জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বরগুনার একটি উপকূলীয় ইউনিয়নে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ইউনিয়ন পরিষদ সমুদ্রতীর বরাবর, বাতাসের প্রধান গতিপথের সমকোণে একফালি জমিতে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়। এজন্য দুটি প্রস্তাব আসে। প্রস্তাব-১: জমির মাঝ বরাবর সবচেয়ে উঁচু গাছ, দুই পাশে ক্রমশ ছোট গাছ, গুল্ম ও ঘাস লাগানো হবে এবং গাছ হবে কেওড়া, গাব, নারিকেল ও সুপারি। প্রস্তাব-২: দ্রুত বেড়ে ওঠে বলে রেনট্রি ও গগন শিরিষ লাগানো হবে।
- ক)(1)
সবুজ বেষ্টনী কী?
- খ)(2)
বাংলাদেশকে ঝড়প্রবণ এলাকা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রস্তাব-১ এ গাছ লাগানোর যে কৌশলের কথা বলা হয়েছে তা কীভাবে সবুজ বেষ্টনীকে কার্যকর করে তোলে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রস্তাব-১ ও প্রস্তাব-২ এর মধ্যে কোনটি উপকূলীয় এলাকার জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপকূল বরাবর এবং প্রধান বায়ুপ্রবাহের সমকোণে রোপিত একফালি শাখা-প্রশাখা সমৃদ্ধ বৃক্ষকে বায়ুপ্রবাহ রোধক বেষ্টনী বা সবুজ বেষ্টনী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক স্থলবেষ্টিত হলেও দক্ষিণ দিক উন্মুক্ত বঙ্গোপসাগর। ঋতু পরিবর্তনের সময় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে ভূখণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে। এ প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, সিডর, ফনি, বুলবুল, আম্পান ইত্যাদি দুর্যোগ প্রতি বছরই উপকূলীয় জেলাগুলোতে আঘাত হানে। তাই বাংলাদেশকে ঝড়প্রবণ এলাকা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জমির ফালিটি সবুজ বেষ্টনীর আশ্রয় ফালি (Shelter belt)। প্রস্তাব-১ এ আশ্রয় ফালির কেবল কেন্দ্রাংশ বরাবর সর্বোচ্চ বৃক্ষ এবং উভয় পাশে ক্রমশ কম উচ্চতার বৃক্ষ, গুল্ম, উপগুল্ম ও তৃণলতা রোপণের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে বনের ক্যানোপির (Canopy) প্রস্থচ্ছেদ ত্রিকোণাকার হয়। এ কাঠামো সমুদ্র থেকে আসা ঝড়ো হাওয়াকে ধাপে ধাপে উপরের দিকে সরিয়ে দেয় এবং ঝড়ের গতিবেগ, ঝাপটা ও শক্তি কমিয়ে দেয়। একইভাবে নিচু স্তরের গুল্ম ও ঘাস জলোচ্ছ্বাসের গতি ও উচ্চতা প্রাথমিকভাবে প্রতিহত করে এবং মাটি ধরে রাখে। চিরহরিৎ উঁচু বৃক্ষ ব্যবহৃত হওয়ায় সারা বছরই বেষ্টনী কার্যকর থাকে। এভাবে প্রস্তাব-১ এর কৌশল সবুজ বেষ্টনীকে ঘরবাড়ি ও ফসলের সুরক্ষায় কার্যকর করে তোলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রস্তাব-১ এর বৃক্ষ প্রজাতি (কেওড়া, গাব, নারিকেল, সুপারি) প্রস্তাব-২ এর প্রজাতি (রেনট্রি, গগন শিরিষ) অপেক্ষা উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীর জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য। কারণ সবুজ বেষ্টনীর বৃক্ষের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। ১. লবণসহিষ্ণুতা: উপকূলীয় মাটি জোয়ারের পানিতে নিয়মিত সিক্ত হয় এবং লবণাক্ত। কেওড়া মৃদু লবণাক্ত পানিতে জন্মাতে পারে, কিন্তু রেনট্রি ও গগন শিরিষ এ পরিবেশে উপযোগী নয়। ২. মাটি ধরে রাখার ক্ষমতা: কেওড়ার মূল মাটি ধরে রাখে, ফলে ভাঙন ও ভূমিক্ষয় কমে। ৩. ঝড় সহনশীলতা: গাব গাছ অত্যন্ত শক্ত, ঝড়ের ঝাপটা সামলে টিকে থাকে। কিন্তু রেনট্রি ও গগন শিরিষ কম শক্ত কাঠের গাছ; প্রচণ্ড ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এরা নিজেরাই ভেঙে পড়ে এবং বসতবাড়ি, মানুষ ও পশুপাখির মৃত্যুহার বাড়িয়ে দেয়। ৪. অর্থকরী প্রাপ্তি: কেওড়া থেকে জ্বালানি ও কাঠ এবং হরিণের খাদ্য, গাব থেকে জ্বালানি, মাছের জাল শক্ত করার উপাদান ও ফল পাওয়া যায়; ভেতরের দিকের নারিকেল ও সুপারি বাগান খাদ্য, পানীয় ও অর্থ যোগান দেয়। রেনট্রি ও গগন শিরিষ থেকে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না। অতএব দ্রুত বাড়লেও রেনট্রি ও গগন শিরিষ সবুজ বেষ্টনীর জন্য অনুপযুক্ত। সুতরাং উপকূলীয় মানুষ ও সম্পদ রক্ষার জন্য প্রস্তাব-১ই অধিক গ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও