ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' ও 'খ' দুটি পাশাপাশি অঞ্চল, মাঝখান দিয়ে একটি প্রশস্ত নদী বয়ে গেছে। 'ক' অঞ্চলের রেলপথে দুই পাতের মধ্যবর্তী ব্যবধান ১ মিটার এবং 'খ' অঞ্চলের রেলপথে ব্যবধান ১.৬৮ মিটার। নদীর ওপর সেতু না থাকায় এক অঞ্চলের ট্রেন অন্য অঞ্চলে যেতে পারত না। পরে নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ রেলপথে তৃতীয় একটি পাত যোগ করে।
- ক)(1)
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম রেলপথ নির্মিত হয়?
- খ)(2)
যমুনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে একসময় সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে তৃতীয় পাত যোগ করার ফলে কোন ধরনের রেলপথ তৈরি হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলাদেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে কী পরিবর্তন এনেছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে ১৮৬২ সালে ব্রিটিশ আমলে ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের ব্যবস্থাপনায় চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত প্রথম রেলপথ নির্মিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যমুনা নদীর পশ্চিমাংশে ব্রডগেজ এবং পূর্বাংশে মিটারগেজ রেলপথ ছিল। দুই রেলপথের পাতের ব্যবধান ভিন্ন হওয়ায় এক রেলপথের গাড়ি অন্য রেলপথে চলাচল করতে পারত না। তাছাড়া যমুনা নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় দুই অংশ বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে ঢাকার সাথে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর প্রভৃতি শহরের সরাসরি রেল যোগাযোগ সম্ভব হতো না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে তৃতীয় পাত যোগ করার ফলে ডুয়েলগেজ রেলপথ তৈরি হয়েছে। ডুয়েলগেজ হলো এমন রেলপথ, যেখানে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ রেলপথের দুই পাতের সাথে তৃতীয় একটি পাত যোগ করে দুই ধরনের গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হয়। উদ্দীপকে 'ক' অঞ্চলে ১ মিটার ব্যবধানের মিটারগেজ এবং 'খ' অঞ্চলে ১.৬৮ মিটার ব্যবধানের ব্রডগেজ রেলপথ রয়েছে। সেতু নির্মাণের পর দুই অঞ্চলের রেলপথের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য তৃতীয় পাত যোগ করা হয়েছে। এর ফলে এখন একই লাইনে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ উভয় ধরনের রেলগাড়ি চলাচল করতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের রেলপথটি ডুয়েলগেজ রেলপথের ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনা বাংলাদেশে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ এবং ডুয়েলগেজ রেলপথ স্থাপনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ফলে দেশের রেল যোগাযোগে নিচের পরিবর্তনগুলো এসেছে। ১. যোগাযোগের প্রধান বাধা অপসারণ: যমুনা নদী ছিল পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগের প্রধান বাধা। সেতু নির্মিত হওয়ায় সেই বাধা দূর হয়েছে। ২. সরাসরি রেল যোগাযোগ: আগে ঢাকার সাথে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুরের সরাসরি রেল যোগাযোগ ছিল না। এখন এসব শহরের সাথে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ৩. দুই ধরনের গাড়ির চলাচল: তৃতীয় পাত যোগ করার ফলে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ উভয় গাড়ি একই পথে চলতে পারছে, ফলে নতুন করে সম্পূর্ণ আলাদা লাইন তৈরির ব্যয় বেঁচেছে। ৪. অর্থনৈতিক সুফল: উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্য কম সময়ে ও কম খরচে রাজধানী ও বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে এবং যাত্রীদের যাতায়াতও সহজ হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৩৩ কি.মি ডুয়েলগেজ রেলপথ রয়েছে এবং তা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, সেতু ও ডুয়েলগেজ ব্যবস্থা দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকে রেলপথে যুক্ত করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও