জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্র তানভীরের গোঁফ-দাড়ি গজাতে শুরু করেছে এবং তার কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে গেছে। তার বড় বোন দশম শ্রেণির ছাত্রী সুমির মাসিক শুরু হয়েছে। সুমির ফুফাতো বোনের বয়স ১৬ বছর। পরিবার থেকে তার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। সুমি বিষয়টির বিরোধিতা করছে।
- ক)(1)
মেনোপজ কী?
- খ)(2)
বয়ঃসন্ধিকাল বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তানভীরের দেহে উল্লিখিত পরিবর্তনগুলোর জন্য দায়ী হরমোন ও তার উৎস গ্রন্থিটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সুমির ফুফাতো বোনের বিয়ের বিষয়ে সুমির বিরোধিতা কতটা যৌক্তিক? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাধারণত ৪০-৫০ বছর বয়সে মেয়েদের ঋতুস্রাব চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মেনোপজ বা রজনীনির্বৃত্তিকাল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কৈশোর এবং তারুণ্যের সন্ধিকালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। জন্মের সময় মানবশিশুর প্রজননতন্ত্র অপরিণত থাকে। বাল্যকাল পার হয়ে কৈশোরে পৌঁছালে হরমোনের প্রভাবে প্রজননতন্ত্রের অঙ্গগুলোর বৃদ্ধি ও বিকাশ শুরু হয়। এ সময় ছেলেমেয়েদের দৈহিক, মানসিক ও যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটে। এই পরিবর্তনের কালই বয়ঃসন্ধিকাল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীরের গোঁফ-দাড়ি গজানো ও কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া পুরুষের যৌনলক্ষণ। এসব লক্ষণ প্রকাশের জন্য প্রধানত দায়ী হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেন। এই হরমোনগুলো শুক্রাশয় (Testis) নামক অনালগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেন শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে এবং দাড়ি-গোঁফ গজানো, গলার স্বর পরিবর্তন, কাঁধ চওড়া হওয়া ইত্যাদি যৌনলক্ষণ প্রকাশে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া পিটুইটারি গ্রন্থির হরমোন জননগ্রন্থির বৃদ্ধি ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কিছু হরমোনও যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুমির ফুফাতো বোনের বয়স ১৬ বছর, যা মেয়েদের বিয়ের জন্য নির্ধারিত বয়সের (কমপক্ষে ২০ বছর) চেয়ে কম। তাই সুমির বিরোধিতা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শারীরিক অপরিপক্বতা: বয়ঃসন্ধিকালের ১-২ বছর পর মেয়েরা প্রজনন ক্ষমতা লাভ করে। ১৬ বছর বয়সে দেহ পূর্ণ পরিণত হয় না। এ বয়সে গর্ভধারণ করলে মা ও শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়।
২. মা ও সন্তানের ক্ষতি: বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ করে। এতে গর্ভবতী মা এবং সন্তান উভয়েরই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
৩. মানসিক প্রস্তুতি: এ বয়সে মানসিক পরিপক্বতা কম থাকে। ফলে পারিবারিক দায়িত্ব ও মাতৃত্বের চাপ সামলানো কঠিন হয়।
৪. হরমোনের ভারসাম্য: প্রজননতন্ত্র ও হরমোনের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার আগে গর্ভধারণ দেহে নানা অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করতে পারে।
অতএব, মা ও সন্তানের সুস্থতার স্বার্থে মেয়েদের ২০ বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়াই উচিত। সুমির বিরোধিতা তাই যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও