বাংলা ১ম পত্র • বন্দনা

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বন্যার সময় হঠাৎ নদীর পানি ঢুকে পড়ায় রহিমার ঘর ডুবে যায়। তিনি তাঁর ছোট্ট শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে সারারাত উঁচু বাঁধের ওপর বসে থাকেন। কাদামাটি আর ঠান্ডা হাওয়ায় শিশুটির যেন কষ্ট না হয়, তাই তিনি তাকে একবারও মাটিতে নামাননি। নিজে না খেয়েও তিনি শিশুর মুখে শুকনো খাবার তুলে দিয়েছেন।

  1. ক)

    শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত ‘বন্দনা’ কবিতাটি কোন কাব্যের অংশ?

    (1)
  2. খ)

    “পিপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রহিমার আচরণে ‘বন্দনা’ কবিতার যে চরণের ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘বন্দনা’ কবিতার সামগ্রিক ভাব নয়, কেবল একটি অংশ প্রতিফলিত হয়েছে।”—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত ‘বন্দনা’ কবিতাটি ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের ‘বন্দনা’ পর্বের অংশ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মা সন্তানকে অত্যন্ত স্নেহ ও যত্নে লালন করেন। সন্তানের সামান্য কষ্ট বা ক্ষতির আশঙ্কাও তিনি সইতে পারেন না। তাই পিঁপড়ার কামড়ের ভয়েও তিনি শিশুকে মাটিতে রাখেননি, কোলে ও বুকে আগলে রেখেছেন। চরণটিতে মায়ের অতুলনীয় স্নেহ-মমতা ও সদা সতর্ক কল্যাণদৃষ্টি প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রহিমার আচরণে ‘বন্দনা’ কবিতার “কোল দিয়া বুক দিয়া জগতে বিদিত” চরণের ভাব প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বন্যার দুর্যোগে রহিমা শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে সারারাত বসে থাকেন এবং একবারও মাটিতে নামান না। কবিতায়ও কবি বলেছেন, মা পিঁপড়ার ভয়ে সন্তানকে মাটিতে রাখেননি; কোলে ও বুকে আগলে তাকে বড় করেছেন। দুই ক্ষেত্রেই মা নিজের কষ্ট তুচ্ছ করে সন্তানকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। এভাবে উদ্দীপকে মাতৃস্নেহের সেই চিরন্তন রূপই ফুটে উঠেছে, যা কবিতার অন্যতম বিষয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে রহিমার সন্তানের প্রতি অপত্যস্নেহ ও আত্মত্যাগ ফুটে উঠেছে। এটি ‘বন্দনা’ কবিতার মায়ের স্নেহের দিকটির সঙ্গে মেলে। কিন্তু কবিতার ভাব আরও ব্যাপক।
    ১. মাতৃস্নেহের মিল: উদ্দীপকের রহিমা শিশুকে মাটিতে নামাননি, নিজে না খেয়ে তার মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। কবিতাতেও মা পিঁপড়ার ভয়ে সন্তানকে মাটিতে রাখেননি।
    ২. পিতার অবদান অনুপস্থিত: কবিতায় “না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ” চরণে পিতার ত্যাগের কথাও আছে। উদ্দীপকে পিতার কোনো প্রসঙ্গ নেই।
    ৩. গুরু ও সভাসদদের প্রতি শ্রদ্ধা: কবিতায় ওস্তাদকে ‘দোসর-জনম’ দাতা বলে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে এবং আত্মীয়, মিত্র ও সভাসদদের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে এসব নেই।
    ৪. কৃতজ্ঞতার সুর: কবিতার মূল সুর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধাবোধ। উদ্দীপকে সন্তানের কৃতজ্ঞতার প্রকাশ নেই, আছে শুধু মায়ের স্নেহ।
    সুতরাং উদ্দীপকে কবিতার কেবল মাতৃস্নেহের অংশটুকুই প্রতিফলিত হয়েছে; সামগ্রিক ভাব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও