জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : বর্জ্য ও নিষ্কাশন
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
জিম প্রশিক্ষক রনি প্রতিদিন প্রচুর মাংস ও ডিম খায়। তার যকৃতে অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিড ভেঙে একটি বিষাক্ত যৌগ 'X' তৈরি হয়। 'X' যকৃতেই একটি চক্রের মাধ্যমে কম ক্ষতিকর যৌগ 'Y'-এ রূপান্তরিত হয়ে রক্তের মাধ্যমে বৃক্কে পৌঁছায়। ডাক্তার রনিকে নিয়মিত রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা করাতে পরামর্শ দিলেন।
- ক)(1)
ডিঅ্যামিনেশন কাকে বলে?
- খ)(2)
অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিড দেহে সঞ্চিত থাকতে পারে না কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'X' থেকে 'Y' সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
রনির রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার ডাক্তারি পরামর্শের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যকৃতে ডিঅ্যামিনেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে অব্যবহৃত ও অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিড থেকে অ্যামিনো মূলক (-NH₂) অপসারিত হয়ে কিটো এসিড সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ডিঅ্যামিনেশন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যামিনো এসিডের বৈশিষ্ট্য হলো দেহে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই ব্যবহৃত হতে পারে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিড কার্বোহাইড্রেট বা চর্বির মতো সঞ্চিত হয় না। তাই যকৃতে ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় এর অ্যামিনো মূলক আলাদা হয়ে যায়। কিটো এসিড শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, আর অ্যামিনো মূলক থেকে অ্যামোনিয়া তৈরি হয়ে শেষে রেচন পদার্থ হিসেবে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'X' হলো অ্যামোনিয়া (NH₃) এবং 'Y' হলো ইউরিয়া। এ রূপান্তর যকৃতে অরনিথিন চক্রের মাধ্যমে ঘটে। ধাপগুলো নিম্নরূপ:
১. আমিষ খাদ্য পরিপাকে অ্যামিনো এসিডে পরিণত হয়।
২. অতিরিক্ত অ্যামিনো এসিড ডিঅ্যামিনেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ডিঅ্যামিনেশনের মাধ্যমে কিটো এসিড ও অ্যামিনো মূলক (-NH₂) সৃষ্টি করে।
৩. অ্যামিনো মূলক H⁺-এর সাথে যুক্ত হয়ে অত্যন্ত বিষাক্ত অ্যামোনিয়া (NH₃) তৈরি করে।
৪. অ্যামোনিয়া CO₂-এর সাথে যুক্ত হয়ে অরনিথিন চক্রে অরনিথিন, সাইট্রুলিন ও আরজিনিন যৌগের মাধ্যমে ইউরিয়ায় পরিণত হয়।
সমীকরণ: 2NH₃ + CO₂ → CO(NH₂)₂ + H₂O
উৎপন্ন ইউরিয়া পানিতে দ্রবণীয় এবং কম ক্ষতিকর। এটি রক্তরসে মিশে সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে বৃক্কে পৌঁছায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ক্রিয়েটিনিন পেশিতে অবস্থিত ক্রিয়েটিন নামক অ্যামিনো এসিডের বিপাকের ফলে সৃষ্টি হওয়া একটি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য। ক্রিয়েটিনিন রক্তের মাধ্যমে বৃক্কে পৌঁছায় এবং গ্লোমেরুলাসে পরিশ্রুত হয়ে মূত্রের সাথে বেরিয়ে যায়। আবার নালিকা ক্ষরণের মাধ্যমেও কিছু ক্রিয়েটিনিন মূত্রে যুক্ত হয়।
যৌক্তিকতা:
১. বৃক্ক সুস্থ থাকলে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা স্থির থাকে (পুরুষে 0.6–1.2 mg/dl)। বৃক্কের কার্যকারিতা কমে গেলে ক্রিয়েটিনিন রক্তে জমে মাত্রা বাড়ে। তাই রক্তের ক্রিয়েটিনিন মাত্রা বৃক্কের রোগ নির্ণয়ের নির্দেশক বা diagnostic index হিসেবে ধরা হয়।
২. রনি জিমে ব্যায়াম করে বলে তার পেশির বিপাক বেশি এবং প্রচুর আমিষ গ্রহণের ফলে যকৃতে বেশি ইউরিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে বৃক্কের ওপর বর্জ্য নিষ্কাশনের চাপ বেড়ে যায়।
৩. বৃক্কের ক্ষতি প্রথম দিকে সহজে টের পাওয়া যায় না। নিয়মিত ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করলে ক্ষতির আভাস আগেই পাওয়া যাবে।সুতরাং রনির বৃক্ক সঠিকভাবে বর্জ্য নিষ্কাশন করছে কি না তা জানার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও