সাহিত্য পাঠ • কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

শীতের দুপুরে বুড়িগঙ্গার তীরে রোদে পিঠ দিয়ে বসে থাকেন বৃদ্ধ কালু মাঝি। চারপাশে নৌকার হাঁকডাক, কারখানার সাইরেন আর ফেরিওয়ালার চিৎকার, তবু তিনি নির্লিপ্ত, মাথা দুলিয়ে ঝিমোন। মাঝে মাঝে তাঁর মনে পড়ে যৌবনের পাল-তোলা নৌকা বাইচের দিনগুলো। তখন তিনি হঠাৎ সজাগ হয়ে ওঠেন।

  1. ক)

    ‘মাদল’ কী?

    (1)
  2. খ)

    “সংসারের অনেক ভেতরে শান্ত ধীর এবং নিরবিচ্ছিন্ন একটা স্রোত আছে।”—কপিলদাসের মনে এমন ভাবনার কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে গল্পের শুরুতে কপিলদাসের নির্লিপ্ততার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাদল এক ধরনের তালবাদ্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বার্ধক্যে পৌঁছে কপিলদাসের কাছে জীবনের সবকিছু একটার সঙ্গে আরেকটা মেলানো বলে মনে হয়। ঝগড়া, খুশি, জন্ম, মৃত্যু, আকাশ ও টাঙনের স্রোত—সবই শেষ পর্যন্ত এক জায়গায় গিয়ে মিলে যায়। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় সে উপলব্ধি করে যে উত্তেজনা ও চিৎকারের নিচে এক শান্ত স্রোত বয়ে চলে। টাঙনের শান্ত, কাঁপুনিহীন স্রোত তার এই ভাবনাকে আরও গভীর করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কালু মাঝি চারপাশের কোলাহল সত্ত্বেও নির্লিপ্ত থাকেন, মাঝে মাঝে যৌবনের স্মৃতিতে সজাগ হন। গল্পের শুরুতে কপিলদাসের নির্লিপ্ততাও একই রকম। চিনি কলের ট্রাকের গাঁ গাঁ শব্দ, ট্র্যাক্টরের একটানা ধক ধক, রাখালের বাঁশি, ঝগড়া ও বাচ্চাদের হইচই—কিছুই তাকে নাড়া দেয় না। সে শীতের রোদে পিঠ মেলে ঝিমোয়। এ নির্লিপ্ততা অবহেলা নয়, জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আসা এক গা-ছাড়া পরিতৃপ্ত ভাব। তবে সব সময় এ ভাব থাকে না। উদ্দীপকের মতোই তার মনে যৌবনের স্মৃতি ছবির পর ছবি সাজিয়ে আসে, পরবে মাদল নিয়ে নাচ, শিকার, মহাজনের ধান বিলিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। তখন সে সজাগ হয়ে সুখে সেসব স্মৃতিতে বিচরণ করে। অর্থাৎ বাইরের নির্লিপ্ততার নিচে স্মৃতির জাগরণ লুকিয়ে আছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ নামটি বিষয়বস্তুর আলোকে সার্থক ও তাৎপর্যবহ। নামকরণের কেন্দ্রে আছে কপিলদাসের জীবনের চূড়ান্ত কাজটি। উদ্দীপকে বৃদ্ধ কালু মাঝি নির্লিপ্ত থেকেও স্মৃতির টানে জেগে ওঠেন, কিন্তু সেখানে জীবনের কোনো চূড়ান্ত কাজ নেই। গল্পে কপিলদাস নির্লিপ্ত ও স্মৃতিনির্ভর বৃদ্ধ হিসেবে শুরু করলেও বসতভিটা উচ্ছেদের সংবাদে তার ভেতরে জাগরণ ঘটে। ছেলে ও সমাজের অবজ্ঞার পরও সে কাঁপা হাতে ধনুকে ছিলা পরায়, নিষেধ উপেক্ষা করে একের পর এক তির ছোড়ে এবং তৃতীয় তির ছোড়ার জন্য প্রস্তুত হয়। এই তির ছোড়া তার জীবনের শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যা তার জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষার প্রতীকী লড়াই। ‘শেষ’ শব্দটি একই সঙ্গে তার বার্ধক্য ও জীবনের শেষ প্রান্তকে নির্দেশ করে, আবার এই কাজ থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদও জাগে। সুতরাং গল্পের মূল ঘটনা ও ভাবকে ধারণ করায় নামকরণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও