সাহিত্য পাঠ • ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মেঘনার ভাঙনে ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারিয়েছে কৃষক রহিম। নদীর পাড়ে আশ্রয় নিয়ে সে অপেক্ষা করেনি, দিনমজুরির আশায় ঢাকায় এসে রিকশা চালাতে শুরু করেছে। গ্রামে ফেরার কথা তার মনে আসে না। বস্তির ছোট ঘরে বসে সে ভাবে, আর যা-ই হোক, সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করবে। তবু ক্ষেতের কথা মনে পড়লে তার বুক হু হু করে ওঠে।
- ক)(1)
‘কাদাখোঁচা’ কী?
- খ)(2)
“কাদায় অক্ষর এঁকে দিয়ে”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহিমের সাথে ‘ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার’ কবিতার কৃষিজীবীর কোন দিক থেকে মিল রয়েছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
“রহিমের ভবিষ্যৎ-ভাবনা কবিতার কৃষিজীবীর ভবিষ্যৎ-ভাবনা থেকে ভিন্ন।”—উক্তিটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘কাদাখোঁচা’ এক ধরনের পাখি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জলের তোড়ে ক্ষেত ডুবে গেলে ঘাস ও ফসল জলের নিচে দলিত হয়। পরে জল নেমে গেলে ক্ষেতে কর্দমাক্ত ভূমি বেরিয়ে আসে। জল সরে যাওয়ার সময় কাদায় যে দাগ বা ছাপ পড়ে, কবি সেটিকেই ‘কাদায় অক্ষর এঁকে দেওয়া’ বলেছেন। এর মাধ্যমে প্লাবনের ধ্বংসের চিহ্ন এবং কৃষকের ক্ষতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিমের সাথে কবিতার কৃষিজীবীর মিল রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমি হারিয়ে ভূমিহীন হওয়া এবং জীবিকা পরিবর্তনে বাধ্য হওয়ার দিক থেকে।
কবিতায় নদীর ধস ও জলের তোড়ে ক্ষেত ডুবে গেলে কৃষক ভূমিহীন হয়ে পড়ে। কৃষিকাজের সুযোগ না থাকায় সে জীবিকার জন্য জেলে হতে চায় এবং কাঁচ হাতে মাছের প্রতীক্ষা করে। তার জীবনে আশ্রয় ও নিশ্চয়তা নেই এবং সে কষ্টে চোখ জ্বালিয়ে বসে থাকে।
উদ্দীপকের রহিমও মেঘনার ভাঙনে ভিটেমাটি ও জমি হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছে। কৃষিকাজ করার সুযোগ না পেয়ে সে রিকশাচালকের পেশা বেছে নিয়েছে। সুতরাং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভূমিহীন হওয়া ও পেশা বদলের দিক থেকে দুজনের মধ্যে মিল আছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। দুজনেই ভূমিহীন হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের ভাবনার ধরন ভিন্ন।
‘ভূমিহীন কৃষিজীবী ইচ্ছে তার’ কবিতায় কৃষক ভূমি হারিয়ে সাময়িকভাবে জেলের জীবন গ্রহণ করেছে। কিন্তু সে ভূমির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। সে প্রতীক্ষা করে কখন মেঘ জমবে এবং কখন আবার ক্ষেতের কাজ শুরু হবে; সব মাঠ সময়ের প্রতীক্ষায় আছে। সে স্বপ্ন দেখে একদিন ঘরে বসে মাছভাত খেতে খেতে স্বজনদের সাথে আকালের গল্প করবে। অর্থাৎ তার পেশা বদল সাময়িক, ফসলের জমিতে ফেরার আশাই তার ভবিষ্যৎ-ভাবনা। তবু প্রতীক্ষার কষ্টে তার চোখ জ্বলে।
উদ্দীপকের রহিম ভাঙনের পর গ্রামে ফেরার কথা ভাবে না। সে রিকশা চালিয়ে শহরে স্থায়ী জীবন গড়তে চায় এবং সন্তানদের মানুষ করাকেই তার ভবিষ্যৎ-লক্ষ্য মনে করে। তার ভাবনা কৃষিজমিনির্ভর নয়, বরং নতুন পরিবেশে অভিযোজনের। তবে ক্ষেতের স্মৃতিতে তার বুক হু হু করে, যা কবিতার কৃষকের বেদনার সাথে মেলে।
অতএব, কৃষক ভূমিতে ফেরার প্রতীক্ষায় আছে আর রহিম অন্য পথে স্থায়ীভাবে এগোতে চায়। এদিক থেকে উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও