জীববিজ্ঞান • জীবে পরিবহন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্র সাজিদ কিছুদিন ধরে খুব দুর্বল বোধ করছে এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছে। তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। কোনো আঘাত ছাড়াই তার নাক থেকে মাঝে মাঝে রক্ত পড়ে এবং সে প্রায়ই জ্বরে ভোগে। রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেল তার শ্বেত রক্তকোষের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি।

  1. ক)

    লিউকেমিয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    লিউকেমিয়ায় শ্বেত রক্তকোষ বেশি থাকা সত্ত্বেও রোগী সহজে সংক্রমিত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সাজিদের ফ্যাকাশে ভাব, শ্বাসকষ্ট ও নাক থেকে রক্তপাতের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সাজিদের রোগটি কি নিরাময়যোগ্য? চিকিৎসা পদ্ধতিসহ মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লিউকেমিয়া হলো অস্থিমজ্জায় অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত শ্বেত রক্তকোষ উৎপাদনজনিত রক্ত উৎপাদন-ব্যবস্থার একটি রোগ, যাকে সাধারণভাবে রক্তের ক্যান্সার বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লিউকেমিয়ায় অস্থিমজ্জা অত্যধিক হারে শ্বেত রক্তকোষ উৎপাদন করে। কিন্তু এগুলো আসলে ক্যান্সার কোষ, যারা শ্বেত রক্তকোষের স্বাভাবিক কাজ অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ করতে অক্ষম। ফলে সংখ্যায় বেশি হলেও দেহ রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারে না। তাই রোগী সহজেই বিভিন্ন রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাজিদ লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগে অস্থিমজ্জা অত্যধিক শ্বেত রক্তকোষ তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় পরোক্ষভাবে লোহিত রক্তকোষ ও অণুচক্রিকার উৎপাদন কমে যায়।
    ১. ফ্যাকাশে ভাব ও শ্বাসকষ্ট: লোহিত রক্তকোষ দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর সংখ্যা কমে গেলে দেহে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। ফলে রোগী দুর্বল বোধ করে, তার চেহারা ফ্যাকাশে হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
    ২. নাক থেকে রক্তপাত: অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। অণুচক্রিকার অভাবে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না, তাই কোনো আঘাত ছাড়াই নাক ও দাঁতের গোড়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাজিদের রোগটি লিউকেমিয়া। লক্ষণ দেখে বোঝা যায়, লোহিত রক্তকোষ, শ্বেত রক্তকোষ ও অণুচক্রিকা তিন ধরনের রক্তকোষই স্বাভাবিক কাজ করতে পারছে না।
    নিরাময়ের সম্ভাবনা: প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করা গেলে এবং রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ নিরাময় করা সম্ভব। দেরিতে ধরা পড়লে জটিলতা বাড়ে।
    চিকিৎসা: সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়:
    ১. ক্যান্সার কেমোথেরাপি: অস্বাভাবিক কোষ ধ্বংস করার জন্য প্রয়োগ করা হয়। বর্তমানে দেশের বহু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এর ব্যবস্থা আছে।
    ২. অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন এ ব্যবস্থা আছে। আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হতো।
    লিউকেমিয়ার প্রকারভেদ অনুযায়ী চিকিৎসার ভিন্নতা হয়। সুতরাং সাজিদকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে সঠিক চিকিৎসা দিলে রোগটি নিরাময়যোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও