জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব জীবনের ধারাবাহিকতা
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি জীববিজ্ঞান ল্যাবে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে মানুষের একটি ক্ষুদ্র কোষ দেখা গেল। কোষটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০-৭০ মাইক্রোমিটার। এর সামনের অংশে টুপির মতো একটি থলিকার গঠন A রয়েছে। মধ্যবর্তী অংশ B-তে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা বেশি এবং পিছনের লম্বা অংশ C দিয়ে কোষটি চলাচল করে।
- ক)(1)
স্পার্মিওজেনেসিস কাকে বলে?
- খ)(2)
উদ্দীপকের B অংশে মাইটোকন্ড্রিয়া বেশি থাকে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের A অংশটির উৎপত্তি ও কাজ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের কোষটি সৃষ্টির ধাপগুলো প্রতিটি ধাপে ক্রোমোজোম সংখ্যাসহ বিশ্লেষণ করো। (মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬)
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে জটিল প্রক্রিয়ায় চলাচলে অক্ষম, গোলাকার স্পার্মটিড আর কোনো বিভাজন ছাড়াই ধারাবাহিক আঙ্গিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সচল শুক্রাণুতে পরিণত হয়, তাকে স্পার্মিওজেনেসিস বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর B হলো শুক্রাণুর মধ্যখণ্ড। শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে সচলভাবে চলতে হয়। লেজ বা ফ্ল্যাজেলাম সঞ্চালনের জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। মধ্যখণ্ডের মাইটোকন্ড্রিয়া এই শক্তি যোগায়। তাই এখানে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা বেশি থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর A হলো শুক্রাণুর অ্যাক্রোসোম।
উৎপত্তি: স্পার্মিওজেনেসিসের সময় স্পার্মটিডের গলজি বডি থেকে অ্যাক্রোসোম সৃষ্টি হয় এবং এটি শুক্রাণুর মাথায় নিউক্লিয়াসের সামনের অর্ধেক অংশের ওপর টুপির মতো অবস্থান করে।
কাজ: অ্যাক্রোসোম একটি থলি বিশেষ, যার ভিতরে টিস্যু গলনকারী এনজাইম থাকে। নিষেকের সময় এই এনজাইম ডিম্বাণুর ঝিল্লি ভেদ করে শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর ভিতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কোষটি শুক্রাণু, যা শুক্রাশয়ে স্পার্মাটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় চারটি ধাপে সৃষ্টি হয়।
১. সংখ্যাবৃদ্ধি পর্যায়: সেমিনিফেরাস নালিকার জার্মিনাল এপিথেলিয়ামের জনন মাতৃকোষ () পুনঃপুনঃ মাইটোসিসের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে স্পার্মাটোগোনিয়া () সৃষ্টি করে।
২. পরিবর্ধন পর্যায়: স্পার্মাটোগোনিয়া সারটলি কোষ থেকে পুষ্টি নিয়ে আয়তনে বড় হয়ে প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইটে () পরিণত হয়। ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
৩. পূর্ণতাপ্রাপ্তি পর্যায়: প্রথম মিয়োসিসে প্রতিটি প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইট দুটি সেকেন্ডারি স্পার্মাটোসাইটে () বিভক্ত হয়, ফলে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়। দ্বিতীয় মিয়োসিসে প্রতিটি সেকেন্ডারি স্পার্মাটোসাইট দুটি স্পার্মটিড () সৃষ্টি করে। এভাবে একটি প্রাইমারি স্পার্মাটোসাইট থেকে চারটি স্পার্মটিড উৎপন্ন হয়।
৪. স্পার্মিওজেনেসিস: কোনো বিভাজন ছাড়াই স্পার্মটিড রূপান্তরিত হয়ে শুক্রাণুতে () পরিণত হয়। এতে ৬০-৭০ দিন সময় লাগে।এভাবে ডিপ্লয়েড জনন মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু সৃষ্টি হয়, যা নিষেকের সময় হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট () গঠন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও