সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রুবিনার বিয়ে ঠিক হয় বাবার বন্ধুর ছেলের সঙ্গে। রুবিনা বা পাত্র—কারও মতামত চাওয়া হয়নি, এমনকি বিয়ের আগে তারা কেউ কাউকে ভালোভাবে চিনতও না। ছোটবেলা থেকেই রুবিনাকে কোথাও যেতে দেওয়া হয়নি, নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি। পরিবার বলে, ‘সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, বিয়ে তো টিকে আছে, এর চেয়ে বড় কথা কী?’ বিয়ের বছর না ঘুরতেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

  1. ক)

    ‘বিলাসী’ গল্পটি কার জবানিতে বর্ণিত হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    “অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে”—উক্তিটি দ্বারা লেখক কী বুঝিয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রুবিনার জীবনযাত্রা ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত ‘নন্দগোপাল’ ও ‘তেলাপোকা’ উপমার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “যে দেশে বিবাহ শুধু নিছক Contract, সে দেশের লোকের পক্ষে মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপের কারণ বোঝা সম্ভব নয়।”—উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি যাচাই করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পটি ‘ন্যাড়া’ নামের এক যুবকের নিজের জবানিতে বর্ণিত হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হিন্দু সমাজের রক্ষণশীল পক্ষ যুক্তি দেখায় যে নির্ভুল বিধিব্যবস্থার জোরেই সমাজ বহু বিপ্লব পেরিয়ে টিকে আছে। এর জবাবে লেখক ব্যঙ্গ করে বোঝাতে চেয়েছেন, শুধু টিকে থাকাই কোনো কিছুর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়। বিশালদেহী মহাগজ হারিয়ে গেছে, অথচ তুচ্ছ তেলাপোকা এখনও বেঁচে আছে। অর্থাৎ বেঁচে থাকা আর মর্যাদা নিয়ে বাঁচা এক কথা নয়। সমাজ যদি মানুষের সম্ভাবনাকে আটকে রেখে কেবল টিকে থাকে, তবে তা গৌরবের নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বিলাসী’ গল্পে লেখক বলেছেন, বড়লোকদের নন্দগোপালের মতো সন্তানকে দিনরাত চোখে চোখে ও কোলে কোলে রাখলে সে বেশিদিন বাঁচবে সন্দেহ নেই, কিন্তু সেটা তেলাপোকার মতো কেবল টিকিয়ে রাখা। বরং মাঝে মাঝে কোল থেকে নামিয়ে অন্য মানুষের মতো দু-এক পা হাঁটতে দেওয়া দোষের নয়। উদ্দীপকে রুবিনাকে ছোটবেলা থেকে বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি, নিজের সিদ্ধান্তও নিতে দেওয়া হয়নি; তাকে সবসময় নিরাপদ গণ্ডিতে আটকে রাখা হয়েছে। এটি নন্দগোপালের মতো আগলে রাখারই রূপ। পরিবারের মন্তব্য ‘বিয়ে তো টিকে আছে’ তেলাপোকার মতো টিকে থাকাকেই সার্থকতা মনে করার প্রতিফলন। ফলে রুবিনার জীবন নিরাপদ হলেও স্বাধীনতা ও আত্মবিকাশহীন হয়ে পড়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। লেখকের মতে, যে সমাজে নরনারী পরস্পরের হৃদয় জয় করে বিবাহ করার রীতি নেই, বরং তা নিন্দনীয়, সেখানে বিবাহ কেবল একটি চুক্তিতে পরিণত হয়। আকাঙ্ক্ষা, জয়ের গর্ব, পরাজয়ের ব্যথা বা ভুল করার দুঃখ—কোনোটিরই সুযোগ সেখানে থাকে না। উদ্দীপকে রুবিনার বিয়েতে কারও মত নেওয়া হয়নি, পরস্পরকে চেনার সুযোগ ছিল না এবং সম্পর্ক কেবল দায়িত্বপালনে আটকে গেছে। সেখানে বিয়ে চুক্তির মতোই যান্ত্রিক। এমন সমাজ মৃত্যুঞ্জয়ের ‘অন্নপাপ’ বুঝবে না, কারণ মৃত্যুঞ্জয় সমাজের নিয়ম ভেঙে বিলাসীর হৃদয় জয় করেছিল এবং বিলাসীও পীড়িত মৃত্যুঞ্জয়কে তিল তিল করে জয় করেছিল। এই হৃদয় জয়ের আনন্দ ও গৌরব নিয়মের শিকলে বাঁধা মানুষের কাছে অচেনা। উদ্দীপকের পরিবার যেমন টিকে থাকাকেই বড় ভেবেছে, গল্পের সমাজও অন্নপাপ বলে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীকে ভুল বুঝেছে। অতএব মন্তব্যটি উদ্দীপক ও গল্প—উভয় দিক থেকেই সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও