বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংকব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

একটি দেশের সরকার সাম্প্রতিক বার্ষিক বাজেটে বিভিন্ন খাতে নিচের হারে অর্থ বরাদ্দ করেছে।

খাতবরাদ্দ (শতকরা)
প্রতিরক্ষা১২
শিক্ষা১৫
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ৮
ঋণ ও সুদ পরিশোধ১৮
সামাজিক নিরাপত্তা১০
উন্নয়ন ব্যয়২৫
অন্যান্য১২
  1. ক)

    বাংলাদেশ সরকার বার্ষিক বাজেটে কয় ধরনের ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে?

    (1)
  2. খ)

    সরকারকে ঋণ ও সুদ পরিশোধ বাবদ প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে সরকার কী ধরনের ব্যয় করে থাকে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ছকে সরকারি ব্যয়ের কোন খাতগুলোকে তুমি উৎপাদনশীল মনে করো? সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কোন নীতি অনুসরণ করা উচিত বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ সরকার বার্ষিক বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়নমূলক—এই দুই ধরনের ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেশের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে প্রচুর পরিমাণে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। গৃহীত ঋণের আসল ও তার ওপর নির্ধারিত সুদ নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করতে হয়। ঋণের পরিমাণ বেশি হওয়ায় প্রতিবছর এ বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ সরকারের ব্যয় হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ—দুটি খাতেই সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় করে।
    শিক্ষা খাতে: সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার জন্য অনুদান, উপবৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা বিস্তারের নতুন কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়।
    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ খাতে: হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিশুকল্যাণ ও মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় হয়।
    এসব ব্যয় জনগণকে দক্ষ ও সুস্থ করে তোলে, যা দেশের উন্নয়নের ভিত্তি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ছকে উন্নয়ন ব্যয় (২৫%), শিক্ষা (১৫%) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ (৮%) খাতকে আমি উৎপাদনশীল মনে করি।
    যুক্তি:
    ১. উন্নয়ন ব্যয়ের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ, বন্দর ইত্যাদি অবকাঠামো গড়ে ওঠে, যা উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ায়।
    ২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে ব্যয় দক্ষ ও সুস্থ জনশক্তি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
    অপরদিকে ঋণ ও সুদ পরিশোধ (১৮%) সরাসরি উৎপাদন বাড়ায় না, তাই এ জাতীয় ব্যয় অনুৎপাদনশীল প্রকৃতির।
    সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার নীতি: সরকারকে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য অপ্রয়োজনীয় ঋণ এড়িয়ে চলা এবং ব্যয়ের অপচয় রোধ করা প্রয়োজন। তবে প্রতিরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় বরাদ্দও নিশ্চিত করতে হবে।
    এভাবে ব্যয় ব্যবস্থাপনা করলে দেশের সামষ্টিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও