গরিব মেয়েরা, অন্তত নিজের গাঁয়ে, পর্দা মানে না। কিন্তু শহরে গিয়ে মধ্যবিত্তের অনুকরণ করে ‘ভদ্রলোক’ হওয়ার চেষ্টায় কখনো কখনো তারা পর্দা মানে, আবার কাজের অসুবিধা হলে গাঁয়ের রেওয়াজই বজায় রাখে।

    উদ্দীপকের রহিমা বেগম গ্রামে খোলা মাথায় মাঠে কাজ করেন, অর্থাৎ গাঁয়ের রেওয়াজ মেনে চলেন। কিন্তু শহরে এসে সবার মতো হওয়ার জন্য বোরকা পরেন। এটি বেতারকর্তার মন্তব্যের ‘শহরে গিয়ে মধ্যবিত্তের অনুকরণ’ অংশের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনা বেতারকর্তার বক্তব্যের বাস্তব উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনার জালালাবাদ-অংশের বেতারকর্তার ব্যাখ্যার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং যথার্থ।

    জালালাবাদে লেখক দেখেন, শহরে মেয়েদের বেপর্দা নিন্দা করা পাঠানদেরই বউ-ঝিরা গ্রামে অন্য দেশের মেয়েদের মতো ক্ষেতে কাজ করে এবং বাসের দিকে মুখ তুলে তাকাতেও দ্বিধা করে না। বেতারকর্তা এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, গরিব মেয়েরা নিজের গাঁয়ে পর্দা মানে না। শহরে গিয়ে কখনো মধ্যবিত্তের অনুকরণ করে পর্দা মানে, আবার কাজের অসুবিধা হলে গাঁয়ের রীতিই রক্ষা করে। তিনি ইরাকে বেদুইন মেয়েদের বিনা পর্দায় ছাগল চরাতে দেখার কথাও বলেন। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশেই একই প্রবণতা।

    উদ্দীপকের রহিমা বেগম গ্রামে কাজের প্রয়োজনে খোলা মাথায় মাঠে যান, কিন্তু শহরে সামাজিক মর্যাদার চাপে বোরকা পরেন। তাঁর ছেলে শহরের মেয়েদের নিন্দা করলেও নিজের পরিবারের নারীদের গ্রামের কাজের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য করে না।

    এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে, মানুষের আচরণ বহুলাংশে তার অর্থনৈতিক অবস্থা, কাজের ধরন ও সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। তবে শহরের নিন্দাকারীদের মধ্যে কিছুটা লৌকিক গোঁড়ামিও আছে, ফলে ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাস পুরোপুরি অকার্যকর নয়। তবু মূল প্রবণতা হিসেবে মন্তব্যটি সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও