সাহিত্য পাঠ • গহন কোন বনের ধারে
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ রাকিব গত পনেরো বছর ধরে টোকিওতে থাকে। ব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে কোনোদিন জানালায় একটি চড়ুই এসে বসলে সে কাজ ফেলে তাকিয়ে থাকে। তখন তার মনে পড়ে ছেলেবেলায় গ্রামের পুকুরপাড়ের মাছরাঙা, ফিঙে আর দোয়েলের কথা, যাদের পেছনে সে সারা দুপুর ঘুরত। এখন ছুটিতে গ্রামে গেলে সেই বাগান, পুকুর আর অনেক পাখিকে সে আর খুঁজে পায় না। তবু শৈশবের সেই দিনগুলোর স্মৃতি তাকে এখনো প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শেখায়।
- ক)(1)
বসন্তবৌরি পাখির মাথায় কী ছিল?
- খ)(2)
"আর বেনেবৌ, আমাদের হলদে পাখি, সে তো রূপকথার হীরামন।"- 'রূপকথার হীরামন' বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাকিবের স্মৃতিকাতরতা 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার কোন অংশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"রাকিবের আক্ষেপ ও লেখকের স্মৃতিচারণ কেবল শৈশবস্মৃতি নয়, প্রকৃতি হারানোর বেদনাও বহন করে।"- উদ্দীপক ও 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বসন্তবৌরি পাখির মাথায় লাল টুকটুকে টোপর ছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রূপকথায় হীরামন নামের পাখিটি বিপদ থেকে উদ্ধার করার মতো আপনজনের ভূমিকা পালন করে। লেখক হলদে রঙের বেনেবৌ পাখিটিকে রূপকথার সেই হীরামনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এখানে হীরামন আপনজন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ বেনেবৌ পাখি শৈশবে লেখকের কাছে অত্যন্ত প্রিয়, আপন ও মায়াময় ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাকিবের স্মৃতিকাতরতা রচনার শেষ অংশে লেখকের স্মৃতিচারণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রচনার শেষে লেখক জানান, তিনি স্কুল ছেড়ে শহরে, তারপর রাজধানীতে এবং বিশ বছর ধরে বিদেশে আছেন। কিন্তু চরম মনখারাপের মুহূর্তে হঠাৎ দমকা হাওয়ায় ঘরে একটি শুকনো পাতা এসে পড়লে কিংবা ক্লান্ত পায়ে ফেরার পথে কুকুরছানা কোলে উঠতে চাইলে তিনি ক্ষণিকের জন্য খুশির জোয়ারে ভেসে যান। তখন তাঁর মনে পড়ে গহন বনের ধারে টিলাবাড়িতে কাটানো শৈশবের দিনগুলো এবং শোভা বুড়োর কথা। উদ্দীপকে রাকিবও প্রবাসে জানালায় বসা একটি চড়ুই দেখে শৈশবের পুকুরপাড় ও পাখিদের কথা স্মরণ করে। দুজনের ক্ষেত্রেই প্রকৃতির সামান্য উপাদান দূর দেশের কর্মব্যস্ত জীবনে হারানো শৈশবকে মনে করিয়ে দেয়। এ কারণেই সাদৃশ্য স্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। শৈশবের স্মৃতি দুজনকেই আবেগাপ্লুত করে, কিন্তু সেই স্মৃতির সঙ্গে মিশে আছে প্রকৃতি হারিয়ে যাওয়ার বেদনা। রচনায় লেখক শৈশবে টিলাবাড়ি ও গহন বনে শোভা বুড়ো, কপুচে ও রোগার সঙ্গে ঘুরে ফুল, পাখি, ছড়া, গাছ ও প্রাণীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়েছিলেন। পাখির জগৎ তাঁকে পাগল করে তুলেছিল। কিন্তু প্রায় পঞ্চাশ বছর পর পাহাড়ের ওই এলাকা এখন আবাদ ও লোকবসতিতে ভরা; সাপখোপ, জন্তুজানোয়ার, পাখপাখালি সবই লাপাত্তা। শোভা বুড়োর সতর্কবাণী, মানুষ বন দখল করলে ফল ভালো হবে না, এখানে সত্য হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকে রাকিবও গ্রামে ফিরে সেই বাগান, পুকুর ও অনেক পাখিকে আর খুঁজে পায় না। তার স্মৃতি শুধু নস্টালজিয়া নয়, হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির জন্য আক্ষেপও। তবে উভয় ক্ষেত্রেই এই স্মৃতি তাদের প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শেখায়; লেখক শোভা বুড়োর কাছ থেকে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে ও জানতে শিখেছিলেন, রাকিবও শৈশবের স্মৃতি থেকে সেই শিক্ষা বয়ে বেড়ায়। অতএব মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও