হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র • হিসাববিজ্ঞানের নীতিমালা

হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

‘তানিম এন্টারপ্রাইজ’ ২০২৪ সালে নগদ বিক্রয় করেছে ২,০০,০০০ টাকা। এছাড়া ঐ বছরে (i) ২৮ ডিসেম্বর ৪০,০০০ টাকার পণ্য ধারে বিক্রয় করে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে; (ii) ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে সেবা প্রদানের শর্তে ২৫,০০০ টাকা অগ্রিম পাওয়া গেছে; (iii) একজন নামকরা ডিজাইনারকে নিয়োগ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে; (iv) ১৫,০০০ টাকার পণ্য ক্রয়ের কোনো ভাউচার বা ক্যাশ মেমো পাওয়া যাচ্ছে না।

  1. ক)

    আদায়করণ নীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    উদ্দীপকের (iii) নং ঘটনা হিসাবভুক্ত করা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    আদায়করণ নীতি অনুসারে ২০২৪ সালে তানিম এন্টারপ্রাইজের আয়ের পরিমাণ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের (iv) নং ঘটনায় হিসাবরক্ষকের করণীয় কী এবং হিসাববিজ্ঞানের কোন রীতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ? ১৫,০০০ টাকার ক্রয়টি প্রমাণ ছাড়া হিসাবভুক্ত করলে কী সমস্যা হতো, বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আদায়করণ নীতি অনুসারে আয় যদি নগদে আদায় হয় অথবা পাওয়ার অধিকার জন্মে, তবে তাকে ঐ হিসাবকালের আয় হিসেবে বিবেচনা করতে হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর অর্থের পরিমাপযোগ্যতা নীতি অনুসারে শুধু সেসব ঘটনাই হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ করা যায় যা অর্থের মূল্যে পরিমাপ করা সম্ভব। নামকরা ডিজাইনার নিয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পেলেও সেই সুনামকে নির্দিষ্ট অর্থমূল্যে পরিমাপ করা যায় না। তাই ঘটনাটি যত গুরুত্বপূর্ণই হোক, তা হিসাবভুক্ত করা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আদায়করণ নীতি অনুসারে পণ্য বা সেবা আইনগতভাবে ক্রেতার কাছে হস্তান্তর হলে পাওয়ার অধিকার জন্মায় এবং তা ঐ বছরের আয় হিসেবে গণ্য হয়।

    • নগদ বিক্রয় = ২,০০,০০০ টাকা (আয়)।
    • (i) ধারে বিক্রয় ৪০,০০০ টাকা: পণ্য হস্তান্তর হয়েছে, তাই পাওয়ার অধিকার জন্মেছে, ফলে ২০২৪ সালের আয়।
    • (ii) অগ্রিম প্রাপ্ত ২৫,০০০ টাকা: সেবা এখনও প্রদান করা হয়নি, তাই ২০২৪ সালের আয় নয়; এটি ২০২৫ সালের আয়।

    অতএব ২০২৪ সালের আয় = ২,০০,০০০ + ৪০,০০০ = ২,৪০,০০০ টাকা।

    উত্তর: ২,৪০,০০০ টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর এখানে প্রযোজ্য রীতি হলো বস্তুনিষ্ঠতা। এ রীতি অনুসারে হিসাবের বইতে লিপিবদ্ধ প্রতিটি লেনদেনের পেছনে যথোপযুক্ত প্রমাণ্য দলিল (ভাউচার, ক্যাশ মেমো, চালান) থাকতে হবে।

    হিসাবরক্ষকের করণীয়:
    ১. সরবরাহকারীর কাছ থেকে ডুপ্লিকেট ক্যাশ মেমো বা চালান সংগ্রহের চেষ্টা করা।
    ২. প্রমাণ্য দলিল না পাওয়া পর্যন্ত লেনদেনটি হিসাবে লিপিবদ্ধ না করা এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো।

    প্রমাণ ছাড়া লিপিবদ্ধ করলে সমস্যা:
    ১. ভুয়া বা কাল্পনিক লেনদেন হিসাবে ঢুকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতো।
    ২. লেনদেনটি ভুয়া হলে ক্রয় ১৫,০০০ টাকা অতিরঞ্জিত হয়ে বিক্রীত পণ্যের ব্যয় বাড়ত এবং নিট মুনাফা কম দেখানো হতো; সংশ্লিষ্ট নগদ বা দায়ের হিসাবও ভুল হতো।
    ৩. হিসাব নিরীক্ষার সময় লেনদেনের উৎস যাচাই করা যেত না, ফলে হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হতো।
    ৪. আর্থিক বিবরণীর ওপর ব্যবহারকারীদের আস্থা কমে যেত।

    অতএব, বস্তুনিষ্ঠতা রীতি অনুসরণ করে প্রমাণ্য দলিল সংগ্রহের পরই লেনদেনটি হিসাবভুক্ত করা উচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও