সাহিত্য পাঠ • সৌদামিনী মালো
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শিমুলতলী গ্রামের ব্যবসায়ী কালাম সাহেব ঈর্ষাবশত স্কুলশিক্ষক সুধীরবাবুর নামে রটিয়ে দিলেন যে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কথা বলেছেন। উত্তেজিত গ্রামবাসী তাঁকে একঘরে করল। কেউ কেউ তাঁর গরু-ছাগল সরিয়ে ফেলল, কেউ রাতের বেলায় তাঁর ঘরের সামনে হইচই করল। পরে অনুসন্ধানে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলেও ততদিনে সুধীরবাবু ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
- ক)(1)
‘ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির’ বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
“এবার তা সমাজগত ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল।”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের গ্রামবাসীর ভূমিকা ‘সোদামিনী মালো’ গল্পের ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের দলের সঙ্গে কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“সোদামিনীর করুণ পরিণতির জন্য মনোরঞ্জনের চেয়ে সমাজের ধর্মান্ধতাই বেশি দায়ী”—উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির’ বলতে ব্যঙ্গ অর্থে সত্যবাদিতার ভানকারী, অতিশয় মিথ্যাবাদী বা রটনাকারী ব্যক্তিকে বোঝায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মনোরঞ্জনের শত্রুতা আগে ছিল শুধু সোদামিনীর সঙ্গে ব্যক্তিগত। কিন্তু সে যখন রটিয়ে দিল যে সোদামিনীর পোষ্যপুত্র ব্রাহ্মণ সন্তান, তখন বিষয়টি সমাজের ধর্মীয় বিধানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াল। গ্রামের ব্রাহ্মণ-কায়স্থরা একে শাস্ত্রবিরুদ্ধ মনে করে ক্ষুব্ধ হলো। ফলে সোদামিনীকে সমাজের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হলো। এভাবে ব্যক্তিগত বিরোধ ধর্ম ও সামাজিক বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে পুরো সমাজের মাথাব্যথা হয়ে উঠল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গ্রামবাসীর ভূমিকা গল্পের ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের দলের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পে মনোরঞ্জনের রটনায় বিভ্রান্ত হয়ে গ্রামের একদল মানুষ সোদামিনীকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করে। তারা বারোয়ারি খরচে সোদামিনীর আত্মীয়ের বাড়ি পর্যন্ত খোঁজ নিতে লোক পাঠায়, তার ছাগল ও দুধেল গাই সরিয়ে ফেলে এবং শেষে বাড়িতে হামলা করে। উদ্দীপকেও গ্রামবাসী যাচাই না করে একজনের রটনা বিশ্বাস করে সুধীরবাবুকে একঘরে করে এবং তাঁর গরু-ছাগল সরিয়ে ফেলে। দুই ক্ষেত্রেই ধর্মের নামে উত্তেজিত মানুষ সত্য না জেনে একজন নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। তাই তাদের ভূমিকা অভিন্ন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমার মতে উক্তিটি যথার্থ, কেননা মনোরঞ্জন কেবল আগুন জ্বালিয়েছে; তাতে ঘি ঢেলেছে সমাজের ধর্মান্ধতা। গল্পে মনোরঞ্জন সম্পত্তির লোভে সোদামিনীর পোষ্যপুত্রকে ব্রাহ্মণ সন্তান বলে প্রচার করে। এই মিথ্যা প্রচারেই ব্যক্তিগত শত্রুতা সামাজিক ও ধর্মীয় রূপ নেয়। কিন্তু গ্রামের ব্রাহ্মণ-কায়স্থরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, সোদামিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় এবং নানা নির্যাতন চালায়। সত্য প্রকাশের পরও কেউ তার মানবিকতাকে স্বীকার করেনি; বরং হরিদাস মুসলমান জেনে সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়। এই সামাজিক চাপেই সোদামিনী ধর্মত্যাগ করে খ্রিষ্টান হয় এবং সম্পত্তি মিশনের নামে লিখে দেয়। হরিদাসও সত্য জেনে নিরুদ্দেশ হয়। উদ্দীপকেও কালামের মিথ্যা রটনায় গ্রামবাসী একজোট হয়ে সুধীরবাবুকে উচ্ছেদ করে, পরে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও ক্ষতি আর পূরণ হয় না। মনোরঞ্জন বা কালামের মতো লোভী মানুষ সমাজে থাকেই, কিন্তু সমাজ যদি বিবেক ও যাচাইয়ের বদলে গুজব ও ধর্মান্ধতায় চালিত না হতো তাহলে এই ট্র্যাজেডি ঘটত না। তাই মনোরঞ্জন দোষী হলেও সমাজের দায় অধিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও