ভূগোল ১ম পত্র • জীবমণ্ডল
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
নাফিসা দুটি অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ করল। 'P' অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০ সেন্টিমিটার, দিনে প্রচণ্ড গরম ও রাতে তীব্র ঠান্ডা পড়ে। সেখানে ক্যাকটাস, কাঁটাঝোপ ও উট দেখা যায়। 'Q' অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ৫০ সেন্টিমিটার, বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘাস জন্মে এবং গরু, ছাগল, হরিণ ও শিয়াল বাস করে।
- ক)(1)
ইকোসিস্টেম কী?
- খ)(2)
মরুভূমির মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'P' অঞ্চলের উৎপাদকগুলোর পরিবেশের সাথে অভিযোজন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'P' ও 'Q' অঞ্চলের ইকোসিস্টেমের খাদক ও বিয়োজকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো স্থানের জীব ও তার পরিবেশ নিজেদের মধ্যে এবং পরস্পরের মধ্যে ক্রিয়া-বিক্রিয়ার যে গতিময় পদ্ধতি গড়ে তোলে, তাকে ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মরুভূমির ইকোসিস্টেমে উৎপাদকের সংখ্যা খুব কম, ফলে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর পরিমাণও কম। এছাড়া সেখানে বিয়োজকের সংখ্যা খুবই অল্প। তাই উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচে হিউমাস তৈরি না হয়ে অত্যধিক তাপে শুকিয়ে যায়। হিউমাসের অভাবে মাটিতে জৈব পুষ্টি যুক্ত হয় না, এজন্য মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পেতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'P' অঞ্চলটি মরুভূমি, কারণ সেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫ সেন্টিমিটারের কম, প্রচণ্ড গরম ও পানির অভাব রয়েছে। এ অঞ্চলের উৎপাদকগুলো প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে নিম্নরূপ অভিযোজন দেখায়:
১. মূলের অভিযোজন: মরু উদ্ভিদের মূল বহু শাখা-প্রশাখাযুক্ত এবং মাটির সামান্য নিচে অবস্থিত। ফলে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও এরা দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে।
২. পাতার অভিযোজন: অল্প কিছু মরু উদ্ভিদের পাতা সুঁচের আকৃতির হয়। এতে প্রস্বেদনের হার কমে এবং পানির অপচয় রোধ হয়।
৩. কাণ্ডের অভিযোজন: ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ড রসালো। এই কাণ্ডে এরা পর্যাপ্ত পানি জমা রাখে এবং প্রয়োজনের সময় সেই পানি দিয়ে জৈবিক ক্রিয়া চালিয়ে যায়।
এভাবে অভিযোজনের মাধ্যমে 'P' অঞ্চলের উৎপাদকেরা শুষ্ক ও উষ্ণ পরিবেশে বেঁচে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'P' অঞ্চলটি মরুভূমির ইকোসিস্টেম এবং 'Q' অঞ্চলটি তৃণক্ষেত্রের ইকোসিস্টেম। উভয়ের খাদক ও বিয়োজকের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. খাদকের সংখ্যা: মরুভূমিতে উৎপাদকের সংখ্যা খুব কম বলে এদের ওপর নির্ভরশীল খাদকের সংখ্যাও কম। অপরদিকে তৃণক্ষেত্রে ঘাসের আধিক্যের কারণে গরু, ছাগল, হরিণ, শশকের মতো বহু তৃণভোজী প্রাণী বাস করে।
২. খাদকের ধরন: মরুভূমির খাদকের মধ্যে সরীসৃপ, কীটপতঙ্গ, নৈশ রোডেন্ট ও উট প্রধান; এরা গাছের কচি অংশ খেয়ে বাঁচে। তৃণক্ষেত্রে মুখ্য খাদক তৃণভোজী প্রাণী এবং গৌণ খাদক হলো শিয়াল, সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকি, পাখি ইত্যাদি মাংসাশী প্রাণী।
৩. বিয়োজকের সংখ্যা: মরুভূমিতে বিয়োজকের সংখ্যা খুবই অল্প। তৃণক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোমাইসেটিস এবং Mucor, Penicillium, Aspergillus, Rhizopus জাতীয় ছত্রাক প্রচুর পরিমাণে থাকে।
৪. বিয়োজনের ফল: মরুভূমিতে মৃতদেহ পচে হিউমাস তৈরি না হয়ে তাপে শুকিয়ে যায়, ফলে মাটি অনুর্বর থাকে। তৃণক্ষেত্রে বিয়োজকেরা মৃত উৎপাদক ও খাদকের জটিল জৈব পদার্থকে সরল পদার্থে পরিণত করে, ফলে খনিজ পদার্থ মাটিতে ফিরে এসে উৎপাদকের গ্রহণযোগ্য হয়।
সুতরাং খাদকের সংখ্যা ও বিয়োজকের কার্যকারিতায় তৃণক্ষেত্র মরুভূমির চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও