সহপাঠ • বহিপীর
সহপাঠ প্রশ্ন
আজিজ চৌধুরী একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। বকেয়া খাজনার কারণে আগামীকাল তাঁর জমিদারি নিলামে উঠবে, কিন্তু কথাটা তিনি পরিবারের কাউকে জানাননি। টাকা জোগাড়ের জন্য চিকিৎসার কথা বলে শহরে যান, কিন্তু বন্ধুদের কাছে ব্যর্থ হয়ে ফেরেন। তখন এক প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকা ধার দিতে রাজি হন, তবে শর্ত দেন যে আজিজ চৌধুরীর আশ্রয়ে থাকা এতিম মেয়েটিকে তাঁর হাতে তুলে দিতে হবে। প্রস্তাবটি জমিদারি বাঁচানোর একমাত্র পথ হলেও আজিজ চৌধুরী নিজেকে অপরাধী মনে করেন এবং টাকা নিতে অস্বীকার করেন।
- ক)(1)
হাতেম আলির জমিদারি কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
“আমার মাথার ওপর হঠাৎ যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।”— হাতেম আলি একথা বলেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আজিজ চৌধুরীর আচরণে ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলির কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের আজিজ চৌধুরীর শেষ সিদ্ধান্ত হাতেম আলির মানবিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।”— মন্তব্যটি ‘বহিপীর’ নাটকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতেম আলির জমিদারি রেশমপুরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতেম আলির জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে খাজনা বাকি পড়ায় নিলামে উঠতে বসেছে এবং কালই নিলাম হবে। টাকা জোগাড়ের শেষ ভরসা বাল্যবন্ধু আনোয়ারউদ্দিনও সাহায্য করতে অস্বীকার করেছেন। জমিদারি হারালে তিনি, তাঁর পরিবার ও ছেলের স্বপ্ন সবই ধ্বংস হবে। এই চরম বিপদে তিনি দিশেহারা বোধ করেন। তাই তিনি বলেছেন, তাঁর মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আজিজ চৌধুরীর আচরণে ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলির জমিদারি নিলামের খবর পরিবারের কাছে গোপন রাখা এবং এ জন্য অসুস্থতার ভান করে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে। নাটকে হাতেম আলির জমিদারি সূর্যাস্ত আইনে নিলামে ওঠে। অর্থসংগ্রহের জন্য শহরে যাওয়ার প্রকৃত কারণ গোপন রেখে তিনি পরিবারকে বলেন, দাওয়াই করানোর জন্য যাচ্ছেন। পরে তিনি পীরসাহেবের কাছে স্বীকার করেন যে এটি মিথ্যা ছিল। উদ্দীপকেও আজিজ চৌধুরী নিলামের কথা পরিবারকে না জানিয়ে চিকিৎসার কথা বলে শহরে যান এবং বন্ধুদের কাছে সাহায্য চেয়ে ব্যর্থ হন। দুজনেরই লক্ষ্য মানসম্মান রক্ষা করা ও পরিবারকে দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচানো। এই গোপনীয়তার দিকটিতেই দুজনের সাদৃশ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। আজিজ চৌধুরীর শেষ সিদ্ধান্তে হাতেম আলির মানবিক মূল্যবোধ ও উচ্চ নৈতিকতাবোধের প্রতিফলন ঘটেছে। ১. নাটকে জমিদারি বাঁচাতে হাতেম আলি বহিপীরের কাছে সাহায্য চান। বহিপীর টাকা ধারের বিনিময়ে শর্ত দেন যে তাহেরাকে তাঁর হাতে ফেরত দিতে হবে। উদ্দীপকেও প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে আশ্রিত এতিম মেয়েটিকে চেয়েছেন। দুজনের সামনে একই ধরনের নৈতিক সংকট। ২. নাটকে তাহেরা পরিস্থিতি বুঝে রাজি হলেও হাতেম আলি নিজেই বেঁকে বসেন। আশ্রিত একজন অসহায় মেয়েকে বিক্রির মতো করে তুলে দিলে তাঁর নিজেকে নিজের কাছে কসাই মনে হয়। তাঁর মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয় এবং তিনি টাকা নিতে অস্বীকার করেন। আজিজ চৌধুরীও নিজেকে অপরাধী মনে করে টাকা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ৩. দুজনই জমিদারি হারানোর মতো চরম ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েও স্বার্থের চেয়ে মানবিকতাকে বড় করে দেখেছেন। তবে উদ্দীপকে আশ্রিত মেয়েটির সম্মতির কোনো উল্লেখ নেই, নাটকে তাহেরা নিজে রাজি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মূল চেতনায় দুজনই সমান। সুতরাং, আজিজ চৌধুরীর সিদ্ধান্তে হাতেম আলির নৈতিকতা ও মানবিক বোধই প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও