বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
দশম শ্রেণির ছাত্র তামিম ২২শে ডিসেম্বর ঢাকায় প্রচণ্ড শীত অনুভব করছিল। সেদিন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত তার মামা ফোনে জানালেন, সেখানে প্রচণ্ড গরম এবং সবাই সমুদ্রসৈকতে ছুটি কাটাচ্ছে। তামিম বই পড়ে জানতে পারে, ১লা থেকে ৩রা জানুয়ারি পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে। সে ভাবতে থাকে, সূর্যের কাছে থাকলেই বুঝি গরম পড়ে।
- ক)(1)
দক্ষিণ অয়নান্ত কাকে বলে?
- খ)(2)
লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মি ভূপৃষ্ঠকে অধিক উত্তপ্ত করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
২২শে ডিসেম্বর সিডনিতে গ্রীষ্মকাল এবং ঢাকায় শীতকাল বিরাজ করার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তামিমের ধারণা কি সঠিক? ঋতু পরিবর্তনের কারণসমূহের আলোকে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ২২শে ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তির ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এরপর সূর্য আর দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে না, উত্তর গোলার্ধের দিকে সরতে থাকে। সূর্যের এই অবস্থানকে দক্ষিণ অয়নান্ত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মি তুলনামূলক কম বায়ুস্তর ভেদ করে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়, ফলে তাপের ক্ষয় কম হয়। এছাড়া এ রশ্মি কম স্থানের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। কিন্তু তির্যকভাবে পতিত রশ্মি অধিক বায়ুস্তর ভেদ করে আসে এবং বেশি স্থানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই লম্বরশ্মি পাওয়া স্থান অধিক উত্তপ্ত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ২২শে ডিসেম্বর পৃথিবী কক্ষপথের এমন এক অবস্থানে পৌঁছে যেখানে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি (২৩.৫°) হেলে থাকে। এ দিন সূর্যকিরণ মকরক্রান্তিতে লম্বভাবে পড়ে। সিডনি দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে সূর্যরশ্মি প্রায় লম্বভাবে পড়ে, দিন বড় ও রাত ছোট হয়। ফলে সেখানে তাপ বেশি পাওয়া যায় এবং এ সময়ের দেড় মাস আগে-পরে তিন মাস গ্রীষ্মকাল থাকে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। উত্তর মেরু তখন সূর্য থেকে দূরে সরে থাকে, ফলে সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং দিন ছোট ও রাত বড় হয়। তাই উত্তর গোলার্ধে এ সময় শীতকাল বিরাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তামিমের ধারণা সঠিক নয়।
উদ্দীপক অনুযায়ী জানুয়ারির ১ থেকে ৩ তারিখে পৃথিবী সূর্যের নিকটতম অবস্থানে (অনুসূর) থাকে। অথচ তখন ঢাকাসহ উত্তর গোলার্ধে শীতকাল চলে। আবার জুলাইয়ের ১ থেকে ৪ তারিখে পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে (অপসূর) থাকে, তখন উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল। যদি সূর্যের কাছে থাকাই গরমের একমাত্র কারণ হতো, তবে অনুসূরের সময় উত্তর গোলার্ধেও গরম থাকত। সুতরাং শুধু দূরত্ব ঋতুর মূল কারণ নয়।
ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ পৃথিবীর বার্ষিক গতি এবং সূর্যকে পরিক্রমণের সময় পৃথিবীর অক্ষ সবসময় একই কোণে হেলে থাকা। এর ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে, কোথাও তির্যকভাবে পড়ে এবং দিন-রাতের দৈর্ঘ্যও বদলায়। যেখানে রশ্মি লম্ব ও দিন বড়, সেখানে বেশি তাপ পাওয়া যায় এবং ঋতু পরিবর্তন ঘটে।
তবে কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় সূর্যের দূরত্বের তারতম্যও সূর্যতাপের পরিমাণে সামান্য প্রভাব ফেলে, যা ঋতু পরিবর্তনে সহায়ক। কিন্তু প্রধান ভূমিকা হেলে থাকা অক্ষ ও বার্ষিক গতির, তাই তামিমের ধারণা আংশিক মাত্র, পূর্ণাঙ্গ সঠিক নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও