সহপাঠ • ১৯৭১
সহপাঠ প্রশ্ন
ড. সালমা আক্তার দেশে রসায়নে স্নাতকোত্তর শেষ করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। দেশে ফিরে তিনি কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে সার্বক্ষণিক লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। তিনি শিশুতোষ গল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি ও ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন এবং টিভি নাটকও নির্মাণ করেছেন। তাঁর বই বইমেলায় পাঠকের ভিড় জমায়।
- ক)(1)
হুমায়ূন আহমেদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
- খ)(2)
হুমায়ূন আহমেদের রচনার বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ড. সালমা আক্তারের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের জীবনের মিল ও অমিলের দিকটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকে সাহিত্যিক হিসেবে ড. সালমার যে পরিচয় পাওয়া যায়, তা হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্মের পূর্ণ পরিচয় নয়।'- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হুমায়ূন আহমেদ নেত্রকোনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর হুমায়ূন আহমেদের রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য সাবলীল গদ্যভঙ্গি, বহুমাত্রিক হাস্যরস এবং বিষয়গত বৈচিত্র্য। তিনি সত্তর ও আশির দশকের নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের চিত্র অঙ্কনে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি, শিশু-কিশোর সাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও আত্মজৈবনিক রচনাতেও তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর লেখায় একটি উদার ও ইতিবাচক জীবনদৃষ্টি লক্ষ করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিল: হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি করেছেন; ড. সালমাও রসায়নে স্নাতকোত্তর করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডেকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন; ড. সালমাও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং পরে অধ্যাপনা ছেড়ে সার্বক্ষণিক সাহিত্যচর্চায় মন দিয়েছেন (হুমায়ূন আহমেদ ১৯৯৬ সালে অবসর নেন)। দুজনেই নাটক নির্মাণ করেছেন।
অমিল: হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন শুরু হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান; উদ্দীপকে এ তথ্য নেই। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছেন এবং উপন্যাসে (বিশেষত নভেলায়) প্রসিদ্ধি পেয়েছেন, যা উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়নি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে ড. সালমা শিশুতোষ গল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি, ভ্রমণকাহিনি ও টিভি নাটক রচনা করেছেন। হুমায়ূন আহমেদও এসব ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছেন, তাই এ অংশে মিল আছে।
তবে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্ম আরও ব্যাপক। তিনি প্রধানত গল্প ও উপন্যাসে নাগরিক মধ্যবিত্ত জীবনের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন, যা উদ্দীপকে নেই। তাঁর সাফল্য এসেছে মূলত 'নন্দিত নরকে', 'শঙ্খনীল কারাগার', '১৯৭১'-এর মতো ছোট আকারের উপন্যাস বা নভেলায়। 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প', 'আগুনের পরশমণি', 'কবি'-র মতো তুলনামূলক বৃহৎ পটভূমির উপন্যাসও তিনি লিখেছেন। জনপ্রিয় চরিত্র হিমু, মিসির আলি ও শুভ্রকে নিয়ে তাঁর অসংখ্য কাহিনি আছে। তিনি আত্মজৈবনিক রচনা লিখেছেন এবং তাঁর লেখায় বহুমাত্রিক হাস্যরস ও ইতিবাচক জীবনদৃষ্টি লক্ষণীয়। এসবের কোনোটিই উদ্দীপকে ধরা পড়েনি।
সুতরাং উদ্দীপকের পরিচয় হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যকর্মের আংশিক প্রতিফলন মাত্র, পূর্ণ পরিচয় নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও