বাংলা ১ম পত্র • অভাগীর স্বর্গ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বস্তির কিশোরী শিউলি পাশের বাড়ির ধনী বন্ধু তিথির গায়েহলুদ ও বিয়ের জাঁকজমক ছাদে দাঁড়িয়ে অপলক চোখে দেখে। ফুলে সাজানো মঞ্চ, ঝলমলে আলো আর দামি শাড়ি দেখে সে মাকে এসে বলে, “মা, আমার বিয়েতেও কি এমন হবে?” তিথির মা পাশ থেকে হেসে বলেন, “গরিবের আবার এত সাধ!” শিউলির মা কিছু বলতে পারেন না, শুধু মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

  1. ক)

    ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “নব নব উপকথার ইন্দ্রজাল রচনা করিয়া চলিতে লাগিল”— এখানে ‘ইন্দ্রজাল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শিউলির আকাঙ্ক্ষা ও ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের অভাগীর আকাঙ্ক্ষার মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের ভাবনার আলোকে ‘অভাগীর স্বর্গ’ নামকরণ যথার্থ”— মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ শব্দের অর্থ মৃত ব্যক্তির সংস্কার বা অন্তিম অনুষ্ঠান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ইন্দ্রজাল’ শব্দের সাধারণ অর্থ জাদুবিদ্যা। এখানে এর অর্থ গল্পের মাধ্যমে মুগ্ধ বা মোহিত করে রাখার ক্ষমতা। অভাগী জ্বরের ঘোরে রাজপুত্র-কোটালপুত্রের পরিচিত গল্প ছেড়ে নিজের মনের মতো নতুন নতুন কাহিনি বলে চলছিল। সেই গল্পে কাঙালী এমন মুগ্ধ ছিল যে ভয়, বিস্ময় ও পুলকে মায়ের বুকে মিশে যেতে চাইছিল। এই মোহময় গল্পের জগৎকেই ইন্দ্রজাল বলা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শিউলির আকাঙ্ক্ষা ও অভাগীর আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মূল পার্থক্য আকাঙ্ক্ষার সময় ও প্রকৃতিতে। উদ্দীপকে শিউলি ধনী বন্ধুর বিয়ের জাঁকজমক দেখে নিজের জীবনের আনন্দের দিনেও তেমন আয়োজনের স্বপ্ন দেখে। এ আকাঙ্ক্ষা জীবিতকালের ও ভবিষ্যৎ জীবনের উৎসবকে ঘিরে। অন্যদিকে গল্পে অভাগী মুখুয্যে-গিন্নির জাঁকজমকপূর্ণ শবযাত্রা দেখে নিজের মৃত্যুর পরের সৎকারের স্বপ্ন দেখে। সে চেয়েছিল স্বামীর পায়ের ধুলো, পায়ে আলতা, মাথায় সিঁদুর এবং ছেলের হাতের আগুন। তার আকাঙ্ক্ষা মরণোত্তর মর্যাদা ও স্বর্গলাভের বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নামকরণটি যথার্থ। ‘অভাগীর স্বর্গ’ নামটি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অভাগী ও তার স্বর্গ-সম্পর্কিত বিশ্বাসকে ঘিরে এবং গল্পের মর্মবেদনাকেও প্রকাশ করে।
    ১. অভাগী ও তার স্বপ্ন: জন্মের সময় মা মারা যায় বলে বাবা তার নাম রেখেছিল অভাগী। জীবনভর দুঃখ সয়ে সে মুখুয্যে-গিন্নির মতো সৎকার ও ছেলের হাতের আগুনের স্বপ্ন দেখে স্বর্গের আশা করেছে। উদ্দীপকেও শিউলি ধনীর আয়োজন দেখে নিজের জন্য সেরূপ আয়োজনের স্বপ্ন দেখে এবং এই স্বপ্নই দরিদ্রের মনের গভীর আকাঙ্ক্ষা।
    ২. স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা: উদ্দীপকে ধনীর মুখে ‘গরিবের আবার এত সাধ!’ কথাটি দরিদ্রের স্বপ্নকে অবজ্ঞা করার মানসিকতা প্রকাশ করে। গল্পেও তেমনি অভাগীর স্বর্গের আশা পূর্ণ হয় না; দাহের কাঠ জোটে না, নদীর চরে খড়ের আগুনে তাকে মাটি দেওয়া হয়।
    ৩. ব্যঞ্জনা: ‘অভাগী’ ও ‘স্বর্গ’ শব্দ দুটির বৈপরীত্য গল্পের ট্র্যাজেডিকে ফুটিয়ে তোলে। যে চিরদুঃখী, সে মৃত্যুর পরও সুখ পায় না। অর্থাৎ স্বর্গ তার কাছে অধরাই থেকে যায়।
    সুতরাং উদ্দীপকের আলোকে বিচার করলে ‘অভাগীর স্বর্গ’ নামকরণ অর্থবহ ও সার্থক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও