তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
ড. নাজমা একটি জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ক্যান্সার রোগীদের জিনোমের বিশাল পরিমাণ তথ্য কম্পিউটারে নিরাপদে সংরক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনমতো সেখান থেকে তথ্য খুঁজে বের করেন। তিনি বিশেষ অ্যালগরিদম লিখে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত পদ্ধতিতে ফলাফলের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে।
- ক)(1)
বায়োইনফরম্যাটিক্স কী?
- খ)(2)
জীববিজ্ঞানের গবেষণায় কম্পিউটার প্রযুক্তি অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বায়োইনফরম্যাটিক্স যে চারটি শাখার উপাদান ও কৌশলের সমন্বয়ে কাজ করে, উদ্দীপকে ড. নাজমার কাজে সেগুলো কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ড. নাজমার আশা পূরণ হলে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ব্যবস্থায় এর কী প্রভাব পড়বে? বায়োইনফরম্যাটিক্সের অগ্রগতির আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়োইনফরম্যাটিক্স হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত ও পরিসংখ্যানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয়, যা জীববিজ্ঞানের বিশাল ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যাখ্যার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীববিজ্ঞানে জিনোম সিকোয়েন্স, প্রোটিন সিকোয়েন্স ইত্যাদি অত্যন্ত বিশাল পরিমাণ ডেটা তৈরি হয়। এসব ডেটা হাতে-কলমে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা প্রায় অসম্ভব। কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ডেটার ইলেকট্রনিক ডেটাবেজ তৈরি, দ্রুত হিসাব-নিকাশ এবং জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়। তাই জৈবিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণে কম্পিউটার প্রযুক্তি অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়োইনফরম্যাটিক্স চারটি শাখার সমন্বয়ে কাজ করে। উদ্দীপকে এদের প্রতিফলন নিম্নরূপ।
১. আণবিক জীববিজ্ঞান ও মেডিসিন: ক্যান্সার রোগীদের জিনোমের তথ্য ডেটার উৎস হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২. ডেটাবেজ: বিশাল তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনমতো খুঁজে বের করা (retrieve) ডেটাবেজের কাজ।
৩. প্রোগ্রাম: ড. নাজমা বিশেষ অ্যালগরিদম লিখে উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন, যা প্রোগ্রাম উপাদানের কাজ।
৪. গণিত ও পরিসংখ্যান: ফলাফলের সম্ভাব্যতা যাচাই করা গণিত ও পরিসংখ্যানের সাহায্যে সম্পন্ন হয়েছে।
অতএব বায়োইনফরম্যাটিক্সের চারটি উপাদানই উদ্দীপকের কাজে প্রতিফলিত হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ড. নাজমা ক্যান্সার গবেষণা ও ব্যক্তিভিত্তিক ওষুধ তৈরির আশা করছেন, যা বায়োইনফরম্যাটিক্সের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগক্ষেত্র।
প্রথমত, মানব জিনোম প্রথমবার সিকোয়েন্স করতে ১৩ বছর লেগেছিল, কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন কয়েক ঘণ্টায় পুরো জিনোম সিকোয়েন্স করা যায়। ফলে প্রতিটি রোগীর জিনোম দ্রুত ও কম খরচে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, ক্যান্সার রোগীর জিনের গঠন বিশ্লেষণ করে রোগের কারণ ও ধরন নির্ণয় করা যাবে এবং প্রতিটি রোগীর নিজস্ব জিনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে ওষুধ বেশি কার্যকর হবে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমবে।
তৃতীয়ত, প্রোটিনের গঠন বিশ্লেষণ ও ডিএনএ ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে মলিকুলার মেডিসিন ও জিনথেরাপি আরও উন্নত হবে, ফলে নতুন ওষুধ আবিষ্কার সহজ হবে।
সুতরাং ড. নাজমার আশা বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা সাধারণ ওষুধনির্ভর পদ্ধতি থেকে রোগী-নির্দিষ্ট নির্ভুল চিকিৎসার দিকে এগিয়ে যাবে এবং দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ের সম্ভাবনা বাড়বে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও