সাহিত্য পাঠ • অর্ধাঙ্গী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

হারুন মাস্টার গ্রামের স্কুলে পড়ান। তিনি প্রায়ই ছাত্রদের বলেন, “কৃষক ধান ফলায়, তাঁতি কাপড় বোনে, ডাক্তার চিকিৎসা দেয়; একজন অন্যজনের ওপর নির্ভরশীল, কেউ কারও মনিব নয়।” অথচ বাড়িতে তিনি স্ত্রী শারীরিকভাবে দুর্বল বলে সব ব্যাপারে নিজের কর্তৃত্ব খাটান এবং নিজেকে সংসারের ‘প্রভু’ মনে করেন।

  1. ক)

    ‘কাদম্বিনী’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “তবে তরঙ্গিণী কাদম্বিনীর ‘স্বামী’, না কাদম্বিনী তরঙ্গিণীর ‘স্বামী’?”—লেখক কেন এ প্রশ্ন তুলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হারুন মাস্টারের বক্তব্যে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন যুক্তি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “হারুন মাস্টারের আচরণে তাঁর বক্তব্যের অসংগতি রয়েছে”—‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘কাদম্বিনী’ শব্দের অর্থ মেঘমালা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক দেখাতে চেয়েছেন, প্রকৃতিতে নদী ও মেঘ পরস্পরের সাহায্যপ্রার্থী। নদী বর্ষার জলে পুষ্ট হয়, আবার মেঘও নদীর জলে ধনী হয়। কেউ কারও প্রভু নয়। এই যুক্তিতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, নারী শারীরিকভাবে পুরুষের সাহায্যের ওপর নির্ভর করলেও পুরুষ তার ‘স্বামী’ বা প্রভু হতে পারে না। তাই তিনি এ প্রশ্ন তুলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হারুন মাস্টারের বক্তব্যে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার যুক্তি প্রতিফলিত হয়েছে। প্রবন্ধে রোকেয়া বলেছেন, জগতে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কাছে কোনো না কোনো সাহায্য প্রার্থনা করে। তরুলতা বৃষ্টির এবং মেঘ তরুর সাহায্য চায়; সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার ডাক্তারের এবং ডাক্তার ব্যারিস্টারের সাহায্যপ্রার্থী; কেউ সূত্রধর, কেউ তন্তুবায়। উদ্দীপকেও হারুন মাস্টার কৃষক, তাঁতি ও ডাক্তারের পারস্পরিক নির্ভরতার কথা বলেন এবং কাউকে মনিব বলে মানেন না। এভাবে উদ্দীপকে প্রবন্ধের এই যুক্তিটিই ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। হারুন মাস্টার মুখে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার কথা বললেও নিজের সংসারে সেই নীতি মানেন না। তিনি স্ত্রীর শারীরিক দুর্বলতাকে অজুহাত করে নিজেকে প্রভু মনে করেন।
    ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রোকেয়া স্বীকার করেছেন যে শারীরিক দুর্বলতার কারণে নারী পুরুষের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তিনি যুক্তি দিয়েছেন, তাই বলে পুরুষ ‘প্রভু’ হতে পারে না। কারণ ডাক্তার ও ব্যারিস্টারের মতো সবাই সবার কাছে সাহায্যপ্রার্থী, অথচ কেউ কাউকে স্বামী বলে না। তিনি আরও বলেছেন, কেবল শারীরিক বলের দোহাই দিয়ে পুরুষ যেন শ্রেষ্ঠত্বের দাবি না করে। উদ্দীপকের হারুন মাস্টার ঠিক এই ভুল করছেন। সমাজে যে যুক্তিতে তিনি কাউকে মনিব মানেন না, ঘরে সেই যুক্তি প্রয়োগ করেন না। ফলে তাঁর কথা ও কাজের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ আছে, যা রোকেয়ার সমালোচিত মনোভাবেরই প্রকাশ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও